শ্রীমঙ্গল পুলিশের ওপর হামলা, মামলা করেছে থানা
৩৮জন নামি ও অজ্ঞাতনামা ২৮৫জনকে দিয়ে মামলা
মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গলের গদারবাজারে পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য আনার মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম হৃদয়কে প্রধান আসামী করে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২৮৫ জনের নামে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। শ্রীমঙ্গল থানার এসআই অলক বিহারী গুণ এই মামলাটি দায়ের করেন। শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং-৩৫, তারিখ ৩১.০৩.২৫ইং। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল থানায় জিডি নং-১৭১৬, তারিখ…। হবিগঞ্জ রোডস্থ গদার বাজার পয়েন্টে ‘বিনা লাভের বাজার’ নামের অস্থায়ী দোকানটিতে জেলা বিএনপির নেতা মহসিন মিয়া মধু তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় দোকানের পার্শ্বে টমটম পার্কিং নিয়ে মধু মিয়ার সাথে মামলার ২নং আসামী আনোয়ার মিয়া প্রকাশ আনার মিয়া(সাবেক মেম্বার) এর বাকবিতন্ডা হয়। বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরবর্তীতে অটোরিক্সা(টমটম) চালকেরা পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে গিয়ে মাইকিং করে এলাকার লোকজনদের জড়ো করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহসিন মিয়া মধুর পক্ষের লোকজনদের ওপর হামলা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে(৩১মার্চ) রাত ১২টার সময় সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জসহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ শ্রীমঙ্গল থানাধীন ৩নং ইউনিয়নের অন্তর্গত পশ্চিম ভাড়াউড়া সাকিনে ‘আমাদের খামার’ নামীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তায় উপস্থিত হয়ে অটোরিক্সা(টমটম) চালক পক্ষের লোকজনদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে উল্লেখিত আসামীগনসহ ২৮০/২৮৫ জন আসামী বেআইনী জনতাবদ্ধে মিলিত হয়ে হাতে লাঠি সোঠা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের সরকারি কর্তব্য কাজে বাঁধা প্রদান করে তাদের ওপর হামলা করে অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের সরকারী পিকআপ গাড়ীর পেছনের লাইট ভাঙচুর করে ও ব্যাক ঢালা দা দিয়া কোপ দিয়া আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার ঢাকার ক্ষতিসাধন করে। এভাবে মামলার এজাহারে গতানুগতিক যে নমুনায় আসামীদের বিবরণ দিতে হয় ঠিক সেভাবেই তা করা হয়।
ছবি সংগৃহীত। |
একপর্যায়ে মামলার আসামীরা পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মিছিল নিয়ে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনার দিকে আসতে থাকে। তখন পুলিশ শহরের চৌমুহনা মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। উল্লেখিত আসামীগনসহ ২৮০/২৮৫ আসামী চৌমুহনাস্থ হবিগঞ্জ রোডে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং মহসিন মিয়া মধু’র পক্ষের লোকজন স্টেশন রোডে মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একপক্ষ অপর পক্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
একপর্যায়ে জনসাধারনের জানমালের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে পুলিশ সর্বমোট ২৬ রাউন্ড শিষা কার্তুজ ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ফাঁকা গুলি করে উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিনসহ সেনাবাহিনীর টহল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে যৌথ ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
মামলার উল্লেখিত আসামী কামরুল হাসান হৃদয়(২১)কে অভিযান পরিচালনাকালে সেনাবাহিনী কর্তৃক পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রাম হইতে রাত অনুমান আড়াইটার সময় গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য যে, ‘বিনা লাভের বাজার’ পাশে ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আনার মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। পরে সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাসায় চলে যান। পরে এক পর্যায়ে আনার মিয়া নিজ এলাকা পশ্চিমভাড়া গ্রামে মসজিদে মাইকিং করে ৫০০-৬০০ লোকজন জড়ো করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শহরে বিভিন্ন সড়কে গণ্ডগোল চালায়। এসময় পথচারী ঈদের কেনাকাটা করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন বিভিন্ন মার্কেটে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় মাকের্টে আটকে পড়া লোকজন বাসা-বাড়িতে ফেরেন।