1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
চুক্তি, চাপ ও চুপ থাকা মানুষ - মুক্তকথা
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

চুক্তি, চাপ ও চুপ থাকা মানুষ

লেখক, সাংবাদিক, গবেষক হারুনূর রশীদ
  • প্রকাশকাল : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪ পড়া হয়েছে

খামারীদের কণ্ঠস্বর কি শোনা হবে?

গৈ-গেরামের ভোরে যখন একটি খামারের দরজা খোলে, তখন সেখানে রাজনীতি থাকে না—থাকে পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার লড়াই।

কিন্তু শহরের আলো-ঝলমলে কক্ষে যখন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের ভার এসে পড়ে ঠিক ওই নীরব খামারগুলোর ওপরই।

সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার–এর একটি বাক্য—“সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে পারিনি”—আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরে।

প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর:
যে সিদ্ধান্ত মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করে, সেই সিদ্ধান্তে মানুষের কণ্ঠস্বর কোথায়?

খামারী: রাষ্ট্রের নীরব স্তম্ভ

বাংলাদেশের লাখো-কোটি খামারী প্রতিদিন একটি অনিশ্চিত অর্থনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করেন।
• কখনো খাদ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু উৎপাদকের লাভ বাড়ে না।
• কখনো বাজারে আমদানিকৃত পণ্য ঢুকে পড়ে।
• কখনো খরচ বাড়ে, কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। এ নমুনার আরো কত কিছু!

এই বাস্তবতায় যদি কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাজারকে আরও খুলে দেয়—তাহলে খামারীদের জন্য তা সুযোগ নয় বরং অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়ায় বা দাঁড়াতে পারে।

চুক্তি নাকি চাপ?

আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে অনেক যুক্তি থাকে—বিনিয়োগ, উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক।

কিন্তু একটি প্রশ্ন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ—
চুক্তিটি কি সমান শক্তির দুই পক্ষের মধ্যে হচ্ছে?

যদি না হয়, তাহলে সেটি চুক্তির ভাষায় লেখা হলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে একটি চাপ।

আর সেই চাপের মূল্য দেয় কারা?
কাগজে স্বাক্ষর করা মানুষ নয়—
মূল্য দেয় মাঠে কাজ করা খেটে খাওয়া খামারীরা।

নীতিনির্ধারণে কার কণ্ঠস্বর?

ফরিদা আখতার–এর বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের ভেতরে সব মতামত সমান শক্তিশালী নয়।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে—
• খামারীদের প্রতিনিধিত্ব কোথায়?
• তাদের স্বার্থ কে তুলে ধরে?
• সিদ্ধান্ত নেয়ার টেবিলে তাদের বাস্তবতা কতটা উপস্থিত?

যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অস্পষ্ট হয়, তাহলে নীতিনির্ধারণও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

এখনই সময়—চুপ না থাকার

এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কোনো উত্তেজনা নয়,
বরং সচেতন নাগরিক কণ্ঠস্বর।
• চুক্তির শর্ত জানতে হবে
• খামারীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানাতে হবে

কারণ নীরবতা কখনোই ন্যায্যতার পক্ষে কাজ করে না।

শেষ কথা

একটি রাষ্ট্রের শক্তি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দিয়ে নয়,
তার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

খেটে খাওয়া দরীদ্র খামারীরা যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রও ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়তে বাধ্য।

প্রশ্ন তাই এখন আমাদের—
আমরা কি শুধু চুক্তির খবর পড়বো, নাকি তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলবো?

সময় এসেছে—
নীরবতার নয়,
সচেতনতার।

আশাকরি সরকার বিষয়টি নিয়ে সমস্যার গভীরে গিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT