1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
এই জন জনপদে- মুক্তকথা
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

এই জন জনপদে-

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭
  • ৫৮৬ পড়া হয়েছে
ইন্দিরা সৌধ 'শক্তিস্থল'

হারুনূর রশীদ।।

গেল শনিবার ছিল ৪ঠা মার্চ। প্রায় ৯টার দিকে বের হলাম আমার ঠিকাদার ড্রাইভার কাইয়ূম মিয়াকে নিয়ে। আজকের খেয়াল মহাত্মা, নেহরু, ইন্দিরা, রাজিব তাদের সমাধি সৌধ দেখবো। প্রায় ৯.৪০ মিনিটে রাজঘাটে পৌঁছলাম। বেশী সময় লাগেনি। কাইয়ূম মিয়া গাইড হিসেবে খুবই ভাল। ৩০ বছর ধরে গাড়ী চালায়। তার মাঝে ২৫ বছর হলো দিল্লীতে ভ্রমণ ব্যবসার সাথে জড়িত। বিহারের লোক কিন্তু আমার কাছে ভালই মনে হয়েছে। খুব বাঁচাল নয়, বেশী জানে দেখায় না, ভ্রমণকারী গ্রাহককে খুবই সন্মানের চোখে দেখে। এক কথায় ভ্রমণ ব্যবসার যোগ্য মানুষ।

ইন্দিরা সৌধ ‘শক্তিস্থল’

কাইয়ূম মিয়া আমাদের রাজঘাট গেইটে নামিয়ে দিয়ে একটু বুঝিয়ে দিল কি কিভাবে দেখবো। আমার সকল সংশয় দূর করে দিয়ে বললো-“ঘাবরাইয়ে মত, ইহাপর কই ফেরেব্বাজ, পকেটমার নেহি হ্যায়। আপলোক আচ্ছাচে দেখ লিজিয়ে। হাম গাড়ী লে কে ওহা পার্কিং মে ইন্তেজার কররাহাহো।”
জীবনের প্রথম দিল্লী সফর। কিছুতো দুশ্চিন্তা থাকবেই। মৃদু শংকা নিয়ে রাজঘাট গেইট পার হলাম। গেইটে পুলিশ পাহাড়া আছে। খুব ভদ্রতার সাথে যন্ত্র লাগিয়ে শরীরের খোঁজ-খবর নিয়ে ভেতরের রাস্তা দেখিয়ে দেয়। আমরা দু’জন এখন রাজঘাটের অতিথি। হাটছি আর চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি। মনে হলো ছোট্ট পাহাড়ী এলাকা। ছোট ছোট উঁচু-নিচু পাহাড় শ্রেণীকে গাছ গাছালি দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কিছুদূর যাবার পর ছোট্ট একটি হ্রদ দেখলাম। সবকিছুতেই সৌন্দর্যের চর্চ্চা পরিশীলিতভাবে লেপ্টে আছে। একটি জেলা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের(সম্ভবতঃ সাবএসিসটেন্ট) একচালা টিনের ঘরের অফিস দেখলাম। অফিস ঘরের জীর্ণদশা আর তার পাশের ভূগর্ভস্থ গণশৌচাগারের চরম দূরবস্থা আমাকে ব্যতীত করেছে।
খুজ নিচ্ছিলাম নেহরু-ইন্দিরাগান্ধীর সমাধির। গান্ধী সৌধ পার হয়ে যাচ্ছি। উদ্দেশ্য অন্যগুলো আগে দেখে নিয়ে শেষে আসবো মহাত্মাজীর মাজারে। বিক্ষিপ্তভাবে বসা কয়েক জোড়া প্রেমিক যুগল চোখে পড়লো। তবে তাদের মাঝে কোন অশ্লীলতা চোখে পড়েনি। খুবই হাস্যোজ্জ্বল গল্প-মশ্করায় ব্যস্ত। তাদের একজনের কাছে জানতে চাইলাম নেহেরুজীর সৌধের অবস্থান। খুব গম্ভীর হয়ে সে উত্তর দিল জানে না। একটু এগিয়ে এক দঙ্গল লোককে তাস খেলায় মশগুল দেখে অনেকটা অপ্রস্তুতভাবেই তাদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, নেহরু-ইন্দিরা সৌধের অবস্থান। একটুও বিরক্ত না হয়ে একজন ঠিকই দেখিয়ে দিল। তার কথামত বেশ কিছুদূর আঁকা-বাঁকা হাটতে হলো।
সৌধ ছাড়া দেখার এমন আহামরি কিছু নেই। তবে ঝকঝকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অবস্থা খুবই মনোহর ছিল। রাজঘাট মানে বিশাল এক ফুল আর গাছ-গাছালির বাগান। বিশাল এই বাগানের ভেতরে অংশ অংশ করে সাজিয়ে রাখা আছে সৌধগুলো। সাজানো- রুচি ও মানসম্মতভাবে করা হয়েছে। প্রতিটি সৌধে পাহাড়াদার রয়েছে। বেশ বিস্তৃত একটি অংশ ঘুরে দেখলাম। বধু হেলেনা বেগম পরিশ্রান্ত হয়ে এক জায়গায় বসে পড়লেন। তাকে বসিয়ে রেখেই আমি ঘুরেছি। বিশাল এলাকার অংশ বিশেষ দেখে মনে হয়েছে এটি মানব সৃষ্ট পাহাড়। প্রকৃতির পাহাড় নয়। তার পরও সাজানো হয়েছে প্রকৃতির বাহারকে সমুজ্জ্বল রেখে। সব কিছু মিলিয়ে একটি প্রিয় পরিবেশ চোখে পড়েছে।

নেহরু সৌধ জাঙ্গাল

ও হ্যা, বলা হয়নি। ওখানে সমাধিগুলোর বাগান এলাকার এক এক জনের জন্য একটি করে নাম বরাদ্ধ করা আছে। যেমন জওহরলাল নেহেরুর সমাধি সৌধ এলাকার নাম “শান্তিভন”, ইন্দিরা গান্ধীর সৌধ বাগানের নাম “শক্তিস্থল”, রাজিব গান্ধীর সৌধ বাগানের নাম “সংঘর্ষস্থল” চরণ সিং এর “কিষাণঘাট” আর মহাত্মা গান্ধীর সমাধি সৌধ বাগান এলাকার নাম “রাজঘাট”।
আমার সবচেয়ে মন খারাপের একটি বিষয় ছিল, কোন লোক পাইনি যে বাংলায় কথা বলছে। বেশ কিছুটা হাটার পর পেয়ে গেলাম ইন্দিরা গান্ধীর সমাধি সৌধ। কিছু জানতে চাই কিন্তু কাকে জিজ্ঞেস করবো? বাংলা কথা বলারতো লোকই পাইনি। সৌধটি পাহাড়া দিচ্ছেন সামরিক বাহিনীর একজন রক্ষী। শেষে কোন উপায় না পেয়ে পাহাড়ারত ওই সিপাহীর স্মরণাপন্ন হতে হলো। আমার মনে প্রশ্ন, এতো বড় মাপের একজন ব্যক্তিত্বের সৌধ পাহাড়ার প্রয়োজন হল কেনো? এখানে চুরি যাবার কিছু আছে বলেতো দেখিনি। তাই মনের আগ্রহে তার কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম তিনি কি কারণে এখানে। আলাপ করতে গিয়ে জানলাম তার নাম রাভেন এক্কা। খুব সংক্ষেপে তিনি বুঝালেন, বিশ্বব্যাপী যে সহিংসতা চলছে তাতে কে কোথায় কখন কোন কান্ড করে বসে তারতো কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই সরকারের এই বিশেষ পদক্ষেপ। জানতে চাইলাম কতদিন থাকতে পারে এই অবস্থা। উত্তরে তিনি জানেন না জানালেন। তার কোন ছবি তুলতেও মানা করলেন। বললেন যে, কর্মরত অবস্থায় কোন ছবি তোলা তাদের নিষেধ। তার কাছে জানতে চাইলাম ইন্দিরাজীর সৌধে হাত আকৃতির ওই লৌহ খন্ডটি কেনো? জানালেন, ইন্দিরাজী ছিলেন লোহার মত শক্তমনের মানুষ। তাই তার জীবনের মূল বৈশিষ্টকে তুলে ধরার প্রয়াস এটি। তার সাথে যখন কথা বলছিলাম তখনই তার দু’টি কুকুর ছানা আমার পা চাটছিল। পায়ে খুব কাতুকুতু হচ্ছিল। কিন্তু কি করি! অগত্যা সহ্য করে নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। ছোট্ট দু’টি কুকুর ছানা, মারাতো আর যায় না। তাদের আর দোষ কি, এতো কুকুরের অনাদি অনন্তকালের চরিত্র!
ফৌজি ওই লোক জানতে চাইলেন ১৯৪৭ এর দেশ ভাগাভাগিকে আমি কোন চোখে দেখি। নিজের অজান্তেই আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো-‘খুব খারাপ কাজ ছিল এটা’। তিনি কিছুই বললেন না শুধু মৃদু হাসলেন। আবারো জানতে চাইলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে আমি কিভাবে চিনি? সুযোগ পেয়ে, তাকে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বয়ান করে নিজে যে একজন পাক্কা খাঁটী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম গড়গড় করে তা বলে গেলাম। অবাক করে দিয়ে লোকটি আমাকে একটি ‘সেলিউট’ দিয়ে বললো স্যার, আপনাকে দেখেই মনে হয় আপনি আমার অনেক সিনিওর। আপনাকে দাড়িয়ে রেখে  আমি চেয়ারে বসে কথা বলছিলাম। এটি আমার ঠিক হয়নি স্যার। আমি বলার কোনকিছু খুঁজে না পেয়ে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে তার কাছ থেকে বিদেয় হয়ে আসলাম। ইন্দিরা সৌধের কয়েকটি ছবি তুলতে ভুল করলাম না।
লন্ডন: মঙ্গলবার, ২৩শে ফাল্গুন ১৪২৩

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT