প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ।। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া চা বাগানের রাবার বাগানে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ৩ সন্তানের জননীর লাশ পাওয়া যায়। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় মাধবপুর চা বাগানের ফাঁড়ি পদ্মছড়া চা বাগানের রাবার বাগানে এ লাশটি পাওয়া যায়। নিহত বিধবা সেলিনা আক্তার মাধবপুর নোয়াগাঁও-এর মৃত মনু মিয়ার স্ত্রী। তার ৩টি ছেলে সন্তান রয়েছে।
পদ্মছড়া চা বাগান ও কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাবার শ্রমিকরা গাছ থেকে তরল রাবার সংগ্রহ করতে এসে একটি গাছের ডালে এ বিধবার ঝুলন্ত লাশ দেখে ইউপি সদস্য ও চা বাগান কর্তপক্ষকে খবর দেয়। পরে কমলগঞ্জ থানাকে বিষয়টি অবহিত করলে পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে লাশটি গাছ থেকে নামিয়ে সুরতহাল তেরী করেন।
মাধবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আহাদ বলেন, কয়েক বছর আগে এ বিধার স্বামী মারা গেছেন তার তিনটি ছেলে সন্তানের মাঝে বড়টি দশম শ্রেণির ছাত্র। কি কারণে বা কিভাবে গাছের ডালে ঝুলে তার মৃত্যু হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া এই বিধবা রাবার গাছে উঠতে পারার কথাও না। বিষয়টি পুলিশী তদন্ত হলে বোঝা যাবে বলেও তিনি জানান।
মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ মৃত্যুটি রহস্যজনক। নিহতের বড় ছেলে বলেছে সকাল সাড়ে ৭টায় তাদের মা তিন ছেলে (তাদেরকে) নাস্তা খাইয়ে বাহির থেকে আসছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বাড়ি ও ঘটনাস্থলের দূরেত্ব আধা ঘন্টার মধ্যে কিভাবে এ ঘটনাটি ঘটে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি মনে করেন লাশের ময়না তদন্ত শেষে বোঝা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ বলেন, লাশের সুরতহাল তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আপাতত থানায় একটি অপমৃত্যু দায়ের হবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী তদন্ত চলবে। তিনি এ বিধার মৃত্যুকে কিছুটা রহস্যজনক বলে ধারণা করছেন।
কাতারের নতুন শিল্প এলাকার একটি এ্যালুমোনিয়াম কোম্পানির মেশিন দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম সুমন(২৭)। গত সোমবার(১৩ এপ্রিল) কাতারের সময় বিকাল ৩টার দিকে কোম্পানির কাজে যোগদানের পর হঠাৎ করে মেশিন দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে সুমনের মৃত্যু হয়। নিহত সুমন মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের শওকত আলীর একমাত্র ছেলে।
কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দুতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম জানান, কাতারের সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে নিহত সুমনের মৃতদেহ দ্রুত দেশে তার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে মর্মান্তিক মেশিন দুর্ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা তারেকুল ইসলাম সুমন নিহত হওয়ার সংবাদ মঙ্গলবার কমলগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে পৌছলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সুমনের মা-বাবা ও ২ বোন পাগলপ্রায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ রিপুল ও সুমনের ঘনিষ্ট বন্ধু বিক্রমকলস গ্রামের পার্থ পাল বলেন, মুন্সীবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম সুমন খুব ভালো ছেলে ছিল। ছোটবেলা থেকেই ওর সাথে পরিচয়। রাজনীতিতেও ভালো সুনাম ছিল তাঁর। কাতারে কমলগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা সুমনের অকাল মৃত্যুতে কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী গভীর শোকাহত।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারে তুলাধুনার কারখানায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভূক্তভোগীর দাবী।
জানা গেছে, ভানুগাছ বাজারস্থ জবা’র কলোনিতে মোতাহের মিয়ার তুলাধুনার মেশিন থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারনে আগুনের সুত্রপাত ঘটে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ সময় কারখানায় থাকা মেশিনারিজ ও তুলা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সুত্রপাত হয় বলে কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও কারখানা মালিক নিশ্চিত করেন।
ভুক্তভোগী মোতাহের মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে অনেক দিন ধরেই কারখানা বন্ধ ছিল।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানা মালিককে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে ভানুগাছ বাজারে ওই অগ্নিকান্ডের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যবসায়ীকে কমলগঞ্জ পৌরসভার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। কমলগঞ্জে পৌরসভার পক্ষ থেকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ওই তুলা কারখানার মালিক মোতাহের মিয়াকে আর্থিক অনুদান হিসেবে গত বুধবার, ১৫ এপ্রিল, দুপুর ১টায় কমলগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে এ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমেদ, কাউন্সিলর মো. আনোয়ার হোসন, গোলাম মুগ্নি মুহিত, রাসেল মতলিব তরফদার, রফিকুল ইসলাম রুহেল প্রমুখ।
সিলেট জেলা ব্যাঃ চার্চ ফেলোশিপ এর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাঃ চার্চ ফেলোশীপ এর আর্থিক সহযোগিতায় আবদ্ধ সিলেট বিভাগের খ্রীষ্টিয় সহভাগিতাযুক্ত মোট ৮০টি দরিদ্র পরিবারের মধ্যে পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিঃ সয়াবিন তেল, ১ কেজি লবন বিতরণ কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার পৃথকভাবে নাজারেথ তেলুগু ব্যাঃ চার্চ, পালকিছড়া ব্যাঃ চার্চ, শ্রীমঙ্গল ব্যাঃ চার্চ ও বাংলাদেশ মৈতৈ ব্যাঃচার্চ এর ৩৬ টি পরিবারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে।
খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কমিটির কনভেনর মিখায়েল পিরেগু জানান, বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাস পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় এখন অবদি লক্ষাধিক মৃত্যু ও বিশ লক্ষের বেশি সংক্রামিত। দেশীয় প্রেক্ষাপটে করোনা রোগী সনাক্ত হবার পর থেকে বাংলাদেশ সরকার খুব তৎপরতার সাথে বহুমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে দেশেও করোনা মহাসংকট তৈরী করেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে থাকা, শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মান্য করে চলার বিষয়ে আলোকপাত করেন। হয়তো সামনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আরো ঝুঁকির পথে, সরকার এককভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার নয়। সকলকে নিজ অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ ফেলোশিপ এর আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি সিলেট জেলা ব্যাঃ চার্চ ফেলোশিপ এর পক্ষে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উক্ত খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে আরো যুক্ত রয়েছেন পালকিছড়া সিডিএসপি এর ব্যবস্থাপক শ্যামুয়েল রোকন মলিবলক, হিসাব রক্ষক মজেশ বারই, পালক যোষেফ রাল্ফ ও পালক প্রবোধ রায়।
এদিকে বুধবার সকালে কুলাউড়ার মুরইছড়া পুঞ্জির ৮টি পান চাষী পরিবারে একই পরিমান খাদ্য বিতরণ করা হয়।