1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
৫শত বছর পর… - মুক্তকথা
রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

৫শত বছর পর…

বিশেষ নিবন্ধ-সাংবাদিক, লেখক, গবেষক হারুনূর রশীদ
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০ পড়া হয়েছে
৫শ বছর আগের সেই পরাজয় (১৫০৭ – ১৫১৫)
আসুন, আমরা বিজয়ী হওয়ার নেশা ত্যাগ করি।

বরং আমরা একে অপরের সহযাত্রী হই।

যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে একদা ইউরোপীয়রা প্রাচ্যের সম্পদ লুটের দরজা খুলেছিল, ৫শ বছর পর সেই একই জলপথ এখন তাদের আধিপত্যের সমাধি হতে চলেছে।

ইতিহাস ফিরে আসে, কিন্তু তার রূপ বদলে যায়। ৫শ বছর আগে শত্রু ছিল পর্তুগাল, আজ আমেরিকা। ৫শ বছর আগে অস্ত্র ছিল পাল তোলা জাহাজ, আজ ড্রোন। কিন্তু মূল লড়াইটি এখনও সেই একই— “আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বনাম বৈশ্বিক আধিপত্য।”

৫শ বছর আগের সেই সফাভীয় আর ওসমানীয় দ্বন্দ্ব আজও ইরান ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়েই অতীতকে জানান দেয়। অবশ্য প্রাচীন এ বিশ্বদ্বন্দ্ব একদিকে যেমন বিশ্বের গতিকে পিছিয়ে দেয় তেমনি এ দ্বন্দ্ব সামনে এগিয়ে যাবার পথও দেখায়!  চিরন্তন এ বিরোধই মানব সভ্যতাকে সামনের দিকে হাটার পথ দেখিয়ে এতদূর নিয়ে এসেছে।

৫শ বছরের এই চক্রটি ইতিহাসের ছাত্র এবং ভূ-রাজনীতিবিদদের কাছে এক রোমাঞ্চকর আলোচনার বিষয়ও বটে! এ তথ্যের ভিত্তি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটের যোগসূত্রটি একটু বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে।

১. ৫শ বছর আগের সেই পরাজয় (১৫০৭ – ১৫১৫)

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ঠিক ৫শ বছর আগে (১৫০৭ সালে) পর্তুগিজ নৌ-সেনাপতি আলফনসো ডি আলবুকার্ক পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার এই হরমুজ দ্বীপ আক্রমণ করেন।

• পরাজয়ের কারণ: তখন মুসলিম বিশ্ব অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত ছিল। একদিকে পারস্যের সাফাভীয় সাম্রাজ্য, অন্যদিকে ওসমানীয় (অটোমান) সাম্রাজ্য—তাদের নিজেদের রেষারেষির সুযোগ নিয়ে পর্তুগিজরা হরমুজ দখল করে নেয়। এর ফলে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরে আরবীয়ানদের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং শুরু হয় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের যুগ। এটিই ছিল মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা শক্তির আধিপত্যের সূচনা।

২. ৫শ বছর পর: মনে হয় সত্যিই প্রকৃতি সবকিছুকে চক্রাকারে ঘুরায়? (২০২৬-এর প্রেক্ষাপট) ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার এ যুদ্ধ আর আমেরিকা দ্বারা যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাবনাকে বিজয় ফিরে আসার সাথে তুলনা করা যায়। আলোচনার স্বার্থে এ যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব যদি ইরাণও আগে দিয়ে থাকে আর আমেরিকা মেনে নেয় তা’হলেও এটি ইরানের একফসলা বিজয় বলেই ধরে নেয়া অত্যুক্তি হবে না।
এ বিজয় ফিরে আসার বিষয়টি বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, ৫শ বছর পর আবার হরমুজ প্রণালীই হয়ে উঠেছে পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করার প্রধান কেন্দ্র।

• শক্তির পরিবর্তন: যে হরমুজ থেকে পর্তুগিজরা মুসলমানদের সরিয়েছিল, আজ সেই একই হরমুজে ইরান (একটি মুসলিম শক্তি) আমেরিকার মতো পরাশক্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা এখন ইরানের হাতে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।

• প্রযুক্তি ও প্রতিরোধ: ৫শ বছর আগে উন্নত জাহাজ আর কামান দিয়ে ইউরোপ জয়ী হয়েছিল। আজ ড্রোন, হাইপারসনিক মিসাইল এবং প্রক্সি যুদ্ধের কৌশলে সেই আধিপত্য প্রশ্নবিদ্ধ।

৩. এটি কি “বিজয়” নাকি নতুন কোনো সংকট? ঐতিহাসিক চক্রের হিসেবে একে হয়তো অনেকে ‘বিজয়’ বা ‘প্রত্যাবর্তন’ বলবেন, কিন্তু বাস্তববাদী দৃষ্টিতে বিজয় তখনই বলা যায় যদি এটি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের অবসান ঘটায় এবং মুসলিম দেশগুলো নিজেদের সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।

• সংকট: যদি এই “বিজয়” কেবল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ধ্বংসের বিনিময়ে আসে (যা ট্রাম্পের সেই “প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া”র হুমকির দিকে ঠেলে দেয়)।

ইতিহাসে অনেক সময় ‘৫০০ বছরের চক্র’ (500-Year Cycle) নিয়ে কথা বলা হয়। ১৫০০ সালের দিকে পশ্চিমা শক্তির উত্থান হয়েছিল, আর ২০০০ সালের (বা তার আগে) দিকে প্রাচ্যের বা এশিয়ার শক্তির পুনরুত্থান ঘটছে। যে হরমুজ প্রনালী দিয়ে একদা ইউরোপীয়রা প্রাচ্যের সম্পদ লুটের দরজা খুলেছিল, ৫শ বছর পর সেই লুটের দরজায় এবার আসল মালিকের পাহাড়াদার স্থান খুঁজে নিযেছে।

অবশেষে অখণ্ড মানবতার জয়গানের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হয়।

পরিশেষে এটিই ধ্রুব সত্য যে, ইতিহাসের ৫০০ বছরের রক্তঝরা চক্র কিংবা আজকের ভূ-রাজনীতির আসুরিক উন্মাদনা—কোনোটিই আমাদের শেষ গন্তব্য হতে পারে না। আমরা যারা এই পৃথিবীর ধূলিকণায় হেঁটে বেড়াই, তারা কোনো মানচিত্রের দাগ বা কোনো ধর্মের গণ্ডিতে বন্দি হওয়ার জন্য জন্মাইনি। আমরা অসম্পূর্ণ, আর এই অসম্পূর্ণতাই আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ; কারণ এটিই আমাদের শেখায় একে অপরের হাত ধরতে।

আমেরিকা হোক বা ইরান, প্রাচ্য হোক বা পাশ্চাত্য—সীমানার কাঁটাতার দিয়ে যে বিভাজন রেখা আমরা টেনেছি, তা কেবল আমাদের আত্মাকেই রক্তাক্ত করেছে। আজ সময় এসেছে সেই কৃত্রিম পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠার। আজ সময় এসেছে ‘রাজনীতি’ আর ‘যুদ্ধংদেহী শ্রেষ্ঠত্বের’ বদলে ‘সহমর্মিতা’ আর ‘বিবেকের’ ভাষায় কথা বলার।

মনে রাখবেন, ইতিহাসের কোনো পরাশক্তিই অমর নয়, কিন্তু মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্পগুলো অবিনশ্বর। আমরা যদি আজ “বিশুদ্ধ মানুষ” হিসেবে একে অপরের অসম্পূর্ণতাকে স্বীকার করে হাত মেলাতে না পারি, তবে আগামীর পৃথিবী আমাদের কেবল এক ব্যর্থ প্রজাতি হিসেবেই মনে রাখবে।

আসুন, আমরা বিজয়ী হওয়ার নেশা ত্যাগ করি। বরং আমরা একে অপরের সহযাত্রী হই। কারণ দিনশেষে আমাদের পরিচয় কোনো দেশ বা ধর্ম নয়—আমাদের একমাত্র সত্য পরিচয় হলো, আমরা সবাই এই বিপন্ন নীল গ্রহের একেকজন ‘মানুষ’। আর এই মানবতাই হোক আমাদের সবচাইতে বড় ধর্ম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT