1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
‘হোন্ডা’ বাংলাদেশে কারখানা করবে! - মুক্তকথা
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন

‘হোন্ডা’ বাংলাদেশে কারখানা করবে!

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৬
  • ৪৪৬ পড়া হয়েছে

BL26_BANGLA_2985907dমুক্তকথা: শনিবার ২৭শে আগষ্ট ২০১৬।। গত একদশকে ভারতের অর্জন উল্লেখযোগ্য। প্রথমতঃ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংগ্রামরত মানুষের সহিংষতা আগের সকল সময়ের চেয়ে এখন সর্বনিম্নে রয়েছে। দ্বিতীয়তঃ উপ-আঞ্চলিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশকে মধ্যমণি রেখে এর অগ্রগতি দ্রুত মাত্রায় লক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের এই সম্পর্ক ও সহযোগীতার ভবিষ্যত অত্রাঞ্চলে এক স্বর্ণযুগের সূচনা করবে। ভারতের “বিজনেস লাইন” সংবাদ মাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এভাবেই বললেন।

তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যে যানচলাচল চুক্তির খসড়া তৈরী হয়ে আছে। পরীক্ষামূলক চলাচল বেশ আগ থেকেই শুরু হয়ে গেছে। ভূটান, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া ও নেপাল সংক্ষেপে “বিবিআইএন” উপদলের মধ্যে যাতায়াত সুবিধা বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যান চলাচল আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। সহযোগীতার অন্যান্য দিক যেমন, বিদ্যুৎ, নদীসংক্রান্ত, অখন্ড সীমান্ত চৌকি, সুসংহত স্থায়ীকাঠামো, রেলওয়ে সংযোগের পুণঃসংস্কার প্রভৃতি, এসব কিছুই এগিয়ে যাচ্ছে। মটরযান চলাচল পদ্ধতি চূড়ান্তকরণের জন্য আমরা ভূটানের অপেক্ষায় আছি। এ বছরই এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমি আশাবাদী। এই ফাঁকে আমরা বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অখন্ড সীমান্ত চৌকিগুলো স্থাপন করে নিচ্ছি। ৩টি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। আরেকটি অতি শীঘ্রই চালু হবে।

Unknown-2তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে ১৯৬৫ সালে বন্ধ করে দেয়া ৬টি রেলওয়ে সংযোগকে পুনঃস্থাপনের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই উৎসাহী। আমরা আশা করি আগামী বছরের মাঝামাঝি এ কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারবো। চট্টগ্রাম নৌবন্দরের সাথে যোগাযোগের প্রশ্নে ইতিবাচক জবাব দিয়ে জনাব আলী বলেন যে জলপথের চলাচলকে কার্য্যকরী করার জন্য জাহাজ যোগাযোগের স্থায়ী কাঠামো এখনও প্রস্তুত হতে পারেনি তাই এখনও হয়ে উঠেনি। নেপাল ও ভূটানও চায় তাদের কিছু কারগো কলকাতা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করতে। কিন্তু এখনও সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি।

Unknown-1ব্রহ্মদেশ বা মায়ানমারকে এই সংযোগ সহযোগীতার সাথে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনা কতটুকু? এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি বলেন- “বাংলাদেশ-ভূটান- ইন্ডিয়া ও নেপাল সংক্ষেপে ‘বিবিআইএন’ নামের এই সহযোগীতা উদ্যোগে মায়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত এ মূহুর্তে আর সম্ভব নয় কারণ মায়ানমার এখনও সার্ক এর সদস্য নয়। তবে মায়ানমার ‘বিমস্টেক’ এর সদস্য থাকায় পারস্পরিক সহযোগীতা উদ্যোগের ছুঁয়াতো কিছু পাবেই।”

এ প্রসঙ্গের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে, ‘ব্রিকস’ শীর্ষসন্মেলনের পর পরই আমরা গোয়াতে ‘বিমসটেক’ ‘আউটরিচ’ পর্ব নিয়ে বসবো। অক্টোবরের ১৬ তারিখে এ বৈঠক হবে। ওখানে সহযোগীতা নিয়ে আমরা কিছু কথা বলবো।
images-3‘নিরাপত্তা’ কি এই সহযোগীতা উদ্যোগের কোন আলোচ্যসূচী হবে? এমন ভিন্ন একটি প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ঠিক এই মূহুর্তে (ইন্দো-বাংলা) সহযোগীতা আলোচনার আসল বিষয় হল ‘নিরাপত্তা’। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হবে এমন কোন কাজের জন্য বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহারকে বন্ধ করতে ক্ষমতায় আসার পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের পুরো আমলে এগুলো একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।
এ সমস্যা নিয়ে তিনি আরো বলেন- “৬৮ বছর পর সীমান্তবর্তী চতুর্দিক ভারতবেষ্টিত এলাকার সমস্যা ‘স্থল সীমান্ত চুক্তি’র মধ্যদিয়ে নিরসন হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্তের একটু ছোট্ট এলাকা ছাড়া সীমানা চিহ্নিতকরণ ও নির্দিষ্টকরণ সম্পন্ন হয়েছে। ওই ছোট্ট এলাকাটির কাজও চলছে এবং অল্পদিনের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগী কাজ কখনও নিখরচায় হয় না। যারা অস্ত্র পারাপারে নিয়োজিত ছিলেন তারা এখন হতাশায় বেপরোয়া।”

নিরাপত্ত্বা বিষয়ে বাংলাদেশ উপযুক্ত সহযোগীতা পাচ্ছে কি? জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন যে খুবই সক্রিয় আমাদের এই সহযোগীতা। গেল মাসে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভারত সফর করে গেছেন। এখানকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে তার ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। একে অন্যে সহযোগীতার চুক্তি আছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্পূর্ণ একমত। যাহাই হোক এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আছে। দুনিয়ার সুদীর্ঘ একটি সীমান্ত আমরা (ভারত-বাংলাদেশ) শুধুই ভাগাভাগি করিনা, এতো লম্বা একটি সীমান্ত এলাকার ব্যবস্থাপনা খুবই কঠিণ একটি কাজ। এই কঠিণ কাজটির সমাধানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আলোকপাত করছি।

images-2বিদ্যুৎ, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ে কিছু বলুন। দেখুন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল বাজার আমাদের একেবারেই কাছে, যা কি-না ভারতের মূল ভূখন্ডের চেয়ে বহু বহু দূরে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাই আমরা। ঐতিহ্যগতভাবে ওই এলাকা বাংলাদেশের অর্থনীতির সাথে বেশী সংযুক্ত। বাংলাদেশের দ্বারা ওই অঞ্চলের চাহিদা পূরণ হবে উভয় পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষায়।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “‘হোন্ডা’ ওই অঞ্চলকে সামনে রেখেই বাংলাদেশে একটি মোটর সাইকেল ফেক্টরী স্থাপন করতে যাচ্ছে। আমরা এ ধরনের আরো বিনিয়োগ চাই। বাংলাদেশ ভারত থেকে ৬০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। লক্ষ্য আরো বেশী। রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি হয়েছে ভারতের সাথে। ‘আদানি’(ঝাড়খন্ড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ) এবং ‘রেলিয়েন্স’(এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন) এরও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব রয়েছে। এই কিছু দিন হল, আমরা পারমানবিক উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাশিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। রাশিয়ান ‘রিএক্টরস’ ব্যবহারে ভারতের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমি শুনেছি। একাজে ভারত আমাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করতে পারে। আমরা, ভারত-বাংলাদেশ-ভুটান এর মধ্যে জলবিদ্যুতের জন্য ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী।”

imagesসবশেষে, তিস্তার পানি বন্টন চুক্তির আশু কোন সমাধান কি দেখতে পাচ্ছেন? উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ আমরা খুবই আশাবাদী যে শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হবে।” তিস্তা বিষয়ে দেরি হবার কারণে বাংলাদেশে অনেক আজগুবি প্রচারণা হয়। বাস্তবায়িত তিস্তা চুক্তি ‘সহযোগিতা উদ্যোগ’কে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। মূলতঃ তিস্তার পানি বন্টন বিষয়ের দীর্ঘসূত্রীতা ‘সংযোগ’ কাজের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অতীতে।
পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যাণার্জী ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত দু’দুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং দু’বারই তিনি বলেছেন যতশীঘ্র সম্ভব তিনি এর সুরাহা করবেন। এই কয়েক সপ্তাহ আগে আমি নিজে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং বলেছিলাম, “আপনার উপর আমাদের পূর্ণ আস্তা রয়েছে। কাজটিকে শুধু তরান্বিত করুন।”

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT