1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
পঞ্চব্রীহি ধানে এক বার রোপনে ফলন ৫ বার - মুক্তকথা
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

পঞ্চব্রীহি ধানে এক বার রোপনে ফলন ৫ বার

সৈয়দ বয়তুল আলী॥
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৪২০ পড়া হয়েছে

সাধারণত একবার রোপণে ধান গাছে একবার ফলন হয়। কিন্তু ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধান গাছ পুরোপুরি না কেটে একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমে আরও চার রকমের ধান কীভাবে উৎপাদন সম্ভব, তা আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।তিনি তার এ আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’।

ড. আবেদ চৌধুরী জানান, এই নতুন ধান চাষ পদ্ধতি যদি সারাদেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আগামী পঞ্চাশ বছরের জন্য গোটা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি জানান,বাংলাদেশের উত্ত্র পূর্বাঞ্চলীয় সিমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলার তার নিজ গ্রাম হাজী পুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করেছেন। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি পাঁচ রকমের ধান গাছ আবিষ্কার করেছেন। যা চাষের জন্য নতুন করে পাঁচ রকমের ধানের ছারা রোপণ করতে হবে না। এতে কৃষকের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি সাশ্রয় হবে অর্থও বাড়বে উৎপাদন। একইসঙ্গে এক জমিতে এক বার ছারা রোপন করে বোর, আউশ ,আমন সহ বিভিন্ন মেয়াদে পাঁচ রকমের ধান উৎপাদন করা যাবে। ফলে দূর হবে দেশের খাদ্য সংকট।

ড. আবেদ চৌধুরী আরো বলেন, আমার এ আবিষ্কারের গবেষণাগার হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজী পুর গ্রাম, যে গ্রামে আমি বড় হয়েছি। সেখানে আমার গবেষণার সহযোগী ছিলেন সেসব নিরক্ষর কৃষক যাদের গায়ে লেগে থাকে বাংলার জল-কাদার গন্ধ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় দিনরাত আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের বুকে মিশে আছে ধর্ম ও বিজ্ঞান। এসব নিরক্ষর, সরলপ্রাণ, দেশপ্রেমিক কৃষককে সঙ্গে নিয়ে আমি বিশ্বকে উপহার দিতে চাই উৎপাদনের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞান। আমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমার আবিষ্কারকে ব্যবহার করতে চাই না। আমি চাই আমার এ আবিষ্কার দেশের মানুষের জীবনমান বদলে দিক। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক আমার মাতৃভ‚মির মানুষের জন্য।

 

 

দীর্ঘদিন ধরেই ধান নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মৌলভীবাজারের জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। সেই গবেষণার ফসল হিসেবে বোরো জাতের নতুন ধান গাছ উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি। প্রথমবারের মতো একবার একটি ধান গাছ রোপণ করে একই গাছ থেকে পাঁচবার ফলন পাওয়া গেছে। এখন তিনি কাজ করছেন আরও একবার, অর্থাৎ বছরে ছয়বার ফসল পাওয়া নিয়ে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের অর্থায়নে বিডিওএসএন-এর তত্ত¡াবধানে এক বছর মেয়াদি (আইভিইএমআরভিএম) প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ধানের এ জাতের চাষ করা হয়েছে। পরে ধানের এ বীজ কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

২০১০ সালে প্রথম তার নিজ উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের হাজী পুর গ্রামে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আবেদ চৌধুরী। পরে তিন বছরে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যায় নির্দিষ্ট ধরনের এ জাত একই গাছে পাঁচবার ফলন দিতে সক্ষম। স্থানীয় জাতের ধানের সঙ্গে উন্নত মানের ধানের বীজ সংকরায়ন করে এই উচ্চফলনশীল ধানের জাত পাওয়া যায়।

নতুন পঞ্চব্রিহি ধানের জাত বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে এখন ছড়িয়ে দেওয়ার উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদ চৌধুরী। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ধান তিনগুণ কম খরচে উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এ বিজ্ঞানী।

পঞ্চব্রিহি ধান চাষে প্রথমবার ১১০ দিন পর ফলন আসে। পরের ফলন আসে ৪৫ দিন অন্তর। একবার বোরো, দুবার আউশ ও দুবার আমন ধানের ফলন পাওয়া যাবে। পঞ্চব্রিহি ধান প্রথমবার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় চার টন। ধানের চারা প্রতি ৪ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়।

আবেদ চৌধুরী জানান, ঋতুনির্ভরতা ধানের হাজার বছরের চরিত্র। পঞ্চব্রিহি ধানকে ঋতুনির্ভরতা থেকে বের করে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এ ধান সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া এ ধান উৎপাদনে কৃষকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

কৃষিতে কীভাবে আয় বাড়ানো যায় এবং ব্যয় কমানো যায় তা নিয়ে আমি সারাক্ষণ চিন্তা করি। আমার চিন্তা ছিল জমিতে একবার ধান রোপণ করে একাধিকবার ফসল কাটব। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, বাড়বে আয়। আমি এই জিনিসটাই করতে চেয়েছি, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় আমি করতে পেরেছি।

 

 

সরেজমিনে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কৃষি উর্বর জেলা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ারা উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজী পুর গ্রামে গিয়ে খুঁজনিয়ে জানা যায়, দিগন্ত জোড়া আমন ফসলির মাঠের একাংশে প্রায় দুই বিঘা জমিতে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ ফসলি ধান। এই গ্রামের সন্তান জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী এই পাঁচ ফসলি ধানের উদ্ভাবক। অবিশ্বাস্যভাবেই এই ধান একবার রোপণের পর পাঁচবার কাটা যায়। বছরে এই ধান গাছ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচবার ফসল পাওয়া যায়।

আবেদ চৌধুরী আরও জানান, যে জাতগুলোর ধান পাকার পর কেটে নিয়ে গেলে আবার ধানের শীষ বের হয়, সেগুলো তিনি আলাদা করেন। এভাবে ১২টি জাত বের করেন। তিন বছর ধরে জাতগুলো চাষ করে দেখলেন, নিয়মিতভাবে এগুলো দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে। তারপর তিনি শুরু করেন একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা। চারটি জাত একই গাছ থেকে পাঁচবার ফলন দিচ্ছে। এই চারটি জাতের ওপর ১০ বছর ধরে চলছে গবেষণা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বোরো ধানের এই চারটি জাত দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করার পর ১১০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার উচ্চতার গাছে ফসল আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ওই ধান কেটে ফেলা হয়। মে মাসের প্রথম দিকে প্রথমবার কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে চার টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন অন্তর প্রতিটি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি কখনো দুই টন, কখনো তিন টন ফলন এসেছে। সব জাত হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফলন দিয়েছে। যেহেতু পাঁচবার চাষ হয় সেহেতু ‘পঞ্চব্রীহি’ নাম দিতে চাই। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আমার এলাকার নামেও দিতে পারি।

বছরের যে কোনো সময়ে এ ধান রোপণ করা যায়। এখন পরের ধাপগুলোতে কিছুটা কম উৎপাদন হচ্ছে। আমার চেষ্টা থাকবে, আরও বেশি ফলন বের করার। এ ধানের বীজ সংগ্রহ সহজ। কৃষকরা নিজেরাই তা করতে পারবেন। অন্য ধানের মতো বীজতলায় রোপণের পর চারা তুলে চাষ করতে হয়।

পঞ্চমবার ফলন দেওয়া ধান উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আবেদ চৌধুরী বলেন, এর আগে আমি অন্য ধানের জাত উদ্ভাবন করেছি। দুবার ফসল হয়, এমন ধানও উদ্ভাবন করেছিলাম; যাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া রাইস টুআইস বলেছে। আবার অনেকে জীবন বর্ধিত ধান বলেছে। এই প্রথম সারা বছর আমার অন্য আরেকটি ধানের জাত মাঠে থাকল। এ ধানের চারা ৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়। ফলে গাছটি মাটি থেকে ভালোভাবে শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং একটি ধান গাছ থেকে আরও বেশ কয়েকটি ধান গাছ গজাতে থাকে।

ড. আবেদ চৌধুরী একজন জিনগবেষক। একদল অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীর সঙ্গে তিনি ফিস (ইন্ডিপেনডেন্ট সিড) জিন আবিষ্কার করেন। তিনি লাল রঙের চাল ও রঙিন ভুট্টাও উদ্ভাবন করেছেন। তার ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধক রঙিন ভুট্টা বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন ও ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করছেন।

কুলাউড়ার কানিহাটি গ্রামের সন্তান আবেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরি নিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার জাতীয় গবেষণা সংস্থার প্রধান ধানবিজ্ঞানী হিসেবে ধানের জিন নিয়ে গবেষণা করে আবিষ্কার করেন এই “পঞ্চব্রীহি”।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT