বাম বা প্রগতিশীল রাজনীতির চিন্তা-হারুনূর রশীদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং অন্যান্য বিশ্লেষকরা সাধারণত বামপন্থীদের মধ্যে নৈরাজ্যবাদী, সাম্যবাদী, সমাজতন্ত্রী, গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী, সামাজিক গণতন্ত্রী, বাম-উদারপন্থী, প্রগতিশীল এবং সামাজিক উদারপন্থী অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন। জাতিগত সমতার আন্দোলন, সেইসাথে ট্রেড ইউনিয়নবাদও বাম প্রগতিপন্থীদের সাথে যুক্ত। |
|
* বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা: আদর্শ আছে, উপস্থিতি ক্ষীণ বাংলাদেশের বামপন্থা বা প্রগতিবাদ একসময় ছিল শ্রমিক–কৃষকের কণ্ঠস্বর, গণআন্দোলনের চালিকাশক্তি। কিন্তু আজ বাস্তবতা হলো— সংসদীয় রাজনীতিতে বামদের ভূমিকা প্রায় নামমাত্র। রাজপথে আন্দোলন হয়, কিন্তু তা টেকসই ঢেউ তোলে না। সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে তরুণরা—বাম রাজনীতিকে দেখে “পুরোনো বইয়ের পাতার তত্ত্ব” হিসেবে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো প্রগতিশীলদের নেতৃত্ব ডান সুবিধাবাদের স্পর্শে কাতর। ⸻ |
|
![]() |
* সমস্যার শিকড় কোথায়? 🔸 ক) তত্ত্বে আটকে থাকা বাম রাজনীতি এখনো অনেক ক্ষেত্রে ৭০–৮০ দশকের ভাষা ও নমুনায় কথা বলে। অথচ মানুষের সমস্যা বদলেছে— এই নতুন বাস্তবতার ভাষায় কথা বলার ঘাটতি আছে। 🔸 খ) বিভাজন ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠীবাদ একই আদর্শে বিশ্বাস করেও— “আমার মার্কস ঠিক, তোমার মার্কস ভুল” এই মনোভাব বাম রাজনীতিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপে ভেঙে ফেলেছে। 🔸 গ) জনমানুষ থেকে দূরত্ব শ্রমিকের ঘামে তৈরি চা খেতে খেতে সভা নয়, এ জায়গায় বামদের বড় দুর্বলতা। ⸻ |
| * তাহলে সঠিক পথে আনতে করণীয় কী?
এটিই আসল কথা 👇 ✅ ১. ভাষা ও ইস্যুর আধুনিকীকরণ মার্কসবাদ মানে শুধু শ্রেণিসংগ্রাম নয়— এই বিষয়গুলোকে সহজ, জীবন্ত ভাষায় তুলতে হবে। ✅ ২. তরুণদের নেতৃত্বে আনা আজকের তরুণ— তাদের জায়গা দিতে হবে, শুধু পোস্টার ধরানোর জন্য নয়—সিদ্ধান্ত গ্রহণেও। ✅ ৩. ঐক্যের বাস্তব চর্চা পূর্ণ একতা না হলেও— এগুলো ছাড়া বামপন্থা কখনোই বড় শক্তি হবে না। ✅ ৪. সংসদের বাইরের রাজনীতিকে শক্ত করা বাংলাদেশের বাস্তবতায়— সব লড়াই সংসদে জেতা যায় না তাই দরকার— ⸻ |
|
![]() |
* শেষ কথা: বামপন্থা কি শেষ?
না। যতদিন থাকবে— ততদিন বাম রাজনীতির প্রয়োজন থাকবে। প্রশ্ন একটাই— বামপন্থা কি মানুষের বাস্তব জীবনের পাশে দাঁড়াবে, এই সিদ্ধান্তটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। |