1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সপ্তনদীকুলের মানুষের আবেদন - মুক্তকথা
বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সপ্তনদীকুলের মানুষের আবেদন

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৪৩৪ পড়া হয়েছে
মনু-কুশিয়ারা উপত্যকার মানুষের দাবী-দাওয়া

আমাদের প্রধানমন্ত্রী, জাতির আশা-ভরসার সর্বোচ্চ স্তরের অন্যতম হিতাকাঙ্খী, জাতীয় উন্নয়নের পথপ্রদর্শক, জনদরদী দৃঢ়চিত্তের বিদুষী জননেত্রী দেশমাতৃকার গর্বিত কন্যা স্বনামে ধন্য জাতির জনকের তনয়া মহিয়সী নেত্রী শেখ হাসিনা সমীপে-

পেছনে পড়ে থাকা আমরা মৌলভীবাজারের মানুষজনের আকুল আবেদন-

হে জাতির কর্ণধার,


শ্বাশত কাল ধরে মনু বাহিত জলধারায় আমরা যারা উজ্জীবিত, যে পলিল মাটির পড়তে পড়তে রয়েছে লক্ষ বছরের ইতিহাস, যেখান থেকে শুরু হয়েছে আমাদের জীবনের পথচলা, সেই দক্ষিণ সিলেট বা মলইবাজারের(পরবর্তীতে মৌলভীবাজার) আয়তন প্রায় ২৭৯৯ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে খুব বিস্তৃত না হলেও আমাদের এ ভুমি প্রকৃতির অফুরান দানে ভরপুর।  ক্ষুদ্র হলেও  এ টুকুন মাটিই মহাপূণ্যময় আমাদের পবিত্র জন্মভূমি। মৌলভীবাজার জেলাকে চায়ের রাজধানী বলে অবিহিত করা হয়। তিনদিকে পাহাড় ও একদিকে উদার খোলা হাওরের সৌরভে মোহিত হয়ে এ এলাকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে। প্রকৃতির অফুরান সম্পদে ভরপুর অযুত-লক্ষ মানুষের বিভিন্নমুখী কর্মপ্রচেষ্টায় গড়ে উঠা আমাদের এ পবিত্র মাটির পরতে পরতে রয়েছে কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনচেতা বহু মানুষের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস। আমাদের পবিত্র এ মাটিতে পা রেখেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ বহু জ্ঞানীগুণিজন।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে প্রায় ২৫লাখ মানুষের আবাসভূমি আমাদের মৌলভীবাজার তার ন্যায্য দাবীদাওয়ার খাতে খুবই অবহেলিত এক সংকটময় সময় কাটাচ্ছে। অর্ধ শতাব্দী সময় চলে গেছে আমাদের পবিত্র মাতৃভূমি স্বাধীনতা লাভ করেছে। দীর্ঘ এ সময়ে মৌলভীবাজার শুধু জেলার গৌরব অর্জন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোন উন্নয়নের স্বাদ পায়নি। উন্নয়নের কিছুই হয়নি এমন কথা আমরা বলছি না। তবে স্বাধীনতার পর যেসব উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তার বহু কিছুই যে এখনও হয়নি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

অতীতের পাকিস্তানী আমল থেকেই মৌলভীবাজারে রেল সংযোগের দাবী উঠেছে বার বার কিন্তু আজো তার কোন লক্ষনই দেখা যায়নি। অথচ অতি অল্প খরচে শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ কিংবা শমশেরনগর থেকে মৌলভীবাজারের সাথে রেলসংযোগ স্থাপন কোনভাবেই কঠিন কোন কাজ নয়। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এমন সংযোগ অলাভজনক হবার নয়। আমরা দাবী করবো সরকার এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহন করবেন এবং অবশ্যই বিলম্ব না করে। কিছুটা হাস্যকর হলেও বলে রাখা উচিৎ যে মৌলভীবাজারকে পর্যটননগরী হিসেবে ডাকা হয়। পর্যটন নগরী বলে ডাকা হলেও আজও মাধবকুণ্ড বা হাম হাম জলপ্রপাতে নির্বিবাদে ভ্রমণকারীদের যোগাযোগের কোন নিরাপদ ব্যবস্থাই হয়নি। থাকার নিচ্ছিদ্র নিরাপদ সুব্যবস্থা সুদূর পরাহত!


সরকারী হিসেব থেকেই আমরা জানি, আমাদের পাকারাস্তার পরিমান মাত্র ৭৩৮.৩৫ কিলোমিটার, যেখানে কাঁচা রাস্তার পরিমান ২,৬৭৫ কিলোমিটার(২০১১সালের হিসাব)। স্বাধীনতার ৫০ বছর চলে গেছে আজো মিরপুর থেকে সাতগাঁও-শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজার-রাজনগর-ফেঞ্চুগঞ্জ- সিলেট রাস্তা পূর্ণমানের ‘হাইওয়ে’ হিসেবে নির্মিত হয়নি।

আমাদের খাস জমির পরিমান ৩৫,১০০.৪৯ একর। এরপরও স্থানের অভাবে জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর অন্যত্র চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

মৌলভীবাজারে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে আমরা স্থানীয়গন ও প্রবাসীরা অনেক দিন যাবৎ আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু আজ অবদি তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান অবস্থায় মেডিকেল কলেজ ও মৌলভীবাজার মহাবিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন আমাদের জেলার উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া মনু নদীর ওপারে অতীব জনবহুল ছয়টি গ্রাম। সেই দক্ষিণ সিলেটের জন্মেরও আগ থেকে শহর যখন এখানে গড়ে উঠে তখন থেকেই এই ছয় গাঁয়ের মানুষজন শহরের সকল কাজে গাছের লতার মত জড়িয়ে আছেন শতাব্দীকাল ধরে। এই বাজার বা শহরই তাদের সকল লেন-দেন, আশা-ভরসার উৎস। তাদের উত্তরসূরী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের লেখা-পড়া থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য তথা জীবন-জীবীকা সবকিছুর অমৃত জল হলো এই মৌলভীবাজার শহর।

সময়ের বাস্তব অবস্থা থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সাবিয়া, বলিয়ারভাগ, বালিকান্দি, গদাধর, মুরুজপুর আর ঢেউপাশা গ্রামের প্রায় বারো হাজার মানুষ নিবেদিত হয়ে বাজারের এখানে মনুনদীর উপর একখানা সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজ অবদি সবেধন নিলমণি আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।

আমাদের সকলেরই জানা যে, মনু, ধলাই, সোনাই, ফানাই, কন্ঠিনালা, জুড়ি ও বিলাস নদী নামে আমাদের ৭টি নদী রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের এ নদীগুলোর বিগত হাজার বছরেও কোন খননকাজ হয়নি। ফলে প্রকৃতির দান আমাদের সৌভাগ্য বলে খ্যাত এ নদীগুলি ভরাট হয়ে গিয়ে এখন দুঃখে পরিণত হয়েছে।

মাত্র ১৭০ মাইল জলপথের এ নদীগুলোর আশু খনন অতীব প্রয়োজন। বিশ্বস্ত মহল থেকে শুনা কথা, সম্প্রতি মনু-ধলাই খননের জন্য সরকার থেকে ১০০০ কোটীরও বেশী অর্থ বরাদ্ধ করা হয়েছিল কিন্তু নদী খননের তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কাজ সাধারণ মানুষের কাছে আজও দৃশ্যমান হয়নি।



হাকালুকি, কাউয়া দিঘী ও হাইল হাওর আমাদের এ তিনটি হাওর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ভূমি লুটেরাদের খপ্পরে পড়ে। বন্দোবস্তের নামে হাইল হাওর নামের প্রকৃতির আশীর্ব্বাদ এ জলাধার টিকে থাকতে পারবে কি-না বর্তমানে তা প্রশ্নের সন্মুখীন।

আজো আমাদের সমশের নগর বিমান বন্দর চালু হয়নি। পূর্ণ সরকারী উদ্যোগে এ বিমানবন্দর চালু হলে যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি বহু বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হতো। জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হতো।

আমাদের ৯২টি চা-বাগান, বছরে ৩কোটি ২০লাখ ৫১হাজার ৫০০কেজি চা উৎপাদন করে আসছে বিগত শতাব্দী ধরে। অথচ এ শিল্পের রক্তপ্রবাহ যারা বংশ পরম্পরায় রক্ষা করে আসছে সেই চা-শ্রমিকগন উপযুক্ত পারিশ্রমিক পায় না। তারা এখনও মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভাটেরা গ্যাসফিল্ড ও কালাপুরের ইউনিকল চালিত গ্যাস ফিল্ড, দু দু’টি গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন অবস্থা কিংবা কোন অবস্থায় আছে, আমরাই কি পাচ্ছি আর জাতীই বা কি পাচ্ছে তার বিষয়ে কেউ জানে না।

দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রান হে বিদুষী জননেত্রী-

আমরা জানি তোমার দুরদর্শী চিন্তার ফসল হিসেবে আমরা বৃহত্তর সিলেটের মানুষজন মৌলভীবাজারের শেরপুরে একটি ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল’ পেয়েছি। এখানে কাজও শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৪ সালে এখানে উৎপাদনকাজ শুরু হবার কথা।আমাদের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।

তাই মহামান্য বঙ্গকন্যা সমীপে আমরা প্রবাসীদের সবিনয় আবেদন আমাদের বাস্তবসম্মত প্রাণের এই দাবীগুলো, তোমার সুহৃদ উদার মনের পরষ পেলে আমরা দুর্ভাগা এ জনগুষ্ঠির ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে অমৃতের মত, সমৃদ্ধ হবে আমাদের জনপদ, স্তুতিপাঠ করবে মানুষ তোমার নামে।

বিনয়ের সাথে-

যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৌলভীবাজারবাসীগনের পক্ষে-
মুক্তিযোদ্ধা
উকিল হারুনূর রশীদ,
সম্পাদক মুক্তকথা,
সভাপতি যুক্তরাজ্য জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল,

লণ্ডন, যুক্তরাজ্য।

 

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT