আগামীকাল ১২ মার্চ বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের জায়গা নয়, বরং এটি জনআকাঙ্ক্ষা এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তনের এক মহাকাব্যিক পরীক্ষাগার।
আগামীকাল ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনকে আমরা স্বাগত জানাই। এবারের সংসদ অধিবেশন কোনো রুটিনমাফিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি জুলাই অভ্যুত্থানের সেই শহীদদের রক্তস্নাত আকাঙ্ক্ষার এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব গণজাগরণ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই স্বপ্নের পাহারাদার হিসেবে এই সংসদকে সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করতে হবে।
* জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও সংসদীয় দায়বদ্ধতা
এই সংসদের প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় স্তরে সুসংহিত করা। যারা নিজেদের জীবন দিয়ে গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন আইনসভা উপহার দেওয়া। সংসদ যেন কেবল সংখ্যাতত্ত্বের খেলায় মেতে না ওঠে, বরং প্রতিটি বিতর্ক যেন জনগণের কণ্ঠস্বরে মুখরিত হয়।
* ভূ-রাজনীতি ও আমেরিকার সাথে প্রস্তাবিত চুক্তি
অধিবেশনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে আমেরিকার সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রস্তাবনা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে এই চুক্তির উদ্যোগ বৈশ্বিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের নতুন অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস চলেনা। সংসদ সদস্যদের মনে রাখতে হবে:
• স্বচ্ছতা: চুক্তির প্রতিটি শর্ত যেন জনসম্মুখে পরিষ্কার থাকে। পর্দার অন্তরালে কোনো গোপনীয়তা যেন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ না হয়।
• ভারসাম্য: আমেরিকার সাথে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
• অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব: যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি যেন আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করে, বরং পারস্পরিক সমৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করে।
* সংস্কার ও সমৃদ্ধির পথ
একটি বিশেষ সময়ে এই সংসদ বসেছে যখন রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তুঙ্গে। নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সংস্কারে এই সংসদের ভূমিকা হবে পথপ্রদর্শকের মতো। জনগণের আস্থা অর্জনে সংসদকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং ১৬ কোটি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।