1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
আমরা যাদের নিয়ে গর্ব করি - মুক্তকথা
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

আমরা যাদের নিয়ে গর্ব করি

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৬
  • ১০৬১ পড়া হয়েছে

220px-A_k_fazlul_hoqueহারুনূর রশীদ

নিরবে চলে গেল ২৬শে অক্টোবর। ১৮৭৩ সালের এই দিনে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। খাঁটী বাঙ্গালী রাজনীতিক। আইনের মানুষ হয়েও হেঁটেছেন মূলতঃ রাজনীতির অলি-গলিতে। লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিরামহীন ছিল তার সে হাঁটা। অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন অনেক সন্মানজনক পদে। আইন ব্যবসার মধ্যদিয়েই কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল। সেই ব্যবসার শুরু ছিল আজ থেকে ১১৬বছর আগে।

বলছিলাম আবুল কাশেম ফজলুল হক এর কথা। তাঁর জন্ম ছিল ১৮৭৩ সালের ২৬শে অক্টোবর। আর মৃত্যু হয়েছিল ২৭শে এপ্রিল ১৯৬২ সালে। ছিলেন বনেদী পরিবারের সুশিক্ষিত মানুষ। সাধারণতঃ এসকল পরিবারের মানুষ যে চরিত্রের হয় তিনি ছিলেন তার অনেকটাই বিপরীত। আমৃত্যু কাজ করেছেন সমাজের বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে। তিনি যখন এম এ পাশ করেন তখন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ইংরাজী শিক্ষার চল ছিল না বল্লেই সঠিক হয়। নিরীহ সাধারণ মানুষের জন্য তার সেই কল্যাণীয়া কাজের প্রতিদান হিসাবে মানুষের কাছ থেকে পেয়েছিলেন উপাধির উপহার ‘শের-এ-বাংলা’। অর্থ সকলেই আমরা জানি যে ‘বাংলার বাঘ’। বাঙ্গালীর স্বার্থের প্রশ্নে বিজাতী বা বিদেশীদের সামনে তিনি ঠিকই বাঘ ছিলেন। সুশিক্ষিত আইনী সমাজে তিনি ছিলেন সকলের শ্রদ্ধেয় ‘হক সাহেব’।

sher-e-bangla

কবিগুরুর সাথে ফজলুল হক

রাজনীতির সোপানে চড়তে গিয়ে প্রথমেই অলংকৃত করেন কলকাতার মেয়রের পদ। সেটি ছিল ১৯৩৫ সাল। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়ে কাজ করেছেন ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত। এ সময়ই ঐতিহাসিক দায়ীত্ব পালন করেন,   এর পর ১৯৫৪ সালে হয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৫ সালে হয়েছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। এর পর ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ আয়ূবের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত  পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের দায়ীত্ব পালন করেন। ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট গঠনের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম কারিগর।

ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব বিষয়ে কে না জানেন। এই লাহোর প্রস্তাবের মাঝেই ছিল আমাদের স্বাধীনতার কথা। ৪ দফা ওই প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল- “স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের’ সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশসমূহ হবে স্বায়ত্বশাসিত ও সার্বভৌম।
চতুর্থতঃ এ সমস্ত অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থরক্ষার জন্য তাদের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে সংবিধানের কার্যকর ও বাধ্যতামূলক বিধান রাখতে হবে।…” আর এই প্রস্তাবনার উপস্থাপক ছিলেন, আমাদের স্মরণ থেকে অনেক অনেক দূরে সরে যাওয়া মানবেতৈষী এই এ. কে. ফজলুল হক (শের-ই-বাংলা)।

untitled-1_5251

বঙ্গবন্ধু ও ফজলুল হক

মহামতি এই মানুষের আদিপুরুষ ঠিক কতসালের কোন দিনে বঙ্গে এসে বসবাস শুরু করেন তা আমাদের খোঁজায় উঠে আসেনি। তার আদি পুরুষের সুদীর্ঘ কোন তালিকা পাওয়া না গেলেও  চার পুরুষ পর্যন্ত সময়ের একটি ঠিকুজি খোঁজে পাওয়া গেছে। যা,  উইকিপিডিয়া লিখেছে- আঠার শতকে ভারতের ভাগলপুর হতে এসে এক বংশের কিছু লোক পুটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বিলবিলাস গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। এ বংশের কাজী মুর্তজা একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। এই কাজী মুর্তজার পুত্র কাজী মুহম্মদ আমিন আর কাজী মুহম্মদ আমিনের পুত্র মুহম্মদ আকরাম আলী। আকরাম আলী বরিশাল কোর্টে আইন ব্যবসা করতেন। এই আকরাম আলীর দুই পুত্র ও পাঁচ কন্যা ছিলেন। পুত্রগন হলেন কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ, কাজী আবদুল কাদের। কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ ১৮৪৩ সালে চাখারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে লেখাপড়া করেন। বাংলার মুসলমানদের মধ্যে তিনি ষষ্ঠ গ্রাজুয়েট ছিলেন। ১৮৭১ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি বি. এল. পাশ করে আইন ব্যবসা শুরু করেন। মুহম্মদ ওয়াজেদ রাজাপুর থানার সাতুরিয়া মিয়া বাড়ির আহমদ আলী মিয়ার কন্যা বেগম সৈয়দুন্নেছাকে (ফজলুল হকের মা) বিয়ে করেন। মুহম্মদ ওয়াজেদ ১৯০১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বরিশালে মৃত্যুবরণ করেন।  এ. কে. ফজলুক হক ছিলেন, মহামতি এই কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদের একমাত্র পুত্র। যাঁকে সাধারণ মানুষ উপাধি দিয়েছিল শের-ই-বাংলা।

মেধাবী ফজলুল হক ছিলেন প্রকৃতির আশীর্বাদে ধন্য এক ক্ষনজন্মা মানুষ। জীবনের বলতে গেলে শুরুতেই ১৮৮৬ সালে অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তিলাভ করেন আর ১৮৮৯ সালে ঢাকা বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ.এ. পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন ১৮৯১ সালে। ১৮৯৩ সালে তিনি তিনটি বিষয়ে অনার্সসহ প্রথম শ্রেণীতে বি.এ. পাশ করেন।

বি.এ. পাশ করার পর এম.এ. ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলেন ইংরেজি ভাষা নিয়ে। এ সময়ে তার জীবনের মজার এক ছোট্ট কাহিনী আছে। পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে তাকে এক বন্ধু ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন যে, মুসলমান ছাত্ররা অঙ্ক নিয়ে পড়ে না, কারণ তারা মেধাবী নয়। এই কথা শুনে এ. কে. ফজলুক হকের জিদ চড়ে যায়। তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, অঙ্কশাস্ত্রেই পরীক্ষা দেবেন। এরপর, মাত্র ছয় মাস অঙ্ক পড়েই তিনি প্রথম শ্রেণী লাভ করেছিলেন।

মানবদরদী মহামতি সেই মানুষটির জন্মদিন খুবই নিরস নীরবে চলে গেল অনেকটা আমাদের অগোচরেই। ঘটা করে তেমন কিছু হয়নি যা হওয়া আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড়ই প্রয়োজন ছিল।

লন্ডন, বৃহস্পতিবার
২৪শে কার্তিক ১৪২৩
১০ই নভেম্বর ২০১৬

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT