| একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে শিরক করছে -তারেক রহমান |
![]() |
মৌলভীবাজারে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায়
মানুষের ঢল নেমেছিল
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় এসে একটি স্বৈরাচারী সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। গত ১৫ বছরে ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচন হয়েছিল। একই সঙ্গে উন্নয়ন থেকেও বঞ্চিত করেছে বহু অঞ্চল। গত ১৫ বছরে মৌলভীবাজার জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ হয়নি, এটি শুধু অবহেলা নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রতারণা।
চিকিৎসার জন্য আজও মৌলভীবাজারের মানুষকে সিলেট কিংবা ঢাকামুখী হতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে সাধারণ মানুষ। অথচ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সরকার এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন করতে পারেনি। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে প্রতিটি জেলার মানুষের চিকিৎসা অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং অবহেলিত এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
![]() |
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগেই দেশের একটি রাজনৈতিক দল জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে শিরক করছে। এটা কি আল্লাহর সঙ্গে নাফরমানি কিংবা শিরক নয়? তিনি বলেন, জান্নাত-দোজখ দুনিয়া সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে। সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি যে সেটি হচ্ছে শিরক। এটি হচ্ছে শিরকের পর্যায়ে পড়ে। কাজেই তারা আগেই তো আপনাদেরকে ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকান ঠকাবে আপনাদেরকে, বোঝেন এবার। শুধু ঠকাচ্ছেই না, মানুষকে যারা মুসলমান তাদেরকে শেরেকি করাচ্ছে তারা। নাউজুবিল্লাহ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি, যাদের ভূমিকার কারণে এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহিদ হয়েছেন, এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনেরা সম্মানহানি হয়েছে। কাজেই তাদেরকে তো বাংলাদেশের মানুষ চিনে নিয়েছে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই শিরক-কুফরি নাফরমানির বিরুদ্ধে এবং এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি, এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
![]() |
সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে মন্তব্য করে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমি ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি যে, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই ষড়যন্ত্র, এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যেকোনো মূল্যে জনগণের মতামতে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।
জনসমাবেশে জেলার ৪টি আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচিত করিয়ে দেন তারেক রহমান। তারেক রহমান মঞ্চে আসার আগে স্থানীয় জেলা ও বিভাগীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। জনসভায় লাখো মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল।