বহু কবিতা রচনাকারী চারণ কবি
দবিরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই
লন্ডনে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও কবি শতবর্ষী দবিরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই। গত ১৩ জানুয়ারি রাত ১টা ২০ মিনিটে রয়েল লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।(“আমরা স্রষ্টার জন্যই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব”)।
“অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার(ওবিই)” পদকপ্রাপ্ত, বাংলাদেশের কৃতি সন্তান, দিরাইয়ের কুলঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা, বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রয়াত দবিরুল ইসলাম ছিলেন, প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধের একজন সংগঠক।
শতোর্ধবর্ষী দবিরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাপী মানুষের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ, দানশীলতা ও মানবসেবার এক দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মের ইতিহাস তৈরী করে গেছেন। মানবতার সেবা কাজে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যাহা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার(বর্তমান উপজেলা) কুলঞ্জ গ্রামে কুলন্জ চৌধুরী বাড়ির জমিদার পরিবারে দবিরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি ব্রিটেনে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তিনি নিজ এলাকায় ১৮টি প্রাইমারী স্কুল ও একটি খেয়াঘাট প্রতিষ্ঠা করেন। একবার তিনি সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলেন। ১৯৭১-সালে সেন্ট আলবন্স এ্যাকশন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দবিরুল ইসলাম দেশ ও প্রবাসে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
![]() |
১৯৫৭ সালে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করার জন্য ব্রিটেন আসার পর, লন্ডনের বাইরে সেন্ট আলবানসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে কমিউনিটি‑ভিত্তিক কাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েযান। তিনি শুধু সমাজসেবক ছিলেন না বরং ছিলেন একজন উঁচুমানের চারণ কবি ও সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী। তিনি রচনা করেছেন বহু কবিতা।
করোনা মহামারীর কঠিন বছরেগুলোতে তার মানবিক কাজ বিশ্ববাসীর কাছে নতুন করে পরিচিতি পায়। ২০২০ সালের উপবাসের মাস রমজানে উপবাস থেকে তিনি তাঁর পূর্ব লন্ডনের বো এলাকার বাসার সামনের বাগানে ৯৭০ লুপ হেঁটেছিলেন, শুধু কিছু অর্থ সংগ্রহের চেষ্টায় নয়, মানুষের দুর্দশা বুঝে তাদের পাশে দাঁড়াতে অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে। এই প্রচেষ্টায় তিনি £৪২০,০০০-এরও বেশি অর্থ তহবিল সংগ্রহ করেন; এর অংশ বিশেষ NHS‑কে দেওয়া হয় এবং বাকিটা দশটিরও বেশি দেশের দরিদ্র, অসহায় ও দুর্ভোগে থাকা মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় পাঠানো হয়।
তার মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মোহাম্মদ মকিস মনসুর, সহাকারী আহ্বায়ক মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান এবং কোষাধক্ষ্য এম আসরাফ মিয়া সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
প্রয়াত দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাপ্তাহিক জনমত এর সম্পাদকমন্ডলীর চেয়ারম্যান, আতিক চৌধুরী তাঁর মরহুম পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কমিউনিটির কাছে দোয়া চেয়েছেন।
কার্ডিফে বাংলাদেশের ৫৫তম বিজয় দিবস পালিত
বিকৃতির বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানোর আহবান।
যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে গণতন্ত্রের মাতৃভূমি নামে খ্যাত বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক বৃটেনের কার্ডিফ শহরে, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে বিগত সোমবার(২৯ ডিসেম্বর) দূপুর ২ ঘটিকায় বাংলাদেশের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়।
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান শহীদুল্লাহ্ র এর সভাপতিত্বে ও ওয়েলফেয়ার এর জেনারেল সেক্রেটারি কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় অতিথি হিসেবে কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলের সাবেক লর্ড মেয়র কাউন্সিলার ড.বাবলিন মল্লিক, কার্ডিফ কাউন্টি কাউন্সিলের প্রাক্তন ডেপুটি লর্ড মেয়র কাউন্সিলার দিলওয়ার আলী, কাউন্সিলার জেসমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ট্রেজারার শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, কমিউনিটি সংগঠক আব্দুল মালিক, গোলাম মর্তুজা, ফয়ছল রহমান, বদর উদ্দিন চৌধুরী বাবর, আলহাজ্ব আনকার মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মুজিব মিয়া, রায়হান আহমেদ, নজির উদ্দিন, আনসার মিয়া, দেওয়ান টুটুল চৌধুরী, আলমগীর আলম, শাহিদুল ইসলাম, বদরুল হক মনসুর, সাজেল আহমেদ, সেবুল আলী আব্দুর রহমান, সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম ও সৈয়দ রুহেল বক্তব্য রাখেন।
মহাণ মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদানদের আত্মার কল্যাণ কামনায় আয়োজিত দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা শাহ মোহাম্মদ তসলিম।
![]() |
বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ একাত্তরের ইতিহাসকে ভূলুণ্ঠিত করার নানামুখী পায়তারা চলছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যা একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই, একাত্তরের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং কঠিণভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান শহীদুল্লাহ্ উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা সহ মহাণ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিজয়ের চেতনায় উদ্ভোদ্ধ হয়ে দেশের ও কমিউনিটির উন্নয়নে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদদের প্রাণ বিসর্জন আর দুলক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ অর্জন বেদনাবিধূর এক শোক গাথার মাসও এ ডিসেম্বর। এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় দেশের মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।
“গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে”র উদ্যোগে
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা।
বাংলাদেশের ৫৫তম মহাণ বিজয় দিবস উপলক্ষে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের উদ্যোগে গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় পূর্ব লন্ডনের উডহ্যাম কমিউনিটি হলে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
![]() |
সংগঠণের সাউথ ইষ্ট রিজিওনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ শাফি কাদির এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক বিশিষ্ট সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসাবে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুর, জালালাবাদ এসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ছোটন, প্রবাসে মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক শেখ তাহির উল্লাহ, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জামাল হোসেন, রাজনীতিবিদ গয়াসুর রহমান গয়াস, সংগঠন এর সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল কনভেনর মুজিবুর রহমান, কেন্ট রিজিওনাল চেয়ারম্যান মুক্তার আলী, ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আজিজুল আম্বিয়া, সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ কাহের, যুবসংগঠক জুবেল বেলাল, আব্দুল মালিক, আবু তাহের, বদরুল হক মনসুর, আব্দুল মুকিত, শাহীন চৌধুরী, সাজেল আহমেদ, বেলাল মিয়া, শেখ সুমন আহমেদ, আবুল কালাম, রুহেল রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদানদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন হাফিজ জিল্লুর রহমান খান।