1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
ধর্ম তাদেরও হাতিয়ার। এরা ঢাকা-দিল্লী-ওয়াশিংটনের মৌলবাদী - মুক্তকথা
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

ধর্ম তাদেরও হাতিয়ার। এরা ঢাকা-দিল্লী-ওয়াশিংটনের মৌলবাদী

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৮৫ পড়া হয়েছে

মুক্তকথা প্রতিবেদন॥ বঙ্গবন্ধুর পর এবার কুষ্টিয়ায় ভাঙ্গা হলো বৃহৎভারতীয় ইতিহাস খ্যাত ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী বাঙ্গালী ‘বাঘা যতীন’এর আবক্ষ মূর্তি। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে এ মূর্তি ভাঙ্গাহয় বলে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান তার অনুমানের কথা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন। পুলিশ সরকারী দলের নেতাকর্মীদেরও আটক করেছে জিজ্ঞাসার জন্য। এতে স্পষ্টই বুঝা যায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই এলাকার সরকারী দলেও নব্য বা মুখোশপড়া মৌলবাদীরা রয়েছে। মূর্তি ভাঙ্গার বিষয়ে আমরা সকলেই একবাক্যে এককভাবে দেশের মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীকে দায়ী করে থাকি। এরা দায়ী এটা নির্ঘাত সত্য। কিন্তু এর পরে‌ও আরো কিছু কথা আছে। কেনো বঙ্গবন্ধুর মূর্তিকে ভাঙ্গার জন্য বাঁচাই করা হলো? বাঘা যতীনের মূর্তি ভাঙ্গার জন্য ১৭ ডিসেম্বরকে কেনো বাঁচাই করা হলো? সাদা-মাটা উত্তর হবে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙ্গলে সারা পাওয়া যাবে বেশী আর ১৭ তারিখ, বিজয় দিবসের কাছা-কাছি পরের দিন। ঘটনার মূর্ত ও বিমূর্ত আবেদন থাকবে বেশী আর পৌঁছাবে অধিক সংখ্যক মানুষের মাঝে। ভারত-বাংলাদেশ আর হিন্দু-মুসলমান বিভেদ-সংঘাত সৃষ্টিতে কাজ দেবে অসাধারণ আবহে। এ সবগুলোই ঠিক। কিন্তু এর পরও আরো কথা আছে বলেই মনে করি।
কেবল ধর্মের কারণে মূর্তি ভাঙ্গা হলে সে-তো যেকোনদিন ভেঙ্গে দিতে পারতো আর এমন মূর্তিভাঙ্গা প্রতিনিয়ত জারি থাকতো। ধর্মের বিচার থেকে একাজ করতে গিয়ে মূর্তি ভাঙ্গারতো প্রয়োজন নেই। পুরো মূর্তি তুলে নিয়ে খালে-বিলে বা নদীতে ফেলে দিতেই পারে। সকল মূর্তি হয়তো তুলে নেয়া সম্ভব নয় কিন্তু বাঘা যতিনের আবক্ষ মূর্তি অনায়াসে তুলে নিয়ে খালে ফেলে দিতে পারতো। কিন্তু এ মৌলবাদীদের মাথায় এ বুদ্ধি আসেনি এ কথা ঠিক নয়। এ মৌলবাদীরা খুব বুঝে ও জেনে-শুনেই দিন বেছে নিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব মৌলবাদীদের মনে ধর্মের উন্মাদনার চেয়ে রাজনৈতিক উন্মাদনা প্রকট। এরা ধর্মের চেয়ে ভারত ও ভারতের মানুষকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে চায়। ধর্ম রক্ষা ও প্রচারের চেয়ে হিন্দু-মুসলমানে দাঙ্গা বাঁধাতে এরা সবকিছুই পারে! এটা ঠিক মৌলবাদীরাও এদেরই অংশ। তা’হলে খুবই স্বাভাবিকভাবেই যে কোন মানুষের মনে ছোট্ট একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে এরা কি তা’হলে ভিন্ন কোন মৌলবাদী। খুব স্পষ্ট করেই বলা যায় হ্যাঁ, এ মৌলবাদীরা কিছুটা ভিন্নই।
বাংলাদেশের ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা এতো চৌকুষ, এতো আধুনিক চিন্তার মৌলবাদী নয়। এতো যৌক্তিক চিন্তা ও ক্ষয়-ক্ষতির হিসেব নিকেশ করে মূর্তিভাঙ্গার রাজনৈতিক কর্মী এরা নয়। বাংলাদেশের মৌলবাদীরা যে মাত্রায় রাজনৈতিক কর্মী তার চেয়ে অধিক মাত্রায় এরা আবেগি ধর্মান্ধ! এদের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মের সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু মসজিদ আর নামাজ নিয়েই মাতামাতিতে ব্যস্ত সময় কাটায়। এখানে এই মূর্তি ভাঙ্গার পেছনে ধর্মের চেয়ে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করে দেখানো এবং ব্যবসায়ী উদ্দেশ্য প্রধান।
বাংলাদেশের মৌলবাদীদের অধিকাংশের নেতৃস্থানীয় কতিপয়, আফগান যুদ্ধে শরিক হয়েছিল, অতি অল্প কিছু আরব মুল্লুকের মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করেছে। এরাই এখনও নেতৃত্বে আছে। এরা এতো আবেগী যে বক্তৃতায় উঠে এরা সাধারণ মানুষকে এখনও ধমক দিয়ে কথা বলে। খোলা-মেলা বক্তৃতায় গালিগালাজ করে। যা কি-না তাদের ভাষায় ‘নসিহত’ করা। গ্রামীণ মোল্লাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে এরা এখনও পড়ে আছে। এখান থেকে উঠে আসার চিন্তাই করতে পারে না।
কারবালা যুদ্ধের পর সীমার-মোহাবিয়ার বংশধরেরা সাধারণ মুসলমানদের যেভাবে শুধু মসজিদমুখী করেছিল, সেই, শুধু নামাজ শুধু মসজিদের ইসলামকে এরা বুঝে। তাইতো এদের দেখা যায় মসজিদ থেকে বের হয়েই ঘুষ-দূর্ণীতির পথে হাটে। শুধু বাংলাদেশ কেনো, দুনিয়ার কোটী কোটী মুসলমান আছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তানের মুসলমান, যারা নামাজ পড়ে, তারা কোন অর্থ না বুঝেই শুধু মুখস্ত কবিতা বা সুরা দিয়ে বংশপরম্পরায় নামাজ পড়েই যাচ্ছে। কি পড়ছে তার কিছুই বুঝার প্রয়োজনও মনে করেনা। আর আজ অবদি এসব মানুষদের একইভাবে অর্থ ছাড়া মুখস্ত ছুরা শিখিয়েই ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়। তাদের এই বলে শিক্ষা দেয়া হয় যে মুখস্ত পড়লেও ‘সোয়াব’ আছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এ নমুনায় শিখানো হয়; এদের ধর্মান্ধ করে রাখার জন্য।
এই প্রকৃতির ধর্মান্ধরা সন-তারিখ ঠিক করে মূর্তি ভাঙ্গে না। মূর্তি ভাঙ্গতে তাদেরতো সন তারিখ ঠিক করার প্রয়োজন নেই। মূর্তি যারা ভেঙ্গেছে তা’দের স্বরূপ খুঁজে বের করা খুবই প্রয়োজন। এই মৌলবাদীরা রাষ্ট্রকে অকার্যকর দেখাতে চায়। তারা মনে মনে ভারতীয় হস্তক্ষেপের আশায় এমন মূর্তি ভাঙ্গে। ধর্মের জন্য নয়। কোনভাবে তারা চায়, ভারত নাক গলাতে আসুক। শুধু নাক গলানো নয়, ভারত যদি বাংলাদেশ দখল করে নিতে চায় তারা আরো বেশী খুশী। কারণ এরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মৌলবাদী। ধর্ম তাদেরও হাতিয়ার। এরা ঢাকা-দিল্লী-ওয়াশিংটনের মৌলবাদী! কারণ তারা বিশ্ব পুঁজিবাদের অন্তরঙ্গ সাথী।
হারুনূর রশীদ, লণ্ডন, শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT