1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
এই জন জনপদে- মুক্তকথা
সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

এই জন জনপদে-

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৬৯৮ পড়া হয়েছে

নয়নাভিরাম রাষ্ট্রপতি ভবন, দিল্লী

বিশাল ফটক কিন্তু মোগল বা তুগলকদের স্থাপত্যরীতির ধারে কাছেও যাবার নয়। ওদের স্থাপত্যের কাছে আজও দুনিয়ার কোন স্থাপত্যই তুলনীয় নয় বলে আমার ধারণা।

মন্ত্রনালয়ের একাংশ, দিল্লী

হারুনূর রশীদ

আজ শনিবার আমাদের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সাহেবের সাথে সাক্ষাতের দিন। তাকে দেখার এক প্রবল ইচ্ছা আমার মাঝে কাজ করছিল। তার পেছনে অবশ্য কারণও অনেক আছে। ছোটবেলায় তাদের পুরো পরিবারকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। তার বাবা সৈয়দ মোস্তাফা আলী সাহেব তখন অবসর নিয়ে স্থায়ীভাবে মৌলভীবাজারের হাসপাতাল সড়কস্ত(পুরাতন হাসপাতাল) তার পৈত্রিকবাসায় বসবাস করছিলেন। তিনি ওই সময় মৌলভীবাজারের ‘অনারারী মেজিস্ট্রেট’ ছিলেন।

আমরা দু’জন, মিসেস আলী ও মহামহিম সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।

আমি তখন চতুর্থ-পঞ্চমশ্রেণীর ছাত্র। পড়ি কাশীনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে। আমাদের প্রধান শিক্ষক তখন দিনেশ বাবু। শ্রীশিরিশ চন্দ্র ধর সহকারী প্রধান শিক্ষক। খুব সম্ভবতঃ সময় তখন ১৯৫৬ থেকে ’৫৮ সাল। শহরে আমরা দু’ভাইয়ের (লন্ডনে প্রয়াত আমার ছোট ভাই কয়ছর রশীদ পিরুন) অভিভাবক আমাদের মামা প্রয়াত আব্দুল মছব্বির এ সময় মৌলভীবাজারের এসডিও অফিসে পাসপোর্ট বিভাগের কেরাণী। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে সৈয়দ মোস্তফা আলী সাহেবের পেশকার হয়েছিলেন। এই সুবাদে আমরা দু’ভাই তাকে চিনতাম। প্রতিভোরে আমরা ‘মর্নিং ওয়াক’ করার সময় প্রায়ই সৈয়দ সাহেবের নজরে পরতাম। তিনি ডেকে নিয়ে ঘরে গিয়ে পড়তে বসার উপদেশ দিতেন। আমরাও গুনমুগ্ধের মতো তার কথায় ঘরে ফিরে আসতাম। তাকে খুব ভয়ও পেতাম। একদিন সকালে একব্যক্তি রাস্তার পাশেই বসে প্রস্রাব করছে দেখে তিনি তার হাতের লাঠি নিয়ে দৌড়ানি দিয়েছিলেন। ওই দিন থেকে আমরা তাকে ভয়ের চোখেও দেখতাম

বৃটিশদের নির্মাণ ‘ইন্ডিয়া গেইট’

আমি কাশীনাথ স্কুলের ছাত্র হলেও শহরে থাকা ও শহুরে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সরকারী স্কুলের ছাত্রদের সাথে সখ্যতা বেশী ছিল। সেই সুবাদে সরকারী স্কুলের মাঠে মোয়াজ্জেম ভাইয়েরা যখন ক্রিকেট খেলতেন, আমাদের কয়েকজনকে খেলায় নিতেন শুধুমাত্র বল দূরে চলে গেলে তা সংগ্রহ করে নিয়ে আসার জন্য। আমরা কিন্তু ওটুকুতেই খুবই তৃপ্ত থাকতাম। আমাদের তৃপ্তি ছিল আমরা বড়দের সাথে খেলছি। ‘এই বড়দের সাথে খেলছি’ এর মধ্যে সে কি আনন্দানুভুতি ছিল আজ তা বর্ণনা করতে পারবো না।

পেছন থেকে ‘ইন্ডিয়া গেইট’

মোয়াজ্জেম আলী সাহেবের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, আবেগ, অনুভুতির আরো কারণ আছে। আগেই বলেছি তিনি আমাদের মৌলভীবাজারের মানুষ। তার সব বড় ভাই(বৈমাত্রেয়) প্রয়াত সৈয়দ মোহাম্মদ আলি, যিনি অবসর জীবনে ঢাকায় এসে “দি স্টার” নামের ইংরেজী দৈনিকের প্রকাশনা শুরু করেছিলেন। যে স্টার দৈনিকটি এখনও খুবই সুনামের সাথে প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে। সেই মোহাম্মদ আলী সাহেব তখন মালয়েশিয়ায় ইউনেস্কোর এক দায়ীত্বে কাজ করছিলেন। আমি তখন মৌলভীবাজার থেকে “মুক্তকথা” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে আসছিলাম। যা আজও ক্ষুদ্র কলেবরে প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছি। আমার সাংবাদিকতা জীবনের দেখা-অদেখা আর জানা-অজানা নিয়ে ‘মৌলভীবাজারের ইতিকথা’ নামে আমি একখানা পুস্তক লিখার খায়েসে বেশ আগ থেকেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্তভাবে ‘মুক্তকথা’য় কিছু কিছু লিখছিলাম। এসময়ই আমার এক প্রতিবেশী ‘দাদা’ (সম্ভবতঃ বিনয় ছিল, নামটা সঠিকভাবে মনে আনতে পারছি না) আমাকে মোহাম্মদ আলী সাহেবের সাংবাদিকতা বিষয়ক কাজের খবর দেন। ওই দাদাই আমাকে তার মালয়েশিয়ার ঠিকানাও সংগ্রহ করে দেন। সেই ঠিকানায় আমি আমার ‘মুক্তকথা’ নিজ খরচে ডাকে পাঠাতাম। কয়েক সংখ্যা পাঠানোর পর একদিন পেলাম মালয়েশিয়া থেকে একটি চিঠি। মালয়েশিয়া থেকে চিঠি দেখেই আমি বুঝতে পারি চিঠিটি আর কারো নয় সৈয়দ মোহাম্মদ আলী সাহেবের। খুলে দেখলামও তাই।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সন্মুখভাগ থেকে দূরে বহু দূরে ‘ইন্ডিয়া গেইট’। এ বিস্তৃত ভূমি বাগান এলাকা।

কিন্তু আশ্চর্য্য হলাম এই দেখে যে চিঠিখানা একটি কবিতাকারে। সেই কবিতাচিঠি পড়ে আমি শুধু মুগ্ধই হয়েছিলাম তা নয়, নিজের জন্ম মাটির প্রতি একজন মানুষের হৃদয়ের কান্না আমি শুনতে পেয়েছিলাম সেই চিঠিতে। তিনি অত্যন্ত দরদমাখা মন নিয়ে লিখেছিলেন সে চিঠিখানা। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমার মৌলভীবাজারে উনিশ’শ চুরাশীর বন্যা আমার সেই চিঠিখানাকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে কোন মাটিতে পুঁতে রেখেছে তার কোন হদিস আমি পাইনি। আজকের দিনে এ ছিল আমার কাছে এক মহামূল্যবান দলিল।
তাই, দিল্লী আসার আগে ফেইচবুকের মাধ্যমে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি তখন অসুস্থ। খুব বড় আকারের না হলেও একটি অপারেশন হয়েছে তার। তার মাঝেও তিনি আমার যোগাযোগের উত্তর দিয়ে তার সাথে সাক্ষাতের একটি ব্যবস্থা করে দেন। গাড়িতে করে তার সরকারী বাস ভবনে যাচ্ছি। আমাদের গাড়ী ‘ইন্ডিয়াগার্ডেন’ হয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়া গার্ডেনের সেই সুউচ্চ ফটক অবাক হয়ে দেখছিলাম। মোগলদের স্থাপত্যশিল্পের সাথে একটু প্রতিযোগীতার মনোভাব নিয়েই মনে হয় ইংরেজরা এই গেইট বানিয়েছিল। বিশাল ফটক কিন্তু মোগল বা তুগলকদের স্থাপত্যরীতির ধারে কাছেও যাবার নয়। ওদের স্থাপত্যের কাছে আজও দুনিয়ার কোন স্থাপত্যই তুলনীয় নয় বলে আমার ধারণা। দিল্লী গেইট দেখিয়ে আমার ড্রাইভার কাইয়ূম তার মনেরমত করে বর্ণনা দিচ্ছিল। তবে এটা মানতেই হবে দিল্লী গেইটের ওই ফুলবাগ আয়তনে বিশাল। আমার দেখা দুনিয়ার কোথায়ও এ অবদি এতো প্রশস্ত ফুল বাগান দেখিনি। হয়তো আমার অদেখা কোথায়ও আছে।

‘ইন্ডিয়া গেইট’এ শিখা অনির্বাণ এর কাছে প্রহরারত সৈনিক

এক সময় এসে পৌঁছে গেলাম বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনের সামনে। মোয়াজ্জেম ভাইয়ের অফিস কর্মি শাহাদাৎ হোসেন আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসছিল। দুনিয়ার হাতেগোনা ক’টি শহরের একটি এই দিল্লী। সুরি, রাজপুত, লোদী, মোগল, পর্তূগীজ আর ইংরেজদের শত শত স্থাপত্যের শহর এই দিল্লী। প্রাচীনতম এই দিল্লী শহরে, নয়নাভিরাম বিশাল একটি বাড়ীর সামনে বাংলাদেশের পতাকা পত পত করে উড়ছে দেখে নিজের মনের ভিতর এক অজানা অব্যক্ত পুলক নাড়া দিয়ে গেল।

বাংলাদেশ হাইকমিশন কম্প্লেক্সের সন্মুখভাগ পতাকা মাথায় দাড়িয়ে আছে।

শাহাদৎ গাড়ী নিয়ে ভেতরে ঢুকে আমাদের ঢুকতে দেখিয়ে দিলেন। গাড়ী থেকে নেমে হাইকমিশন ভবনাদির ভেতরে প্রবেশ করলাম। শাহাদৎ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন কোনটা কি। তালাবদ্ধ একটি মনোরম কক্ষ দেখিয়ে শাহাদৎ বললেন স্যার এটা আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের হল। এটা হাইকমিশনার সাহেবের অফিস। ভেতরের দিকে আরো অনেক কক্ষ রয়েছে। দেখে খুবই ছিমছাম লাগলো বাংলাদেশ হাইকমিশন। প্রয়োজনীয় জায়গায় যোগ্য মানুষ থাকলে যা হয় তাই প্রস্ফুটিত হয়ে এক ধরনের সচেতন সমাজের সৌরভ ছড়াচ্ছিল হাইকমিশনের প্রতিটি ইট-পাথর। একটু একটু করে দেখে ফিরে এসে গাড়ীতে উঠলাম। শাহাদৎ, পাশেই অবস্থিত হাইকমিশনারের মনোরম বাসভবনে নিয়ে গেলেন। ঘরে ঢুকেই দেখলাম অসুস্থ মোয়াজ্জেম ভাই চেয়ারে বসে আমাদের ইন্তেজার করছেন। দেখে বললেন, ‘হারুন আইছো। বও!’

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT