1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
বিশ্বাস করেন আর না করেন ইতিহাস তাই বলে - মুক্তকথা
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

বিশ্বাস করেন আর না করেন ইতিহাস তাই বলে

বিশেষ নিবন্ধ
  • প্রকাশকাল : শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০২৩
  • ৬৩৬ পড়া হয়েছে

কে সে বিচারপতি যার কারণ জাপান সভ্য জাতি গঠনে মনোযোগী হয়

আমরা জানি জাপান একটি সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র। তবে এটা কি জানেন জাপানের এই উন্নতি ও সভ্য জাতি গঠনের পেছনে কার সহযোগিতা ছিলো।

সময়টা ছিলো ১৯৩৭ সাল দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আগে এই দুই দেশে তুমুল যুদ্ধে চলছিলো। সভ্যতার পর থেকে পৃথিবীতে যতগুলো যুদ্ধ ঘটেছিলো সেগুলোর মধ্যে অন্যতম এই দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ। পুরো নয় বছর এই যুদ্ধ স্থায়ী ছিলো। ১৯৩৭ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে। ভয়াবহ এ যুদ্ধ প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রাণ হারায়।

দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সূচনা লুকিয়ে আছে প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধে, যা ঘটেছিলো ১৮৯৪-৯৫ সনে। সে সময় কুইং বংশের অধীনে চীন ছিলো। তখন জাপানের কাছে চীন পরাজিত হয়ে তাইওয়ান ছেড়ে দিতে এবং কোরিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। সেই সাথে কুইং বংশের পতন ঘটে এবং চীনে অনেক সামন্ত রাজার উত্থান ঘটে। পুরো চীনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে জাপান সাম্রাজ্য আধুনিক ও শক্তিশালী হতে থাকে। চীনের বিভিন্ন এলাকায় জাপান তার অধিকার সৃষ্টি করে। ১৯২০-৩০ দশকে চিয়াং কাই শেক(প্রাক্তন চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্টপতি) চীনের কমিউনিস্টদের সাথে যুদ্ধ শুরু করেন এবং সামন্ত রাজাদের পরাজিত করতে থাকেন। পরিস্থিতি যে ভয়াবহ হতে চলেছে তা বুঝতে পেরে জাপান ১৯৩২ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া প্রদেশ নিজেদের দখলে নেয়। ১৯৩৭ সালের ৭ জুলাই চীনের সঙ্গে জাপানের সরাসরি যুদ্ধ ঘটে। তখন তৎকালীন চীনের রাজধানী নানকিং এর পতন ঘটে। পতনের পরে সেখানে জাপানিজ সৈন্যরা অমানবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ চালায়।

পরবর্তীতে এই যুদ্ধের উপর তৈরী হয় “দা ফ্লাওয়ারস অব ওয়ার্স” নামের মুভি। এরপরে বিশ্ববাসীর কাছে জাপানের দূরাবস্থার কথা আর অজানা নয়। তারা যেমন মরেছে তেমনি মেরেছে। ধারণা করা হয় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর জাপান যুদ্ধ ছেড়ে সভ্য জাতি গঠনে মনোযোগী হয়ে উঠে।

৮ শত পৃষ্ঠার বিচক্ষণ রায়ের মাধ্যমে জাপানকে যুদ্ধাপরাধ এর অভিযোগ থেকে মুক্ত করেছিলেন

সভ্য জাতি গঠনে জাপানিরা আজীবন কৃতজ্ঞ আমাদের দেশের কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া বিচারপতি ডঃ রাধা বিনোদ পালের কাছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৬-১৯৪৮ সন পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরে জাপানকে নানচিং গণহত্যা ও দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধে চীনাদের উপর জাপানি সেনার দীর্ঘ কয়েক দশকের নৃশংসতার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে যে বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়, তিনি ছিলেন সেই আদালতের অন্যতম বিচারপতি। তিনি তার ৮ শত পৃষ্ঠার বিচক্ষণ রায়ের মাধ্যমে জাপানকে যুদ্ধাপরাধ এর অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন। পরে এ রায়ই বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক রায়ের মর্যাদা লাভ করে।

সভ্য জাতি গঠনের সুযোগ কখনো হতো না

তার এ রায় জাপানকে সহিংসতার দীর্ঘ রীতিনীতি ত্যাগ করে সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের মনোনিবেশে প্রধান সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কারণ জাপানকে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে মিত্রপক্ষ ও অন্য বিচারকরা জাপানের ওপর যে বিশাল ক্ষতিপূরণের জরিমানা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো তা পূরণ করতে এখনো পযর্ন্ত তার ঘানি টানতে হত জাপানকে। এই ক্ষতিপূরণের বোঝা টানতে টানতে সভ্য জাতি গঠনের সুযোগ কখনো পেতো না জাপানিরা।

আর এই সেই বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল যার জন্য জাপান আজ উন্নত সুসভ্য জাতি

ডঃ রাধাবিনোদ পাল একজন বাঙালি আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন। জাপানের ইতিহাসে তার নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। জাপানের টৌকিও শহরে তার নামে জাদুঘর, সড়ক, মূর্তি রয়েছে। জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিসার্চ সেন্টার রয়েছে তার নামে।
তার জন্ম ২৭ জানুয়ারি ১৮৮৬ সনে ব্রিটিশ ভারত(বতর্মান বাংলাদেশ) অন্তর্গত কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মৌজা সালিকপুরের অধীন তারাগুনিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে। এলাকাটি এখন জজপাড়া নামে পরিচিত। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১০ জানুয়ারী ১৯৬৭ কলকাতায়।

তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। তৎকালীন নদিয়া জেলার(বর্তমান কুষ্টিয়া) তারাগুনিয়া এল.পি স্কুলে(বর্তমানে তারাগুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়)ও পরে কুষ্টিয়া হাই স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯২০ সালে ইন্টারমিডিয়েটে আইন স্নাতকোত্তর ও ১৯২৫ সালে আইনে ডক্টরেট সনদ লাভ করেন।

১৯১৯-২০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তার কর্মজীবনের শুরু। ১৯২৫-১৯৩০ মেয়াদে এবং পরবর্তীতে ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অধ্যাপনা করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বিচারপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দ্বায়িত্বও পালন করেন।

জাপান হবে বাংলার চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু

এই প্রতিভাবান বাঙালিকে চিনে এমন ব্যক্তি কমই আছে। যার কারণে আজ জাপান আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। তৎকালীন জাপান সম্রাট হিরোহিতো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন “যতদিন জাপান থাকবে বাংলা খাদ্যাভাবে ও অর্থ কষ্টে মরবে না। জাপান হবে বাংলার চিরকালের নিরসার্থ বন্ধু।” কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া এই বিচারপতির নাম এখনো জাপানের পাঠ্য বইয়ে লেখা আছে। জাপান যেমন বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের কাছে চিরকৃতজ্ঞ আমরাও তার কাছে কৃতজ্ঞ।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT