1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
আজ ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস - মুক্তকথা
শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

আজ ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৫৩৯ পড়া হয়েছে

bijoyer-mas-december

আব্দুল ওদুদ।।

মৌলভীবাজার: বৃহস্পতিবার, ২২শে অগ্রহায়ণ ১৪২৩।। আজ ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদারমুক্ত হয়েছিল মৌলভীবাজার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর উপর স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীদের সর্বপ্রথম হামলার ঘটনা ঘটেছিল এ মৌলভীবাজারে। এ হামলার ঘটনার মাধ্যমেই দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীদের প্রতিরোধ রুপ নিয়েছিল প্রতিঘাতে। সূচনা হয়েছিল হামলার জবাবে পাল্টা হামলার। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার পরদিন অর্থাৎ ২৭ মার্চ দুপুরে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর একটি টহল দল তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা (বর্তমানে জেলা) সদর থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী কমলগঞ্জ থানাধীন (বর্তমানে উপজেলা ও থানা) শমসেরনগর বাজারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বৃদ্ধ ম্যাজিশিয়ান সিরাজুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় চরম বিক্ষুব্দ স্বাধীনতাকামী স্থানীয় জনতা পরদিন ২৮ মার্চে নিকটস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইপিআর), আনসার ও মুজাহিদ সদস্যদের সমন্বয়ে শমসেরনগরের তিনটি স্থানে এ্যাম্বুশ করে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯ জন পাক সেনাকে বহনকারী একটি সামরিক জীপ গাড়ীতে প্রচন্ড হামলা চালিয়েছিলেন। এ হামলায় দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন গোলাম রসুলসহ ৯ জন পাক সেনা-ই নিহত হয়েছিল। মৌলভীবাজারে ২৮ মার্চের এ হামলা-ই বাংলাদেশে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর উপর স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীদের সর্বপ্রথম হামলা।

অবশ্য এর আগে মৌলভীবাজার শহরের দু’দিক থেকে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে  মানুষ শহরে উঠার চেষ্টা করে এবং পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শাহবন্দরের কাছে একজন শহীদ হন। মরহুম সাজ্জাদুর রহমান, গিয়াসউদ্দীন মনির সহ আরো কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল মনু সেতুর উত্তর পাড়ে এসে অবস্থান নেয়। পাক হানাদারেরা সেতুর কাছে আসলে সাজ্জাদুর রহমান বন্দুকের গুলি ছোড়েন। সাথে সাথেই হানাদারদের মেশিনগান গর্জে উঠে। লেচু মিয়া নামক সাজ্জাদুর রহমানের এক ভাই গুলিতে আহত হন। প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। মানুষ আত্ম রক্ষার্থে পালিয়ে যায়। এটি ছিল মৌলভীবাজারের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ।

এই উভয় হামলার পর পাক সেনারা হতচকিত হয়ে মৌলভীবাজার থেকে পালিয়ে সিলেট চলে যায়। পাক বাহিনীর পালিয়ে যাবার এই খবর পেয়ে হবিগঞ্জের তৎকালীন এমপি মানিক চৌধুরী তার কিছু অনুসারী নিয়ে মৌলভীবাজার উপস্থিত হন এবং স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের সমর্থকদের নিয়ে প্রতিরোধ গড় তোলায় প্রয়াসি হন। মৌলভীবাজারের এমপি আজিজুর রহমান ও বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা ব্যোমকেশ ঘোষ তখন সিলেটে পাকবাহিনীর হাজতে বন্ধী। এমপি মাণিক চৌধুরী সংগ্রহ করেন প্রয়াত আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আমজদ আলী, মছদ্দর আলী, হারুনূর রশীদ, মাহমুদুর রহমান, সৈয়দ নাসির উদ্দীন, দেওয়ান আব্দুল ওহাব চৌধুরী, সুজাউল করিম সহ কিছু নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা ও সমর্থকদের এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজে হাত দেন। তৎকালীন ছাত্রলীগের কর্মি ও পেশাগতভাবে দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক হিসেবে হারুনূর রশীদ ঐসব ক’টি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান। ওই বৈঠক কয়েকটি হয়েছিল প্রাক্তন পিটি স্কুলের পার্শ্বস্থিত রেস্টহাউসে। মাণিক চৌধুরী হারুনূর রশীদকে যুদ্ধের পাশাপাশি প্রচারের দায়ীত্ব পালনের অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি তা পালন করেছিলেন। মির্জা ফরিদ আহমদ বেগ, সৈয়দ নাসির উদ্দীন, হারুনূর রশীদ, মাহমুদুর রহমান, মুজিবুর রহমান, নুরুল হোসেন চৌধুরী, এন আই আজিজুল হক ইকবাল, দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী, সুজাউল করিম, স্বপন চক্রবর্তী, গোলাম মওলা, সালেহ আহমদ(জুড়ি), সুলেমান আলী, দিলীপ দেব, আজিবুর রহমান, মশু, মুকিত, রাণু, শহীদ, দেওয়ান খয়ের, মুকিত, মুকিত খান, কয়ছর খান, কাজী ফেরদৌস, সৈয়দ মতিউর রহমান, শফকতুল ওয়াহেদ, গজনফর আলী, আব্দুল জলিল গং ছাত্রনেতৃবৃন্দ নিজ নিজ দায়ীত্বে প্রতিরোধ কাজে অংশ নেন। কিরণমনি কর, প্রদ্যুম্ন কুমার রায়, শৈলেন্দ্র বিশ্বাস, সজ্জাদুর রহমান, গিয়াস উদ্দীন মনির, আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখেরা নিজ নিজ দায়ীত্বে থেকে প্রতিরোধ সংগঠনে অংশ নেন। শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় সেরপুরে। শের পুরের ওই যুদ্ধে হারুনূর রশীদ ও আব্দুল মোহিত টুটু সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। টুটু শেরপুর যুদ্ধে আহত হন। এর পর গোলাবারুদের অভাবে শেরপুর প্রতিরোধ ভেঙ্গে পড়ে। প্রতিরোধ তুলে নিয়ে সেরপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ফিরিয়ে আনা হয় আকবর পুর রেষ্ট হাউসে এবং এখানে বসেই সোনালী ব্যাংক ভেঙ্গে নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এখান থেকে অনেক যোদ্ধাকে ভারত সীমান্তে পুনঃ প্রশিক্ষনের জন্য পাঠানো হয়। অনেকেই নিজ নিজ দায়ীত্বে ভারতে চলে যান। আবার মৌলভীবাজার শত্রু কবলিত হয়ে পড়ে।

তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা প্রশাসকের বাসভবন (বর্তমানে জেলা প্রশাসকের বাসভবন) ছিল দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর ব্রিগেড সদর দফতর। মৌলভীবাজারকে দখলদার পাক হানাদারমুক্ত করার উদ্দেশ্যে ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪ টার দিকে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত একটি দল মৌলভীবাজার শহর থেকে ৪ মাইল দূরবর্তী কালেঙ্গা নামক স্থানে অবস্থান নেয় এবং মধ্যরাতে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। বিরামহীন এ ভয়াবহ যুদ্ধে নিহত হয় মিত্রবাহিনীর ১শ ২৭ জন সেনা। চলমান এ যুদ্ধের একপর্যায়ে পরদিন ৫ ডিসেম্বর থেকে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীর ঘাটিসমূহে শুরু হয় মিত্রবাহিনীর বিমান হামলা। ফলে, বিপর্যস্থ-বিধ্বস্থ দখলদার পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটে সিলেটের দিকে পালাতে শুরু করে। পালিয়ে গিয়ে প্রথমে তারা মৌলভীবাজার শহর থেকে ১৮ মাইল দূরবর্তী মৌলভীবাজার-সিলেট সীমান্তবর্তী শেরপুর নদীবন্দরে আবারো অবস্থান নেয় এবং ৭ ডিসেম্বর রাতের মধ্যে সিলেটে পালিয়ে যায়। এভাবেই ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর শেষ বারের মত দখলদার পাক হানাদারমুক্ত হয় মৌলভীবাজার। মৌলভীবাজারকে দখলদার পাক হানাদারমুক্ত করার যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আজিজ আহমদ বেগ এবং মিত্র বাহিনীর মেজর দায়ান। মৌলভীবাজার দখলদার পাক হানাদারমুক্ত করার পর দেওড়াছড়া চা বাগান হয়ে মৌলভীবাজার শহরে এসে তারা খৃষ্টান মিশনের একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT