ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে
ইশতেহার ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেষ্টিত পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, দি বাডস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ও গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার পাশে অবস্থিত পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের ময়লার ভাগাড়ের সমস্যা সমাধান কল্পে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে, যাতে বর্জ্য থেকে পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য ও সার উৎপাদন করা যায়। এছাড়াও পুরো শ্রীমঙ্গলকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য ঘোষনার মধ্যে রয়েছে, চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা। তাদের শিক্ষা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করে বিশ্বমঞ্চে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরা।
হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া, নির্দিষ্ট ফী দিয়ে সবার জন্য উন্মুক্তভাবে মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা। ড্রেনগুলোকে প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করে পানি ও ময়লার পরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় আনা। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ পৌরসভাকে বর্ধিত করা এবং শমসেরনগরকে একটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর করা। শহরের যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণ। কৃষকদের জন্য সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা। মিথ্যা মামলা ও অন্যান্য হয়রানিকে কঠোরভাবে দমন। প্রশাসনে জবাবদিহিতা আনা এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের চাপ থেকে মুক্ত রাখা।
ডিজিটাল হাব তৈরির মাধ্যমে দক্ষ নারী ও পুরুষদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করা। ইমাম, পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় প্রধানদের রাষ্ট্রীয় বেতন ভাতা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বাস্তবায়ন করা। স্থানীয় প্রশাসন তথা চেয়ারম্যান মেম্বারদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া, তাদের কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ না করা, তাদের উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
ইশতেহারের শেষাংশে বলেন, আমার অঙ্গীকার- আমি কথা নয়, কাজের রাজনীতি করি। মৌলভীবাজার-৪ কে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য।