1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
'অপারেশন সার্চলাইট' - মুক্তকথা
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

‘অপারেশন সার্চলাইট’

মতিয়ার চৌধুরী
  • প্রকাশকাল : সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩
  • ৯৭৬ পড়া হয়েছে

[শেষ পর্ব-৪]

রাত সাড়ে বারটার কিছু পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে তার বাসভবনেই অবস্থান করতে থাকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তার ব্যারিকেড সরিয়ে কর্নেল জহিরের নেতৃত্বে একটি কমান্ডো পাটুন বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরই মধ্যে ক্যাপ্টেন হুমায়ুন বঙ্গবন্ধু ভবনের দেয়ালের চারদিকে অবস্থান গ্রহণ করে। মেজর বিলাল বঙ্গবন্ধু ভবনের দোতলার একটি বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।

তারা বঙ্গবন্ধুকে বন্দি অবস্থায় ট্যাংক-কামানসহ কড়া পাহারায় শেরেবাংলা নগরের সামরিক সদর দফতরে নিয়ে যায়। পরে তাকে নেয়া হয় ক্যান্টনমেন্টের সেনাবাহিনীর অফিসার্স মেসে। টিক্কা খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকেই পরদিন নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে।
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাঃ
২৫মার্চ দিবাগত রাত তথা ২৬মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। এ ঘোষনাটি ইপিআর-এর নিকট পৌঁছানো হয় এবং তা ইপিআর বেতারের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার করা হয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষনের কপি এবং বিভিন্ন জনসভায় দেয়া চারটি অডিও ভাষন থেকে এরকমই তথ্য পাওয়া যায়। সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষনাটি নিম্নরুপ।

“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.
Sheikh Mujibur Rahman
26th March 1971”
Wireless  Transmission
A Jalal Ahmed Chittagong
Manik Chowdhury Sylhet (Habiganj)
OC Abdul Hamid Pabna
Pakistan Posts & Telegrapg s Dept Kushtia
Others Later on

বঙ্গবন্ধুর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণাটি চট্টগ্রামে নোঙর করা একটি বিদেশী জাহাজের সেটেও ধরা পড়ে। শুনতে পান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখার প্রধান মেজর সিদ্দিক সালিকও। এছাড়া এবার্তাটি আরো কয়েকজন পেয়েছেন তারা হলেন ১. এ জালাল আহমেদ চট্রগ্রাম,২. মানিক চৌধুরী(হবিগঞ্জ) সিলেট- এখানে মানিক চৌধুরী বলতে হবিগঞ্জের কমান্ডেড মানিক চৌধুরী, ৩.পাবনার ওসি আব্দুল হামি, ৪ পাকিস্তান পোষ্ট এন্ড টেলিগ্রাপ ডিপার্টমেন্ট কোষ্টিয়া, ৫. পরবর্তিতে আরো কয়েকজন।

ওয়্যারলেস বার্তাটি চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জহুর আহম্মেদ চৌধুরী পেয়ে রাতেই তা সাইক্লোস্টাইল করে বিলির ব্যবস্থা করেন। পরদিন অর্থাৎ ২৬ মার্চ দুপুরে এ বার্তাটিই কালুরঘাট বেতার থেকে সর্বপ্রথম পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান। তারপর বারবার ঘোষণাটি পড়ে শোনান অধ্যাপক আবুল কাশেম সন্দ্বীপ। বিকেলে আবার পাঠ করেন আবুল কাশেম স্বন্দীপ এর পর আরো কয়েকজন। ২৭মার্চ মেজর জিয়াকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার এ ঘোষণাটি পাঠ করানোর জন্য তাকে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তৎকালীন চট্টগ্রামের বেতার কর্মী বেলাল মোহাম্মদ, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম সন্দ্বীপ।

২৭ মার্চ বিকেলে কালুরঘাট বেতার থেকে মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন। তা হলোঃ আমি মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করছি । জয় বাংলা। জিয়াউর রহমানের পর ঐদিন বিকেলে ঘোষনাটি আরো কয়েকজনে পাঠ করেন। ঢাকা শহরসহ গোটা দেশেই শুরু হয়ে যায় প্রতিরোধ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

এখানে উল্লেখ্য যে মেজর জিয়া জাতির পিতার পক্ষে স্বাধীনতার যে ঘোষনাটি পাঠ করেন ‘‘ তিনি পরিস্কার করে বলেছেন আমি মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করছি। জিয়া জীবিতাবস্থায় কোনদিনই দাবী করেননি যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। এ বিষয়ে তিনি পরিবর্তিতে তার একটি লিখায় উল্লেখ করেছেন কিভাবে তিনি জাতির জনকের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেন।

আর মেজর জিয়াকে দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষনাটি পাঠ করানোর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণও ছিল যেহেতু দেশব্যাপী প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, মানুষের মনবল যাতে অটুট থাকে একারণেই একজন আর্মি অফিসারকে দিয়ে ঘোষনাটি পাঠকরানোর ব্যবস্থা করেন বেতার কর্মিরা। ঘোষনা দেয়া আর পাঠ করা একই জিনিষ নয়।
এবিষয়ে পরবর্তিতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তা বেলাল মোহাম্মদ দেশস্বাধীনের পর সিলেট বেতারে বদলি হয়ে আসেন, তিনি সিলেট বেতারে কাজ করার সময় সিলেট বেতারে আমার পোগ্রাম করার সুবাদে তার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ হয় এ বিষয়ে বেলাল মোহাম্মদের সাথে আমার কথা হয়, জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে যে কথা গুলো বলেছেন তা হলো, মেজর জিয়া প্রথমে আসতে চাননি পরে তাদের অনুরোধে তিনি ঘোষনাটি পাঠ করেন।

২৫ মার্চ মধ্য রাত থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঘোষনা অনুযায়ী দেশব্যাপী প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ঘোষনা দেন পরদিন বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন।

এছাড়া আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন এবং তিনি মুক্ত আছেন। এখানে এর আরেকটি কারণও ছিল যাতে মানুষের মনবল না ভাঙ্গে একারণেই আকাশবাণী থেকে এমনটি প্রচার করা হয়। অন্য দিকে পাকিস্তান রেডিও থেকে প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মতিয়ার চৌধুরী

১০ই এপ্রিলের প্রবাসী সরকারের ঘোষনা পত্রে এবিষয়ে পরিস্কার ভাবে উল্লেখ রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গন্ধু স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন। জেনারেল এম এজি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান করে গঠিত হয় মুক্তি ফোর্স, জিয়া ছিলেন সেক্টর কমান্ডার, আর একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে তিনি প্রবাসী সরকার থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা নিয়েছেন। এছাড়া এখানে আরেকটি কথা পরিস্কার করা দরকার অবিংসবাদিত নেতা ছাড়া কেউ স্বাধীনতা ঘোষনা দিতে পারেনা, জাতির পিতা ছিলেন অবিংসবাদিত নেতা আর তিনিই স্বাধীনতার ঘোষনা দেন।

প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণেই পরোক্ষ ভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন ‘‘ এবারে সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে রুখে দাড়াও শত্রুর মোকাবেলা কর।

এর অন্যতম কারণ ছিল সাত তারিখ তিনি প্রকাশ্যে পরিস্কার করে ঘোষনা দিলে রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে যেতেন আর এ কারণে বঙ্গবন্ধু কৌশল অবলম্বন করেছেন মাত্র। ৭ তারিখের বঙ্গবন্ধুর ভাষনের পর থেকে দেশব্যাপী মানুষ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি নিতে থাকে, গ্রামে গঞ্জে শুরু হয় ট্রেনিং সমগ্র দেশে সাধারন মানুষ লাঠি সোটা নিয়েই পাকবাহিনীকে প্রতিহত করেছে এটিই সত্য। জিয়াউর রহমান যদি স্বাধীনতার ঘোষকই হতেন তাহলে তিনি মুক্তিবাহিনীর প্রধান হলেন না কেন? মেজর জিয়া যদি স্বাধীনতা ঘোষক হতেন তালে স্বাধীনতা বিদস হত ২৭ মার্চ? এবিষয়টি নিয়ে একটু ভাবলেই এই উত্তর পরিস্কার হয়ে যায়।

এছাড়া কালুরঘাট বেতার থেকে মেজর জিয়া জাতির পিতার পক্ষে যে ঘোষনাটি পাঠ করেছিলেন তার বিস্তৃতি ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার এর বাইরে কেউ তা শুনতে পায়নি। সুতরাং স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে আর বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়। এছাড়া জিয়াউর রহমানের পূর্বে যারা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করেছিলেন তাদের কেউতো ঘোষক দাবী করেননি। জিয়াউর রহমানও তার জীববদ্দশায় এটি দাবী করেননি, জিয়ার মৃত্যুর পর কেন এই প্রশ্ন উঠে আসল। আমাদের পরিস্কার করে বুঝতে হবে এর নেপথ্যে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি।

১৯৭৫ এর পট পরিবর্তন ও ইতিহাস বিকৃতি

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধীরা প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পায়, শুরু হয় ইতিহাস বিকৃতি। স্বাধীনতা বিরোধীরা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি‘র কাঁধে বন্দুক রেখে অত্যন্ত সুকৌশলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করছে। মুক্তিযুদ্ধের পরজিত শত্রুরা জিয়াকে বানিয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক ওসমানীকে বানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ন, জেনারেল ওসমানী ছিলেন মুক্তিবাহিনীর প্রধান বা প্রধান সেনাপতি, আর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জিয়া এবং জেনারেল ওসমানী জীবিতাবস্থায় কোনদিনই দাবী করেননি সর্বাধিনায়ক বা ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ধরে রাখতে হলে আমাদের সকলকে এসব অপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক
স্বীকৃতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গঃ

বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের ধারাবাহিকতা এবং পাকিস্তানের সাথে অমিমাংসিত কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ২৫শে মার্চ থেকে শুরু করে পাকবাহিনী কর্তৃক নয় মাস ব্যাপী নারকীয় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি দাবী জানিয়ে আসছে, যৌক্তিক এদাবিটি বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে আন্তর্জাতিক ভাবে লবিং জোরদার করতে হবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশের শীর্ষ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার হলেও মানবতা বিরুধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দু‘জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী এখনও পালিয়ে রয়েছে। এদের একজন চৌধুরী মইনুদ্দিন অন্যজন আশরাফুজ্জামান, আফরাফুজ্জামান আমেরিকায় ও চৌধুরী মইনুদ্দিন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে প্রকাশ্যে দেশ বিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এই দুই যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাসির রায় কার্যকর করা হলে ৩০লক্ষ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এব্যাপারে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে, সেই সাথে এদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সাজা কার্যকর করতে বৃটেন এবং আমেরিকায় বসবাসরত প্রতিটি প্রবাসী বাঙ্গালীকে এগিয়ে অসতে হবে।

এছাড়া পাকিস্তান আর্মির চিহ্নিত ১৯৫জন সেনা অফিসার যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল পাকিস্তান এদের বিচার করার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি সেই চিহ্নিত ১৯৫ জন ঘাতককে বাংলাদেশের কাছে বিচারের জন্যে হস্তান্তর করতে, পাকিস্তানের কাছে পাওনা আমাদের ন্যায্য হিস্যা, এবং যুদ্ধকালীন সময়ের ক্ষতিপূরন ও বাংলাদেশে আটকে পড়া ৩০লাখ পাকিস্তানী নাগরিককে এখনও পাকিস্তান ফেরত নেয়নি এসব কয়েকটি বিষয় অমিমাংসিতই রয়েই গেছে।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে দাবী উত্থাপিত হলেও স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এর কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বিশ্বের অনেক দেশেই গণহত্যা হয়েছে এর বিচারও হয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আজপর্যন্ত বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা পাইনি, এটি আমাদের ব্যর্থতা। রুয়ান্ডা আর্মেনিয়া সহ বহুদেশ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। নয়মাস ব্যাপী বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা আদায় করতে পারিনি। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি আওয়াজ তুললে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবী জানিয়ে একটি প্রস্থাব পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সরকারকে আরো বলিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। শহীদ জননী জাহানারা ঈমাম তার জীবদ্দশায় ২৫শে মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষনার দাবী জানিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর এনিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্থাব পাশ হয়। ২০১৫ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ১৯৪৮ সালের কনভেশন অনুযায়ী ৯ইডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়। আমাদের দাবী নয়মাস ব্যাপী বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

[লেখকঃ যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক- সভাপতি ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সিনিয়র সহসভাপতি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য সাপ্টার ও সভাপতি যুদ্ধাপরাধ বিচারমঞ্চ ইউকে এন্ড আয়ারল্যান্ড।]
এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT