1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
ইমাম হত্যায় সাহায্যকারী এক মুসলমান ছাত্র ? - মুক্তকথা
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

ইমাম হত্যায় সাহায্যকারী এক মুসলমান ছাত্র ?

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৪৮১ পড়া হয়েছে
ইমাম জালাল উদ্দীন

নিহত ইমাম জালাল উদ্দীন

ইমাম জালাল উদ্দীন হত্যা : একজন ইমামকে হত্যা করতে সাহায্য করল এক মুসলমান ছাত্র?
কিন্তু কেন মোহাম্মদ হোসেন নামের ২১ বছরের ওই ছাত্র আর তার সহযোগী একজন কোরাণ শিক্ষক জালাল উদ্দীনকে হত্যার লক্ষ্য হিসেবে বেচে নিল?

মুক্তকথা: শনিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৬।।  গ্রেটার ম্যানচেষ্টারের ইমাম হত্যার অদ্ভুত উদ্ভট পরিকল্পনায় তথাকথিত ‘ইসলামী স্টেট’ এর সমর্থক বলে কথিত এক মুসলমান ছাত্রকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে।

গেল ১৮ই ফেব্রুয়ারী রাতে, রসডেলের জালালিয়া মসজিদে রাতের নামাজ শেষে জালাল উদ্দীন তার এক বন্ধুর ঘরে রাতের খাবার খান। খাবার শেষে ৭১ বছরের ওই বৃদ্ধ মানুষটি একটি পার্কের ভেতর দিয়ে তার ঘরের উদ্দেশ্যে যখন যাচ্ছিলেন তখনই তাকে খুনীরা অনুসরণ করে এবং কিছুক্ষন পরেই তার মুখে মুগুর দিয়ে আঘাত করে। আক্রমনের হিংস্রতা এমনই ছিল যে আঘাতে তার কপাল মাথার ভেতরে ঢুকে যায় এবং দাঁতের পাটি ভেঙ্গে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।

একদিন পর অভিযুক্ত তার আক্রমণকারী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির পালিয়ে তুর্কিতে চলে যায়। সম্ভবতঃ সে সিরিয়া চলে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তার এই দুষ্কর্মের সহযোগী হিসেবে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করেছে এক ছাত্র মোহাম্মদ হোসেন সাইদি। এই খুনে সে ও শরিক আছে বলে জুরিগন সাব্যস্ত করেছেন।
তা হলে, সমাজে সুপরিচিত শান্ত আর সন্মানিত একজন “আধ্যাত্মিক কবিরাজ”কে খুন করার পেছনের কারণ বা উদ্দেশ্য কি হতে পারে, এমন প্রশ্ন এনেছেন বিবিসি। আর এর সঠিক উত্তর হল- ধর্ম। একটি বিশেষ “আধ্যাত্মিক কবিরাজী” বিষয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য আছে যা বেশ কিছু মুসলমানের কাছে গ্রহনযোগ্য আবার কিছু সংখ্যকের কাছে “ভুত পেত্নি”র কারবার বা “ব্লেকমেজিক”।

এক্জিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী শিক্ষার অধ্যাপক রবার্ট গ্লিভ বলেন, “মেজিক” বিষয়টি ইসলামে বিতর্কিত। অনেকেই বিশ্বাস করেন তাবিজ-কবজে, যাদুমন্ত্রগুণে। এর মাধ্যমে শয়তান-ভুতপ্রেত দূর হয় ফলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, ইহা একটি ভাল দিক এবং সমাজে এক ধরনের সেবাদান। অন্যরা আবার মনে করেন মেজিক মানেই আধ্যাত্মিকতাকে ব্যবহার করে ক্ষতিকর কাজ করা।

mohammed hussain syeedy

হত্যায় সহযোগীতাকারী মোহাম্মদ হোসেন সাইয়িদী

মি: উদ্দীন সম্পর্কে আদালতে বলা হয় যে তিনি মানুষকে তাবিজ-কবজ দেন এজন্য মানুষও তার কাছে আসতো।
একটি উর্দূ কথা আছে যা দক্ষিন এশিয়ার মানুষ ব্যবহার করে, এর অর্থ হল আত্মার দুষ্ট প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকা। একই বিষয় আরবীতে বলা হয় রুখিয়া, যে বিষয়ে সকল ইসলামী পণ্ডিতেরা একমত যে রোগব্যাধি বা কোন সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহ’র সাহায্য চাইলে সকল মুসলমানের উচিৎ কোরাণের নির্দিষ্ট কিছু ‘পদ’ উচ্চারণ করা অথবা নবি মোহাম্মদ কর্তৃক ব্যবহৃত ‘পদ’ এর উচ্চারণ করা।

আরবী শিক্ষার অধ্যাপক উক্ত রবার্ট গ্লিভের মতে সালাফি’জ মতাবলম্বীরা বিশ্বাস করে যে তাবিজ-কবচ তৈরী করা একটি পাপ আর যারা নিরাধারে তাবিজ-কবচ মানুষকে দেয় সে তো অবিশ্বাসী হয়ে যায়।

তাবিজ বিষয়টি হলো সেই তথাকথিত যাদুমন্ত্র যা একটি কাগজের টুকরার উপর লিখা হয় এবং ভাঁজ করে খুব ছোট আকারে নিয়ে একটি ছোট বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। ওই বাক্সটি চাহিত মানুষের সাথে রাখতে হয়।

যাই হোক, ওই নিহত ইমামের তাবিজ-কবচের বিষয়টি কথিত আএস সমর্থক সাইয়িদী ও মি: কাদিরের গোচরে আসে। চরমপন্থি দল সালাফি গুষ্ঠীরা মনে করে সকল ধরনের মেজিক বা যাদুমন্ত্র নিষিদ্ধ বিষয় এবং যারা এর অনুশীলন করেন তাদের মৃত্যুদন্ড দিয়ে শাস্তি দেয়া উচিৎ।

আবার লেস্টারের একজন ইমাম ড. আথের হুসেইন বলেন, যাদুমন্ত্রের অনুশীলন ইসলামে নিষিদ্ধ কিন্তু সালাফিস্ট চরম পন্থিরা তাবিজ বুঝেনা, এবং যেহেতু তারা তাবিজ বুঝেনা তাই তারা মনে করে তাবিজ নিষিদ্ধ বা হারাম।

আদালতকে বলা হয় যে সাইয়িদী ও মি: কাদিরের মাঝে ইমাম উদ্দীনের ব্যাপারে ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা জন্ম নিয়েছিল যাহা পরে খুনের ষঢ়যন্ত্রে পৌঁছে।

১৯১৫ সালের আগষ্ট মাসে রচডেলের প্রকৌশল বিজ্ঞানের ছাত্র সাইয়িদী, ইমাম উদ্দীনের তাবিজ-কবচ দেয়ার বিষয়টি জানতে পারে এবং সাইয়িদী তখন তার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মিলে ইমাম উদ্দীনকে যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা চালায়। আদালতে সাইয়িদী জুড়িদের জানায় যে ৭১ বছর বয়সের ইমাম মি: উদ্দীন ভিসার মেয়াদোত্তীর্ন সময় কাটাচ্ছেন যখন, তখন তাকে ইমামের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

ইমিগ্রেশন সার্ভিস, তদন্তের জন্য ইমামের একখানা ছবি ও ঠিকানা দেবার জন্য হত্যা ষঢ়যন্ত্রকারীদের জানায় এবং মি: উদ্দীন কিন্তু এক ঠিকানায় দীর্ঘ সময় থাকতেন না, শুনানিতে আদালত অবহিত হয়।

_90880946_boyশুনানীতে সাইয়িদী আদালতে বলে- “আমরা মানুষকে তার কার্য্যকলাপের বিষয়ে অবহিত করতে চেয়েছি এবং এটা ছিল আমার মূল খেয়াল।” এ সময়ই এক বন্ধু ওয়াটস এপ-এ মি: উদ্দীনের একটি ছবি পাঠায়। ওখানে মি: উদ্দীনকে জালালিয়া জামে মসজিদে রসডেলের এমপি সাইমন ডাঙ্কুজ এর সাথে দেখা যায়।
ওই ছবির সাথে, হেরি পর্টার গল্পের বর্ণনা দিয়ে লিখা ছিল “Oh crap…voldermort nvr gna b busted by immigration now.” যা বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়াবে- “অহ: ক্রেপ… ভল্ডারমর্ট নেভার গনএ বাংলাদেশ, ইমিগ্রেশনের আশ্রয়ে গিয়েও কাজ হলনা।”

সাইয়িদী আদালতকে বলে যে ইমাম উদ্দীনকে বাঙ্গলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর বিষয়টি মি: কাদির আগে থেকেই জানতো এবং সে বলেছিল যে ইমামকে তারা খেয়াল রাখছে তিনি কোথায় কোথায় থাকেন।  আদালতকে সে আরও বলছিল, খুনের দিন রাতে তারা রচডেলে গাড়ী নিয়ে ঘুরছিল ইমাম উদ্দীনকে খুঁজে খুঁজে এবং পেয়ে যায়। মি: কাদির একটি তাবীজ নেবার নামে গাড়ী থেকে নামেন । মি: কাদির পার্কের ভেতর দিয়ে মি: উদ্দীনের পিছু অনুসরণ করেন। প্রায় ৯০ সেকেন্ড পরে খালি হাতে তিনি ফিরে আসেন।

সরকারপক্ষ অভিযোগ এনে বলেন যে, ইমাম মি: উদ্দীনকে হত্যা কিংবা তার মারাত্মক ক্ষতির করার মি: কাদিরের পরিকল্পনাটি সাইয়িদী পুরোপুরি জানতো। প্রসিকিউটর পল গ্রিনি কিউসি বলেন, এটি ঘৃণা থেকে জন্ম নেয়া একটি আক্রমণ এবং মুখে আঘাতই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

শুনানীতে আদালতে আরো যা বলা হয় যে, ফেইচবুকে মি: কাদিরের তাবিজ সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উত্তরে জনৈক ব্যক্তি লিখেন-“মোহাম্মদ বলেছেন যাদুমন্ত্রকারীকে হত্যা কর।” ২০১৫ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে সাইয়িদীর ওয়াটস এপ গ্রুপ যে তথ্য বিনিময় করে তাতে স্পষ্টত:ই বুঝা যায় যে তারা আইএস আদর্শের প্রতি আগ্রহী।

জালালি মসজিদসাইয়িদীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তার ফোনে এক বিশাল আকারের আইএস সম্পর্কীত জিনিষপত্র দেখতে পায়। তাথে, রসডেলের সড়ক সংকেতের কথা মুছে দিয়ে লিখা হয়েছে “War Zone Ends” এমন একটি জিহাদী পতাকা হাতে সাইয়িদীর ছবিও পাওয়া যায়। তদন্তকারীরাও বিভিন্ন নমুনা পেয়েছেন যেখানে জিহাদী প্রতীক পাওয়া গেছে।
২০১৩ সালে সাইয়িদী এক সাহায্যকারী দলের সাথে সিরিয়ায় যায় এবং তখনই সম্ভবতঃ তার মধ্যে এই পরিবর্তন আসে এবং সে জঙ্গী হয়ে উঠে।

অধ্যাপক গ্লিভ বলেন, তাবজাতির জন্য শাস্তি মৃত্যুদন্ড এমন চিন্তা থেকে আইএস শিরোচ্ছেদ করে আসছে এ তো সকলেই জানেন।
উগ্র-জঙ্গী-মৌলবাদী হওয়া থেকে বিরত রাখার প্রশিক্ষন দেন মোহাম্মদ আলী আলমা বলেন ঘটনাটি খুবই “উদ্ভট ও অদ্ভুত”, তাবিজ নিয়ে মতানৈক্য এবং মারামারির ঘটনা আমি খুবই কম শুনেছি। এদেশে আমার জানা মতে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটলো।

রচডেল কাউন্সিল মসজিদের ইমাম ইরফান চিশ্তি বলেন, “এটি চিন্তাই করতে পারি না যে মি: উদ্দীনকে হ্ত্যা করা হয়েছে। তাও হত্যা করা হয়েছে এই কারণে যে হত্যাকারীরা মনে করে তাবজাতি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তাই। ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে এ এক মারাত্মক ভুল বুঝাবুঝি। “বিষয়টি এতোই দূর্ভাগ্যজনক যে এই লোকগুলো যখন বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-বার্তা বলছিল তখন ওই প্রাথমিক আবস্থায় কেউ তাদের সাথে আলাপ করেনি।”
(বিবিসি থেকে সংক্ষেপিত)

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT