1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
চোর কি শুনে ধর্মের কথা! - মুক্তকথা
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

চোর কি শুনে ধর্মের কথা!

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৬
  • ৭৩৫ পড়া হয়েছে
Iskander_Mirza

মেজর জেনারেল শাহিবজাদা সাইয়িদ ইস্কান্দর আলী মির্জা। ছবি-ইন্টারনেট

মুক্তকথা:রোববার, ১৪ই আগষ্ট ২০১৬।।

মেজর জেনারেল শাহিবজাদা সাইয়িদ ইসকান্দর আলি সিআইই, ওবিই। ধর্মে শিয়া মুসলমান। বুনিয়াদ ফতে জং মির জাফর আলী খানের। চিনতে অনেকের অসুবিধে হচ্ছে। এক কথায় পরিচয় পলাশীর মিরজাফরের প্রপৌত্রের পুত্র। পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট। ৫৬-৫৮সাল অবদি পাকিস্তানের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল।

১৯৫৮ সালের অক্টোবর। ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায়। সেই মির্জার পরবাস শাস্তি। দাতা, তারই নিয়োজিত ফিল্ড মার্শাল মুহম্মদ আয়ুব খান। এই আইয়ুবের সামরিক অভ্যুত্থানে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল। ১৯৬২তে সংবিধানে রাষ্ট্রপতি প্রধান ব্যবস্থা চালু করে তিনি রাষ্ট্রপতি। সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের দিকে চোখ ঘুরালেন। খুঁজতে গিয়ে মানুষও পেয়ে গেলেন। আবদুল মোনেম খান। বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় বাড়ী। মুসলিম লীগের বুনেদি মানুষ। পেশায় ময়মনসিং এর আইনজীবী। আয়ুবের পছন্দ হল। নিযুক্ত হয়ে গেলেন পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর। আয়ুব যা বলতেন মোনেম তাই করতেন। আয়ুব চেয়েছিলেন, পূর্বসূরি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ গংদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পূর্বপাকিস্তান থেকে মুছে দিতে। ধূয়ে মুছে ধর্মের ঘাড়ে সোয়ার হয়ে নিজেদের লুন্ঠনের অভয়ারণ্য বানাতে। চেয়েছিলেন বাঙালির মুখে তুলে দিতে উর্দু ভাষা। ভুলিয়ে দিতে একমাত্র নোবেল বিজয়ী বাংগালী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে। ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের চিড় ধরাতে। দূরে দূরে রাখতে ঢাকা-কলকাতাকে। আয়ুবের অভীষ্ট পূরণে চেষ্টার কসুর করেননি মোনেম।

images-1

বায়ে নাতি আকিফুজ্জামান আর ডানে দাদা মোনেম খান।  ছবি-ইন্টারনেট

আয়ূবের হুকুমে শুরু হয় মোনেমের দমনপীড়ন। সংখ্যালঘু হিন্দুরা দলে দলে দেশত্যাগী হতে শুরু করে। ব্যবসায়িক স্বার্থে সৃষ্ট পাকিস্তানের কূচক্রি রাজনীতিকদের সুরে সুর মিলিয়ে মোনেমও ঘোষণা করেন পাকিস্তান হচ্ছে ইসলামি দেশ। এখানে ভিন্নধর্মীদের ঠাঁই নেই। আর সেইতো বাঙ্গালীর গর্জে ওঠা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১এ বাংগালীর মুক্তি যুদ্ধ রুখতে ঝাঁপিয়ে পড়েন মোনেম। সক্রিয় হয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেন। শেষ-মেষ ধর্মীয় জিগির তুলে ৯মাস অবদি কয়েক লক্ষ বাংগালীকে হত্যা করতেও দ্বিধা করেননি। পরিকল্পিতভাবে জামাতের নেতৃত্বে যে বুদ্ধিজীবী হত্যা সংঘটিত হয় সেটাও যে তার জানাজানিতে হয়েছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এতো কিছুর পরও উদ্দেশ্য সফল হয় নি। একাত্তরের অক্টোবরে ঢাকার বনানীর বাসভবনে মুক্তি বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

৪৫ বছর পর তাঁরই পৌত্র আকিফুজ্জামান খানেরও মৃত্যু একই ভাবে। ঢাকার কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় বাংলাদেশ নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে আট সঙ্গীর সাথে সেও স্বর্গবাসী হয়। দাদার পরিণতি! 

তারা জামাতুল মুজাহিদিনের জঙ্গি। পাকিস্তানের সাথে নিবিড় সখ্যতা ছিল। পিতামহের মৃত্যুর ২১ বছর পর ১৯৯২তে আকিফুজ্জামানের জন্ম। এতো অল্প বয়সে পঁচিশ না পেরোতেই পরলোকে। পিতামহ মোনেম খানের সান্নিধ্য পায়নি ঠিকই কিন্তু খুবই স্বাভাবিকভাবে তাঁর চিন্তার উত্তরাধিকার পেয়েছে। হয় উত্তরাধিকার সূত্রে না হয় বাবার কাছ থেকে। মোনেমের আদর্শে মৌলবাদের তাড়নায় জঙ্গিপনায় লিপ্ত হয়েছিল।

৪৫ বছর ধরে রাজনৈতিক কূচক্রি পাকিদের যন্ত্রনায় কাতর বাংলাদেশের ক্ষোভ আর যন্ত্রনার অগ্নিদাহ আকিফুজ্জামানদের মগজে দেশের প্রতি মানুষের প্রতি এতটুকু মায়া জন্মাতে পারেনি, করুণাও জাগাতে পারেনি। ভয়ঙ্কর অভিযানের জাল ফেলেছিল। একাত্তর দেখেনি তাই বাঙ্গালীর কঠোরতাও বুঝতে সক্ষম হয়নি ফলে মরতে হয়েছে আকিফুজ্জামানকে। দাদার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। 

আকিফুজ্জামানের জঙ্গি হওয়া ও মৃত্যু একটি বিষয়কে খোলাসা করে দিয়েছে। আসলে কোন আইএসআইএস নয় বরং একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের পরাজিতরাই যে বর্তমান অস্থিরতা সৃষ্টির মূল নায়ক সে বিষয়টি। 

কথায় আছে “চোর কি শুনে ধর্মের কথা…” এর পরেও আশা করতে চাই পরাজিত কল্পিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের ভাবধারা থেকে ওরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ভাবধারায় উজ্জ্বল উদ্ভাসিত হোক।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT