1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
ইরান-মার্কিন যুদ্ধ-২৬হাজার আহত আর ৪৫০০জন নিহত - মুক্তকথা
রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

ইরান-মার্কিন যুদ্ধ-২৬হাজার আহত আর ৪৫০০জন নিহত

বিশেষ নিবন্ধ-সাংবাদিক, লেখক, গবেষক হারুনূর রশীদ
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ পড়া হয়েছে
এটি একটি অন্যায্য যুদ্ধ।
বিশ্বশক্তি হয়ে আমেরিকার লজ্জা পাওয়া উচিৎ!

সবচেয়ে হাস্যকর হলেও এটিই সত্য যে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ এক যুদ্ধ চলছে। অন্তর্জাল ঘেঁটে হতাহতের সংখ্যা যা পাওয়া গেছে তা’হলো- ২০২৬এর মার্চ- এপ্রিলের তথ্যানুযায়ী, ইরান ও ইসরায়েলের(যুক্তরাষ্ট্রসহ) মধ্যকার যুদ্ধে বিভিন্ন সূত্র মতে, চলমান সংঘাতের এক মাসে ১৪টিরও বেশি দেশে আড়াই হাজার থেকে ৪৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যার সিংহভাগই ইরানের। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ নাগরিক, সেনা ও কর্মকর্তা রয়েছেন। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা বিশ্বশক্তিধর দেশগুলো এ যুদ্ধকে পুরো যুদ্ধ না বলে ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলছে (Gray Zone Warfare). তার কারণ কোন প্রকার ঘোষণা দিয়ে এ যুদ্ধ হচ্ছে না তাই এটিকে এখনও পুরো যুদ্ধ বলা যায় না। যুদ্ধ বিষয়ে তাদের এ শ্রেণীবিভাগ আমার কাছে অনেকটা হাস্যকরই মনে হয়। এ শ্রেণী বিভাজনে মানব কল্যাণ সম্পর্কিত তেমন শক্তিশালী কোন যুক্তি আছে বলে আমার জানার বাইরে রয়ে গেছে।

এ যুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে মার্কিন যুক্তরাস্ট্র বা আমেরিকা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতনেয়াহু যুদ্ধ নিয়ে যতটুকু ব্যস্ত নয় তার চেযে বহুগুণ বেশী ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহোদয়। ট্রাম্প মহোদয়ের আলাপে মনে হবে ইরাণ মনে হয় আমেরিকায়ই বোমা মারছে। কবে কোথায় পড়েছিলাম-বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো নিজেদের দেশের ভেতরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বাঁচিয়ে রাখতে বাহিরের দেশগুলোতে পরিকল্পিতভাবে মারামারি কিংবা যুদ্ধবিগ্রহ লাগিয়েই রাখে। উল্লেখ করে রাখলে বুঝতে সুবিধা হবে যে উপরের কথাগুলো কতটুকু সত্য! দূরের অতীত বাদ দিয়ে বিগত ১৯৯০ইং সন থেকে যদি তুলে ধরা হয় তা’হলে নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে এক ভয়াবহ যুদ্ধচিত্র আমরা দেখতে পাই। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়া এ চারটি প্রাচীন সভ্যতার দেশকে রাস্তার ভিকারী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। লন্ডনের রাস্তায় এসব দেশের মানুষকে ভিক্ষে করতে দেখছি।

অথচ তথাকথিত যুদ্ধনীতি আন্তর্জাতিক আইন এবং সামরিক কৌশলের ভাষায় একে ‘গ্রে জোন ওয়ারফেয়ার’ (Gray Zone Warfare) বা ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলা হয়। অর্থাৎ একে সরাসরি যুদ্ধ নয় ছায়া যুদ্ধ বা (Gray Zone Warfare) বলে।  যদিও আমার এমন পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ নয় তবে এ যে সমসাময়িক বাস্তবতার একটি কঠিন সত্যকে তুলে ধরে তা কেউই অস্বীকার করতে পারবেন না। আমি বলি এটি “পুরোদস্তুর যুদ্ধ চলছে”। যুদ্ধের প্রথাগত সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে এর বর্তমান তীব্রতা এবং মাঠপর্যায়ের সংঘাত ও মানব মৃত্যুর পরিসংখ্যান জানলে যে কেউ একে যুদ্ধই বলবে।

একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধকে যুদ্ধ না বলা আর সাধারণ মানুষকে বোকা মনে করা একই কথা। আসলে এটি একটি সংজ্ঞার লড়াই ছাড়া আর কিছুই নয়। যুদ্ধ বললে যেমন মানুষ মরবে, ছায়াযুদ্ধ বললেও মানুষই মরবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং সামরিক পরিভাষায় কেন একে “সরাসরি যুদ্ধ” বলা হচ্ছে না, আর কেন আমার কাছে এটি “পুরোদস্তুর যুদ্ধ” মনে হচ্ছে—তার একটি স্বচ্ছ বিশ্লেষণ নিচে দিচ্ছি:

কেন আমার কথাটি সত্য(বাস্তব প্রেক্ষাপট):

কেউ যদি এ সংঘাতের গভীরতা দেখেন, তবে একে যুদ্ধ বলাটাই স্বাভাবিক আর যুক্তিসংগত হবে। কারণ:

নিয়মিত হামলা: লোহিত সাগরে হুতিদের ওপর মার্কিন হামলা, সিরিয়া ও ইরাকে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ওপর মার্কিন বিমান হামলা এবং বিপরীতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোনের আঘাত—এগুলো কোনো শান্তিকালীন চিত্র নয়। যদিও জানি আমার লেখায় বিশ্ব যুদ্ধবাজদের যুদ্ধ সঙ্গা বদলাবে না!

অর্থনৈতিক যুদ্ধ: আমেরিকার দেওয়া কঠোর নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব ফেলছে, তা অনেক সময় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। একে বিশ্ব সুবিধাবাদী রাজনীতিজ্ঞরা ‘ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার’ বলেন।

সাইবার যুদ্ধ: দুই দেশই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে(যেমন- বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বন্দর) নিয়মিত সাইবার হামলা চালাচ্ছে।

কেন একে “সরাসরি বা আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ” বলা হচ্ছে না:

আন্তর্জাতিক আইন এবং সামরিক কৌশলের ভাষায় একে ‘গ্রে জোন ওয়ারফেয়ার’ (Gray Zone Warfare) বা ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলা হয়। এর কিছু নির্দিষ্ট কারণ আছে:

১. ঘোষণার অভাব: কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ (Declaration of War) করেনি।

২. প্রক্সি বা ছায়া শক্তি: আমেরিকা সরাসরি ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা করছে না, আর ইরানও সরাসরি মার্কিন মূল ভূখণ্ড বা তাদের রণতরীতে নিজের পতাকা উড়িয়ে হামলা করছে না। মাঝখানে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বা ইরাকের মিলিশিয়ারা কাজ করছে।

৩. কূটনৈতিক সম্পর্ক: যুদ্ধ চললে সাধারণত সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকে, কিন্তু সুইজারল্যান্ড বা ওমানের মাধ্যমে এখনো পর্দার আড়ালে তাদের মধ্যে জরুরি বার্তা আদান-প্রদান হয়।

আমার দাবির যৌক্তিকতা:

আমার বিস্ময়টি অত্যন্ত যৌক্তিক। সাধারণ মানুষের চোখে, যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে, তখন তাকে “যুদ্ধ নয়” বলাটা অমানবিক কিছু শব্দের কারসাজি মনে হয়।

সত্যানিষ্ঠ বিশ্লেষণ হলো: বর্তমানে যা চলছে তা হলো একটি “সীমাবদ্ধ যুদ্ধ” (Limited Conflict)। এটি যদি “পুরোদস্তুর সরাসরি যুদ্ধ” হতো, তবে আমরা তেহরান বা ওয়াশিংটনের আকাশে বোমারু বিমান দেখতে পেতাম এবং বিশ্ব অর্থনীতি পুরোপুরি অচল হয়ে যেত। বর্তমানে দু’পক্ষই এমনভাবে লড়ছে যাতে একে অপরকে দুর্বল করা যায়, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেরা ধ্বংস না হয়।

সংক্ষেপে: আমি যেটিকে “পুরোদস্তুর যুদ্ধ” বলছি, তা বর্তমানের হাইব্রিড যুদ্ধের বাস্তব রূপ। আর আমি যা বলেছি, তা হলো এর কারিগরি বা আইনি অবস্থান। তবে মাঠের পরিস্থিতি যে যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু নয়, সে বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকবে বলে মনে হয় না।(আরও আছে)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT