1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
প্রসঙ্গ প্রয়াত জিয়াউর রহমান - মুক্তকথা
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

প্রসঙ্গ প্রয়াত জিয়াউর রহমান

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ২৪৩ পড়া হয়েছে

হারুনূর রশীদ।।

বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার চেনেল আই’তে বিবিসি প্রবাহের বাংলা অনুষ্ঠান দেখলাম। চারজন যুবক-যুবতিকে নিয়ে আজকের অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল। প্রথমে খুব উৎসাহ বোধ করিনি। পরে যখন বুঝলাম যে অনুষ্ঠানটি জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কি না এমন ধরনের একটি বিষয় নিয়ে পরিবেশিত হচ্ছে। তখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই দেখেছি। এই একটি বিষয় ছাড়া আমার কাছে অনুষ্ঠানের বাড়তি উপভোগ্য আর কিছু ছিল না।

যে চারজনের সাথে উপস্থাপিকা আলাপ-আলোচনা করলেন তারা খুব সম্ভবতঃ কোন না কোন মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। তাদের সাথে উপস্থাপিকার আলোচ্য বিষয় ছিল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বা ছিলেন না এমন ধরনের।

সচরাচর দূরদর্শনের আলাপ-আলোচনার মাত্রা যে আবহে থাকে এই আলোচনাটি তার ভেতরেই ছিল। আলোচনার ধারায় উল্লেখ করার মত তেমন কোন বৈশিষ্ট না থাকলেও প্রানবন্ত ছিল এটি বলতেই হয়। দুজন অংশগ্রহনকারীর কথা আমার কাছে বেশ মানানসই আর অবস্থানিষ্ঠ সত্য বলেই মনে হয়েছে। বাকী দু’জনের কথা সচরাচরের শুনা কথার সুর বলেই মনে হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানটি মানের দিক থেকে সাধুবাদ পেতে পারে।

আমার আলোচনার ক্ষেত্রটি ঠিক ওসব নিয়ে নয় বলতে পারছিনা কারণ জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কি-না এ জায়গাটিতেই আমার কিছু কথা।

প্রথমতঃ আমি নিজ কানে আজ অবদি কোথায়ও শুনিনি যে কেউ প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা নয় বলেছে। তার পরেও দেশের ১৭কোটি মানুষের মাঝে কেউ বললে বলতেও পারে। কিন্তু “বিবিসি প্রবাহ” অনুষ্ঠান এটিকে দূরদর্শনের একটি আলোচ্য বিষয় বলে গণ্য করে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসবে, যদিও আলোচনার অবস্থায় বুঝা গেছে যে বিষয়টি খুবই প্রাথমিক স্তরের; তবুও একটা সাজানো সাজানো গন্ধ আমার নাকে শুকেছি। সেই সাজানোটা কি উদ্দেশ্যে ঠিক এ মূহুর্তে আমি অনুমান করতে পারছিনা।

বিষয়টিকে আমি ভালভাবে দেখতাম যদি ‘বিবিসি প্রবাহ’ মুক্তিযুদ্ধে এবং তার পরেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করেছিল কি-না এমন ধরনের কথা দিয়ে সাজিয়ে নিতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের কোটি খানেক মানুষ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। তার থেকে কয়েক লক্ষ সরাসরি প্রশিক্ষন ও যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শরিক হয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে শরিক হলেই যে কোন একজন মুক্তিযোদ্ধার স্খলন ঘটবে না তা কেউ কখনও নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার যতটুকু দেখার, শুনার ও পড়ার সুযোগ হয়েছে অদ্যাবদি আমি জেনেছি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেছিলেন। সকল যুদ্ধেই সকল পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে এরূপ গুপ্তচর পোষে থাকে। জিয়াউর রহমান সেই কাজটি করার কাজে অন্তপ্রান ছিলেন। তার প্রমাণ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের পাশাপাশি একটি সামরিক পর্ষদ বা যুদ্ধ কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবক ছিলেন(‘মূলধারা একাত্তর’-বইখানাই এটি বুঝতে যথেষ্ঠ)। তিনি জেনারেল ওসমানির সামরিক নেতৃত্বের বিরুধীতা করেন এবং তাজ উদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধেও নিয়মনীতির বাহিরে গিয়ে নালায়েকের ব্যবহার পরিদর্শন করেন। এর পর কি তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন? তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না বরং পাকিস্তানী যোদ্ধা ছিলেন তার প্রমাণ তার স্বাধীনতা পরবর্তী কার্য্যকলাপ। এর পরও কি কেউ বলবে যে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?
লন্ডন: রোববার, ২রা পৌষ ১৪২৩

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT