1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মুজিব - মুক্তকথা
বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মুজিব

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৪৪৯ পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার

একাত্তুরের রনাঙ্গনের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা
এসএ মুজিব এর সাথে কিছুক্ষন

আমিনুর রশীদ বাবর ও আব্দুল ওয়াদুদ।। মৌলভীবাজার: মঙ্গলবার ৪ঠা পৌষ ১৪২৩।।
নিজেকে একান্ত আলাপচারিতায় রনাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএ মুজিব বলেন, মুলতঃ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন এবং আমার বিবেকের তাড়না থেকে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করি। বিজয়ের এ মাসে মহান এই মুক্তিযোদ্ধার মুখোমুখি হলে তিনি এ কথা গুলো বলেন।

এক দুপুরে সাপ্তাহিক মুক্তকথা কার্যালয়ে  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয় তার সাথে। আমরা তখন জানতে চাই সেই সময়ের রনাঙ্গনের কথা।

এসএ মুজিব বলেন, আমি তখন এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলাম। ওই সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল মৌলভীবাজারের পিটিআই। আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য ওই ক্যাম্পে আসি। তখন দিনটি ছিল ৭১ এর ১৭ ই এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করার জন্য ওখানে বাছাই করে আমাকে সহ ১২৫জনকে মনোনিত করে জেলার বড়লেখা উপজেলার লাঠিটিলায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন আমাদেরকে ভারতের চাতলাপুর সীমান্ত হয়ে বিএসএফ ক্যাম্পের পেচারতলে পাঠানো হয়। ওখানে বিএসএফ- ৮৪ আমাদের গ্রহন করে। ওখানকার ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার মেজর সুরৎসিং ও সুবেদার মেজর হাজারিকা আমাদের ২ মাস সাময়ীক প্রশিক্ষণ দেন। তিনি বলেন, ওই সময়ে প্রশিক্ষণের জন্য আমরা কোন অস্ত্র পাইনি। বিএসএফ-এর কাছে থাকা  অস্ত্র দিয়েই আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। মুজিব বলেন, একদিন খবর পেলাম পেচারতল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে বড়লেখার ছুটলেখা চা বাগান লাগুয়া এলাকায় পাকবাহিনী  ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

খবর পেয়ে আমরা উদগ্রীব হয়ে উঠি ওই ক্যাম্প ধ্বংশ করার জন্য। তখন ক্যাম্প ইনচার্জ এর কাছে অনুমতি চাই। ক্যাম্প ইনচার্জ অনুমতি না দিয়ে বললেন খালি হাতে তোমরা কিভাবে যুদ্ধ করবে? আমরা তখন অস্ত্র চাইলাম। ক্যাম্প ইনচার্জ বললেন অস্ত্র দেয়া যাবেনা। এ অবস্থায় আমরা উতলা হয়ে উঠলাম যেভাবেই হোক ওই ক্যাম্প ধ্বংশ করতেই হবে। শেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আগুন দিয়ে পাকবাহিনীর ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেবো। সিদ্ধান্ত নিয়েই আমরা বিএসএফকে বললাম অস্ত্র দিতে না পারলে আমাদের পেট্রল ও দিয়াশলাই দেয়া হোক। আমরা আগুন লাগিয়ে ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেবো। আমাদের পিড়াপিড়িতে বিএসএফ সম্মত হয় এবং পেট্রল ও দিয়াশলাই দেয়। ওই সময় গভীর রাতে আমরা পেট্রল ও দিয়াশলাই নিয়ে পাকবাহিনীর ক্যাম্পের চারদিকে ছিটিয়ে দিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আগুন ধরিয়ে স্থান ত্যাগ করি।

আমাদের দেয়া আগুনে ক্যাম্প সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয় এবং হানাদার বাহিনী ওখান থেকে পালিয়ে যায়। আমাদের এই অধম্য সাহস দেখে বিএসএফ স্তম্ভিত হয়ে আরো উৎসাহিত করে। এটাই ছিল আমার প্রথম এবং স্বার্থক অভিযান। আমাদের এই অধম্য সাহস ও দেশ প্রেম দেখে বিএসএফ নিশ্চিত হয় যে আমরা এই দেশ স্বাধীন করতে পারবো। এর পর সেতু ও স্থাপনা ধ্বংশ করার জন্য আমাদের দেড় মাসের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ভারতের হাফলংয়ে। ওখানে রনাঙ্গনের আরেক বীর মুক্তিযুদ্ধা হারুনুর রশীদ এর সাথে সাক্ষাৎ হয়। এই প্রশিক্ষণকে সামরিক ভাষায় বলে “এক্সক্লোসিভ ট্রেনিং”।

একাত্তুর সালের জুন মাসের শেষের দিকে ছোটলেখা চা বাগান ও বড়লেখার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী একটি সেতু ধ্বংশ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। কারণ এই সেতু দিয়ে হানাদার বাহিনী ছোটলেখা বাগানে পাহারা দেয় যাতে মুক্তিসেনা এখানে আসতে না পারে। সেতুটি ধ্বংশ না করতে পারলে আমরা দেশের ভিতর ঢুকতে পারবোনা। এই গুরুত্ব অনুধাবন করে বিএসএফ ইনচার্জ নির্দেশ দেন এই সেতু ধ্বংস করার জন্য। এই অপারেশনের জন্য আমাদের থেকে ২২জনকে বাছাই করা হয়। এই ২২জনের কমান্ডার ছিলাম আমি। আক্রমনের সময় রাতে আমার টিম নিয়ে পাহাড়ের উপত্যকা দিয়ে সন্তরপনে রওয়ানা দেই। রাত প্রায় ১০টায় বাগানের বাংলোর কাছে আসা মাত্র হানাদার বাহিনী আমাদের উপর আচমকা গুলিবর্ষন শুরু করে। সাথে সাথে পজিশন নিয়ে আমরাও পাল্টা গুলি ছুড়ি। গুলি বর্ষণের একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে পিছু হঠে ছাউনিতে ফিরে যাই।

পরের দিন ভোর রাতে বীর প্রতীক মাহবুবুর রব ছাদির নেতৃত্বে আবার আমরা ওই সেতু ধ্বংশ করতে যাই। এবং সফলভাবে সেতু ধ্বংস করে ফিরে এসে বাংলো ঘেরাউ করে গুলি ছুড়তে থাকি। কিন্তু অপরপ্রান্ত থেকে কোন সাড়া না পেয়ে গুলি ছুড়া বন্ধ করি। ইতিমধ্যে ফজরের আযান হয়ে গেলে চারদিক আলোকিত হয়ে যায়। এসময় একজন চা শ্রমিককে জিজ্ঞেস করি পাকবাহিনী কোথায় আছে। সে জানায় গত রাতে মুক্তিবাহিনীর সাথে গুলোগুলিতে পাকবাহনীর ৩/৪জন সদস্য মারা যায়, রাতেই তারা বাংলো থেকে পালিয়ে যায়। এ অভিযান শেষ করে আবার ভারতে চলে যাই। দেশে আসার আগে চাতলাপুর সিমান্তে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সাথে সাক্ষাত হয়। এর পর দেশে আসার সময় ভারতের খুয়াই শহর হয়ে বাল্লা সীমান্তে মেজর জিয়াউর রহমানের সাথেও সাক্ষাৎ হয়। দেশ শত্রুমুক্ত হবার পর ১০ ডিসেম্বর আবার দেশে ফিরে আসি। উল্লেখ্য, আমার সকল অভিযানের সহযোদ্ধারা হলেন-সদর উপজেলার কনকপুরের ইখতিয়ার উদ্দিন, হারুন মিয়া, জামাল উদ্দিন, আঙ্গুর মিয়া, মুসলিম আলী, ইয়ারুফ মিয়া, মিয়া খাঁ, কামরুজ্জামান, আব্দুল বাছিত, রাজনগেরর আছকির খাঁন, মালিক মিয়া, ময়নু বকস, দুরুদ মিয়া ও জিনারপুরের দেওয়ান আবুল খয়ের চৌধুরী।

এসএম মুজিব। ৭১’ এর রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। যিনি যৌবনে পদার্পণের সময় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে তুলেন নিজেকে। ৬৩ বছর বয়সী এসএম মুজিব মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের গয়ঘর গ্রামের মরহুম মোঃ মফিজ এর পুত্র। ১৯৭৩ ইংরেজিতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। পরে ওই কলেজে স্নাতক শ্রেনীতে পড়াশোনা শুরু করে শেষ করতে পারেননি। ১৯৭৫ সনের ১৭ই সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে পরবর্তীতে তিনি কারাগারে যান। বর্তমানে তিনি ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT