1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
সিলেটের গুণী শিল্পী ইয়ারুন্নেছাকে কি আমরা ভুলেই গেলাম - মুক্তকথা
রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

সিলেটের গুণী শিল্পী ইয়ারুন্নেছাকে কি আমরা ভুলেই গেলাম

আজিমুল রাজা চৌধুরী
  • প্রকাশকাল : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ৭৩১ পড়া হয়েছে

আজিমুল রাজা চৌধুরী

‘নয়া দামান’ গান নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার শুরু থেকেই দুইজন গুণী নারীর নাম অধিকাংশ মানুষের লিখায় বা বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। কিন্তু তাদের ব্যাপারে তেমন কোন ব্যাপক লিখা বা মন্তব্য আমার নজরে পড়েনি। তাই আমি পূর্বের একটি লিখায় তাদের একজন শ্রীমতি দিব্যময়ী দাশ সম্পর্কে সামান্য কিছু লিখেছিলাম আজ দ্বিতীয়জন শিল্পী ইয়ারুন্নেসা খানম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু লিখতেছি।

সিলেট বেতারের প্রথম সারির তালিকাভুক্ত শিল্পীদের অন্যতম শিল্পী ছিলেন মোছাঃ ইয়ারুন্নেসা খানম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সিলেটি লোকগানকে যে কয়জন শিল্পী দেশ বিদেশে তাদের কন্ঠের যাদুতে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন শিল্পী ছিলেন ইয়ারুন্নেসা খানম।
সিলেটি বিয়ের গান,হাসন রাজার গান,প্রাচীন লোকগীতিতে তাঁর অবদান চিরস্বরণীয় হয়ে আছে।
তিনি যেই সময়ে সংগীতে এসেছেন সেই সময়ে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মুসলিম মহিলারা ঘরোয়া পরিবেশে গান গাইলেও বাহিরে মুক্তমঞ্চে গান গাইবার সাহস করতো না। এমনকি ইয়ারুন্নেসা খানমের পরিবারও ছিলো রক্ষণশীল মুসলিম পরিবার। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে ইয়ারুন্নেসা খানম মুসলিম মহিলা শিল্পী হিসেবে সিলেটে দাপটের সাথে নিজের প্রতিভার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন সংগীত অঙ্গনে।

সিলেট শহরের শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘বসু মঞ্জিলে’ আনুমানিক ১৯৪৯ সালে ইয়ারুন্নেসা খানম জন্মগ্রহন করেন।

তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার নাম সৈয়দ বশিরুজ্জামান বসু মিয়া।

দশ ভাইবোনের মধ্যে ইয়ারুন্নেসা খানম ছিলেন সবার ছোটো। ।অত্যান্ত মেধাবী এই শিল্পী ১৯৬৫ সালে মেট্রিক পরিক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন।

সেই সময় টিলাগড়ের পাশেই সিলেট বেতারের সূচনা হয়। পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে সিলেট বেতার যাত্রা শুরু না করলেও ১৯৬৭ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে বেতার।তখন কয়েক মাস কেবল সংগীত প্রচারিত হত। পরবর্তীতে অন্যান্য অনুষ্ঠান যুক্ত হয়।

১৯৬৭ সালে ইয়ারুন্নেসা খানম সিলেট বেতারের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন শুরু করেন। তিনি বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। ইয়ারুন্নেসা খানম কেবল দেশের মাটিতেই সংগীত প্রচার বা পরিবেশনে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাঙালি সংগীত পরিবেশন করে আমাদের দেশের লোকসংগীতের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বহুবার বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী শিল্পী হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই গুণী শিল্পী।

লন্ডনের অ্যালবার্ট হলে রাষ্ট্রীয় এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে সংগীত পরিবেশন করেন ইয়ারুন্নেসা খানম। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।রাণী তাকে রূপার কারুকাজ করা একটি শাড়ি উপহার দিয়েছিলেন।

অর্থ, বিত্ত, যশ, খ্যাতি কোন কিছুর কমতি ছিলো না ইয়ারুন্নেসা খানমের। ওঁনাকে একনজর দেখার জন্য বাসার সামনে(শিবগঞ্জ বসু মঞ্জিলে) ওঁনার গানের ভক্তবৃন্দরা দাঁড়িয়ে থাকতো।

শিল্পী ইয়ারুন্নেসা খানম ছিলেন তৎকালীন মহিলা শিল্পীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত। তিনি অনরগল ইংরেজীতে কথা বলতেন এবং আরো অনেক ভাষায় পারদর্শি ছিলেন।
যেমন কন্ঠ তেমন রূপ তেমন রাগ ছিলো তাঁর।
উনার গানের সাথে সবাই বাজনা বাজানোর সাহস করতো না। কারন বাজনায় সামান্য তাল বা লয়ের ভুল হলেই রেগে যেতেন। তাই অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ লোকরাই উনার সাথে বাজনায় যুক্ত থাকতো।
একজন স্পষ্টভাষী শিল্পী হিসেবে তিনি অদ্বিতীয়। কাউকে ভয় পেতেন না। সত্য যেকোন কারো বিরুদ্ধে গেলেও সরাসরি বলার ক্ষমতা রাখতেন। অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ করতেন না।
তাঁর ব্যাপারে স্মৃতিচারণে একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকসংগীত শিল্পী সুষমা দাশ বলেন “ইয়ারুন্নেসাকে আমরা পংঙ্খি নামেই ডাকতাম। আমার ছোট ভাই রামকানাই দাশের কাছে পংঙ্খি গান শিখতো। তখন তাকে প্রথম দেখি। অপূর্ব সুরেলা কন্ঠ ও সুন্দরি ছিলো। ওর মতো সাহসী শিল্পী খুব কম দেখেছি। আমাকে পিসি ডাকতো। সর্বশেষ পংঙ্খির সাথে দেখা সিলেট বেতারে প্রায় ৭-৮ বছর আগে হবে। আমাকে বেতারে পেয়ে জড়িয়ে ধরে বললো পিসি আমার বাসায় কোনদিন যাইবায়। অনেক সুপারি গাছ আছে। যত ইচ্ছা সুপারি খাইবায়। তখন একটি কাগজ বের করে ওর ফোন নাম্বার দিয়ে গেল এবং বললো পিসি ফ্রি হলে আমারে ফোন দিয়েন আমি আপনার বাসায় গাড়ি পাঠিয়ে দিবো আপনি আমার বাসায় চলে আসবেন। কিছুদিন থেকে যাবেন। এটাই ছিল শেষ দেখা শেষ কথা। ওইদিন বেতারে পংঙ্খি একটি গান করেছিল
‘ওরে বন্ধু কালাচান তোর লাইগা গেল কুলমান’।
পংঙ্খির মতো এতো গুণী শিল্পী পৃথিবীতে কমই আসবে।”

নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই গুণী শিল্পী সম্পর্কে জানার সুযোগ তেমনভাবে পায়নি কিন্তু যাদের বয়স ৪০ বা ৫০ ঊর্ধ্ব তাদের কানে এখনো ভাসে ইয়ারুন্নেসা খানমের সুরেলা কন্ঠ।

অপ্রকাশিত দুঃখ নিয়ে এই গুণী শিল্পী শেষ জীবনে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। তিনি যখন খুব বেশী অসুস্থ তখন আপসোস করে বলেছিলেন-
“এই সংগীতভুবনে আমি এতোটা সময় দিলাম অথচ আজ আমার খোঁজখবর কয়জন নেয়? আমার গাওয়া গানকে ওনেকে তাদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এগুলো শুনে খুব কষ্ট পাই। এবার সুস্থ হলে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।”

তবে তিনি আর পুরোপুরি সুস্থ হন নি। সকল রাগ মনের মধ্যে নিয়ে চলে গেছেন চিরকালের জন্য। ১৬ জানুয়ারী ২০২০ সালে সিলেট আখালিয়াস্থ নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী শিল্পী।

এখন যেই রকম শিল্পী ইয়ারুন্নেসা খানম নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে তিনি বেঁচে থাকাকালীন সেটা তেমন হয় নি। সিলেট বেতারে যিনি এতো এতো গান গাইলেন সেই বেতার কতৃপক্ষ ওঁনার স্মৃতিগুলো ধরে রাখার জন্য কি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করবেন? আমরা জানি না। কষ্ট লাগে এতো গুণী শিল্পী অথচ রাষ্ট্রীয় পদক পান নি।

আমাদের রাষ্ট্রের কাছে দাবী কেন তুলতে হবে৷ এটাতো রাষ্ট্রের দ্বায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সংগীতজ্ঞ বিদিত লাল দাশ, চন্দ্রাবতী রায় বর্মন, ইয়ারুন্নেসা খানম, ক্বারী আমিরউদ্দিন সাহেব সংগীতে রাষ্ট্রীয় পদক পাওয়ার জন্য সর্ব্বোচ্চ যোগ্য।

তিনজন জীবিত থাকাকালীন পাননি একজন বেঁচে আছেন।
যদি তাঁদের সম্মানীত করা হয় তবে রাষ্ট্রের দায় মোচন হবে।
তবে গুণীজনরা এইসব পদকের ধার ধারেন না। এটাও সত্য।
এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT