1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
"অধ্যাপক ইউনূসের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বনাম জাতীয় স্বার্থ: ওয়াশিংটন চুক্তির ব্যবচ্ছেদ।" - মুক্তকথা
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

“অধ্যাপক ইউনূসের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বনাম জাতীয় স্বার্থ: ওয়াশিংটন চুক্তির ব্যবচ্ছেদ।”

বিশেষ নিবন্ধ হারুনূর রশীদ
  • প্রকাশকাল : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ১ পড়া হয়েছে

সংস্কার নাকি দীর্ঘমেয়াদী দায়বদ্ধতা? অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তির আড়ালে কী?


রাষ্ট্রপতিকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি মার্কিন চুক্তি:বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কি কোনো ঝুঁকিতে?
পর্দার অন্তরালের তথ্য জানা যাবে কি?


🔍 নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন পথে কি হাটবে বাংলাদেশ, যদি তাই হয় তা’হলে দাম চুকাতে হবে কতটুকু? 

নির্বাচনী প্রস্তুতির বদলে কেন তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক চুক্তিতে জড়াল অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকার? এই চুক্তির শর্তগুলো কি সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি বিশেষ মহলের স্বার্থে? এমন সব প্রশ্ন আসতেই পারে। প্রশ্ন আসতেই পারে যে- গোপন কোন শর্তে কি বন্দি হচ্ছে দেশ?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক মার্কিন চুক্তি নিয়ে উঠছে শত প্রশ্ন। কেন এই লুকোচুরি? সংবিধানের কতটুকু তোয়াক্কা করা হয়েছে এই চুক্তিতে? এমনতরো ডজন ডজন প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে সচেতন মানুষের মনে!

বাংলাদেশে এখন পরিবর্তনের হাওয়া, নতুন সরকার প্রধানের বড় পরিকল্পনা। কিন্তু এর মাঝেই প্রশ্ন উঠেছে এ বিশেষ চুক্তি নিয়ে। ওয়াশিংটনের সাথে তড়িঘড়ি করে করা এ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আসলে কার লাভ? বাংলাদেশ কি সত্যিকার অর্থে লাভবান হবে, নাকি আমরা কোনো একপাক্ষিক দায়বদ্ধতার জালে জড়িয়ে পড়ছি?
জানতে চাওয়া কোনভাবেই অমূলক হবে কি?— ‘চুক্তির মারপ্যাঁচে পড়তে যাচ্ছে না-তো আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ’। এমনতরো কতসব প্রশ্ন লাখো মানুষের মনের কুঠোরে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ নমুনার একটি চুক্তি নিয়ে কয়েক ডজন প্রশ্নের মাঝে এ প্রশ্নটিতো করাই যায় যে- আমেরিকার সাথে চুক্তি: কিন্তু স্বচ্ছতা কোথায়?
একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এমন কথাতো বলতেই পারি যে- 
এ চুক্তির ফলে লাভবান হলো কোনো ব্যক্তিস্বার্থ নাকি জাতীয় স্বার্থ—  আমাদের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন বা বলবেন?

ক) এ চুক্তির নীতিগত ও আইনি ভিত্তি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠা খুবই যুক্তিসংগত আর তা’হলো-
১. “সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল ম্যান্ডেট হলো রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য দায়বদ্ধতা তৈরি করে এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি করার আইনি ভিত্তি কী?”

২. “এ চুক্তিটি কি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষা রাখতে পারতো না? এত তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষরের পেছনে বিশেষ কোনো কূটনৈতিক বা আন্তর্জাতিক চাপ ছিল কি?

খ) স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন:
৩. চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি কেন এখনো জনসমক্ষে বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি? জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই গোপনীয়তার কারণ কী?

৪. এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক বা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কীভাবে লাভবান হবেন? নাকি এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি করপোরেট গোষ্ঠীর একচেটিয়া সুবিধা নিশ্চিত করবে?”

৫. গ্রামে-গঞ্জে আলোচনা রয়েছে যে এ চুক্তিতে এমন কিছু ধারা আছে যা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণকে উৎসাহিত করে। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার?

গ) ব্যক্তিস্বার্থ ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন:
৬. এমন সমালোচনা আসতেই পারে যে, অধ্যাপক ইউনূসের সাথে মার্কিন প্রশাসনের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককে এই চুক্তির ক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অভিযোগের বিপরীতে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া কী(?) অন্যায় আবদার হবে।

৭. এ চুক্তির ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো বা আমাদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগীদের (যেমন: চীন বা রাশিয়া) সাথে সম্পর্কে কোনো ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে কি?

৮. যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই বিশেষ বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিনিময়ে বাংলাদেশকে কি কোনো সামরিক বা কৌশলগত জোটে (যেমন: লজিস্টিক সাপোর্ট বা ঘাঁটি) জড়াতে হবে? এমন কোনো গোপন শর্ত কি চুক্তিতে বিদ্যমান?

ঘ) পরবর্তী সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন:
৯. যদি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই চুক্তিটি দেশের স্বার্থবিরোধী মনে করে বাতিল করতে চায়, তবে বাংলাদেশের ওপর কী ধরনের আন্তর্জাতিক আইনি বা আর্থিক জরিমানা বর্তাবে? চুক্তিতে বের হয়ে আসার পথ অর্থাত ‘এক্সিট ক্লজ’ (Exit Clause) কী রাখা হয়েছে?

ধরে নিলাম “দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এটি জরুরি ছিল”, তা’হলে এমন প্রশ্ন কি আসে না যে— “সংকট নিরসনে স্বল্পমেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা না করে কেন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চুক্তিতে জড়ানো হলো?”

• “সাধারণ মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে, নয় কি?”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন চুক্তি: জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নাকি তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত?

 অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেখানে এই সরকারের মূল ম্যান্ডেট হওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি, সেখানে এমন দীর্ঘমেয়াদী এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এবং যা খুবই স্বাভাবিক। এই চুক্তির আড়ালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ কতটুকু নিরাপদ? এটি কি ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন নাকি সময়ের প্রয়োজন? 

আমাদের অনুসন্ধানে যেটুকু বুঝা যায়:
১. চুক্তির গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার অভাব
• প্রশ্ন: কেন এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত শর্তাবলি সাধারণ মানুষ বা অংশীজনদের (Stakeholders) জানানো হয়নি?
• অনুসন্ধান: চুক্তিতে এমন কোনো ধারা আছে কি যা বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, বন্দর বা ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে অন্য কোনো দেশের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করে?২. আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা
• বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাধারণত দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। দীর্ঘমেয়াদী নীতি নির্ধারণী বা আন্তর্জাতিক চুক্তি করার আইনি ভিত্তি কতটুকু?

• বিশেষজ্ঞ মতামত:
সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক কূটনীতিকগন এ চুক্তিকে যেভাবে দেখেন-

বিশেষজ্ঞদের মতামতের মূল দিকগুলো:
  • স্বচ্ছতার অভাব: অনেক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিক মনে করেন, প্রতিরক্ষা বা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তির শর্তগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনা করা হয়নি, যা সন্দেহ তৈরি করছে।
  • নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা: অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের বড় চুক্তিগুলোর দায়-দায়িত্ব একটি নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত চুক্তিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা।
  • ভূ-রাজনীতি ও ঝুঁকি: কেউ কেউ সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা বা বড় ধরনের চুক্তি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি(সবার সাথে বন্ধুত্ব) এবং চীনের মতো অন্যান্য বড় প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
  • গণতান্ত্রিক রূপান্তর: যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহল এই অন্তর্বর্তী সরকারকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সমর্থন করেছিল, তবুও চুক্তিগুলো যেন শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতি বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী লাভবান না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

সংক্ষেপে, বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে এমন চুক্তি এড়িয়ে যাবে, অথবা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তা সম্পাদন করবে।

এই চুক্তির দায়ভার চলমান নির্বাচিত সরকার কতটুকু বহন করবে।

৩. ‘ব্যক্তিস্বার্থ’ বনাম ‘জাতীয় স্বার্থ’
• তত্ত্ব: আন্তর্জাতিক মহলে অধ্যাপক ইউনূসের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককে পুঁজি করে কি দেশ কোনো অসম চুক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে?

• যাচাই: চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পকেটে কী আসবে? কর্মসংস্থান বাড়বে নাকি কেবল নির্দিষ্ট কিছু করপোরেট গোষ্ঠী লাভবান হবে?

৪. আঞ্চলিক ভারসাম্যের সংকট
• ভূ-রাজনীতি: এই চুক্তির ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো (যেমন: ভারত বা চীন) এবং রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন সৃষ্টি হবে কি না?
ওয়াশিংটনের সাথে এই ‘তড়িঘড়ি’ ঘনিষ্ঠতা ঢাকাকে কোনো বিশেষ ব্লকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না?

তাফসীর বাবু, বিবিসি নিউজ বাংলা গত 

“আপনার মেয়াদ শুরুর এই সময়ে আমি আশা করি, আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দারুণ গতি ধরে রাখতে আপনি আমাকে সাহায্য করবেন। এই চুক্তিতে আমাদের উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকেরা সুবিধা পাবেন”।

প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখা চিঠিতে উপরের এই কথামালা উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আবারো উল্লেখ্য যে,  সম্প্রতি বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড নামে এই চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষর হওয়ায় পর এটা নিয়ে নানা সমালোচনা দেখা যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর কেন করতে হলো?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিলো নয় মাস ধরে। কিন্তু গোপনীয়তার শর্তের কারণে তখন এর বিস্তারিত প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ। এখন চুক্তি প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বলছেন, এই চুক্তির পূনর্মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকে নজর দিয়ে এটাও বলা হচ্ছে যে, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি, বরং প্রধান্য পেয়েছে আমেরিকার ইচ্ছা।

ফলে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের উচিত চুক্তি পরীক্ষা করে দেখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT