1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
গোয়া সন্মেলন ও আমাদের প্রাপ্তি - মুক্তকথা
বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

গোয়া সন্মেলন ও আমাদের প্রাপ্তি

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৬
  • ১০০৩ পড়া হয়েছে

PoA-RO-map-BIMSTECহারুনূর রশীদ।।

“দি বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টোরেল টেকনিকেল এন্ড ইকোনমিক কোপারেশন” এর সূচনা হয়েছিল ১৯৯৭ এর ৬ জুন বেঙ্ককে মোট চারটি দেশের উদ্যোগে। নাম ছিল “বিশট এক” (BIST-EC) আর সদস্য দেশ ছিল- বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইলেন্ড। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যোগ দেয় ভূটান, নেপাল ও বার্মা বা মায়ানমার। নাম হয় “বিমসটেক”(BIMSTEC)। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হল বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী সদস্য দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সদস্যদেশগুলির মধ্যে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগীতার মধ্য দিয়ে ব্যবসা, বিনিয়োগ, কারিগরী, পর্যটন, মানব সম্পদ, কৃষি, মৎস্য, যাতায়াত ও যোগাযোগের উন্নয়ন সাধন। পরে উন্নয়নের তালিকায় বস্ত্র ও পোষাক এবং চামড়া উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। 

অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তার ক্ষেত্র হিসাবে মোট ১৪টি ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে সংস্থাটির কর্মযোজনা রয়েছে। ১৪টি খাত হল- ব্যবসা ও বিনিয়োগ, যাতায়াত ও যোগাযোগ, শক্তি, পর্যটন, কারিগরী, মৎস্য, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র দূরীকরণ, জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অপরাধ দমন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, জনযোগাযোগ বৃদ্ধি ও জলবায়ূ নিয়ন্ত্রণ।

আগামী ১৬ই অক্টোবর গোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আঞ্চলিক উন্নয়নের ‘সবেধন নীল মণি’ ওই সংস্থাটির ৫ম অধিবেশন। প্রথম অধিবেশন হয়েছিল ২০০৪ সালের ৩১শে জুলাই। এই বিমস্টেকের সদর দফতর ঢাকায় উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর।

বাংলাদেশের অনেক কিছু বলার আছে ওই সভায়। বিশেষ করে বিশেষ শক্তিধর বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সাথে। খোলামেলা আলোচনার দরকার বেশী। অনেক কথাই না বলা রয়ে যাচ্ছে। ওই সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যোগ দেবেন চীনের সাথে পাল্লাদিয়ে বড় হয়ে উঠা ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের সমস্যা অভিন্ন। বিভিন্ন নমুনার সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে উভয় দেশে। তবে বাংলাদেশে সন্ত্রাস এখনও আন্তর্যাতিক সন্ত্রাসের রূপ পায়নি বলেই সরকার বলেছেন। ভারত-পাকিস্তানের সন্ত্রাস কিন্তু অনেক পুরনো। ভারত-বাংলাদেশের সন্ত্রাসের রূপ একটি মাত্রায় ভিন্ন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালও সকালে বলেছেন যে বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা দেশীয় এবং ’৭১ এর পরাজিত শক্তির অনুগামী অংশ। তাদের আন্তর্জাতিক কোন সংস্রব নেই। সে যাই হোক, সকলের চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভাল করেই জানতে পারেন, জানার সকল হাতিয়ারই তার রয়েছে। আমাদের কথা ওখানে নয়। সন্ত্রাস সকল দেশেই গণতন্ত্র আর উন্নয়নের জন্য বিশাল দূর্লঙ্ঘীয় বাঁধা। স্থানীয় হোক আর আন্তর্জাতিক হোক সন্ত্রাস সন্ত্রাসই। দেশী সন্ত্রাসী বোমা মারলে যেভাবে মানুষ মরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীও ওই একই নমুনায় বোমা ফেলে মানুষ মারে। আমাদের এখানে যে বা যারাই সন্ত্রাস করে, শুনা যায় ইদানিং তারা ভারতকে তাদের অভয়ারণ্য মনে করে। বাংলাদেশ যখন সন্ত্রাস দমনে কঠোর হয়েছে তখন সন্ত্রাসীরা আসাম-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। বেশ কিছু ঘটনায় তার প্রমাণও মিলেছে। সন্ত্রাস দমনের নামে কাঁটা তার দিয়ে সীমানা আগলানো যাবে ছাড়া অন্য কোন লাভ হয়নি হবেও না। একাজে উভয় দেশকে সীমান্তে তৎপরতা বাড়াতে হবে।

Unknown

বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত একদিকে মায়ানমার বা ব্রহ্মদেশ বা বার্মা। সন্মেলনে বার্মা, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাও নিশ্চয়ই থাকবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সমন্বয়কে জোরদার করতে হলে অবাধ ব্যবসায়িক যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করণে আন্তরিক সচ্চেষ্ট হলে ধীরে ধীরে সন্ত্রাসীদের দেশ পাড়ি দেয়া বন্ধ হতে বাধ্য। একাজে সীমান্ত রক্ষীদের দায়ীত্ব অপরিসীম। দেশের প্রতি আন্তরিক নিবেদিতপ্রাণ মানুষদের সীমান্তচৌকীতে দায়ীত্ব দিলে একটি উল্লেখযোগ্যহারে সীমান্তে সকল ধরণের পাচার-অনাচার বন্ধ হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় দেখেছি ওই সময় সীমান্তে কোন ধরণের দূরাচারবৃত্তি সংঘটিত হয়নি। ওই সময় সীমান্ত একেবারে যে তামাতুলসি ধোয়া হয়েগিয়েছিল তা’নয় তবে আনুপাতিক হারে খুবই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় দূরবৃত্তাচার নেমে এসেছিল এবং সর্বাংশে এ সম্ভব হয়েছিল দেশপ্রেমিক মানুষদের আনাগোনার কারণে। তখন কোন কাটাতারই ছিল না। সারা সীমান্ত এলাকা একেবারেই খোলা ছিল। কেবলমাত্র ভারতীয় সীমান্তবাহিনী ছিল আর বিভিন্ন সেক্টরে ছিল যুদ্ধরত মুক্তিবাহিনী। চোরাকারবারের জন্য এ ধরনের অবস্থা খুবই উপযোগী। কিন্তু আনাগোনাকারী মানুষজনের মনে সত্যিকারের দেশপ্রেম থাকায় চোর-ভালমানুষ সকলেই সজাগ ছিলেন।  যে কোন বস্তুর উপর আন্তরিক মায়া-মমতা থাকলে কেউই চায়না সে জিনিষকে নষ্ট করতে। একমাত্র দূর্বৃত্ত মনের মানুষ ছাড়া। তাই সীমান্তে প্রয়োজন দেশপ্রেমিক মানুষ। আর কোন দেশের সরকারের পক্ষে একাজ কোনরূপেই দুঃসাধ্য নয়। কেবল সদ্বিচ্চার প্রয়োজন। আর একটি বিষয়, বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকান্ডে যারা সরাসরি জড়িত তাদের চেয়ে তাদের পেছনের নাটের গুরুরা বেশী শক্তিশালী ও মাথাওয়ালা। ওদের বিষয়ে ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।

সত্য-মিথ্যা বলতে পারিনা, শুধু দেখেছি যে “এসোসিয়েশন চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি” নামের একটি সংস্থা এক জরিপ চালিয়েছে। তারা জরিপে দেখেছে বা ওই গোষ্ঠীর ধারণা যে বিমস্টেক দেশ ৭টির মধ্যে অবাধ বাণিজ্যের ব্যবস্থা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে জোরেসুরে উৎসাহিত করবে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির যোগাযোগ বাড়াবে। একাজে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়ানোর কথারও উল্লেখ রয়েছে। সন্মেলনের সময় হাসিনা-মোদী বৈঠকে নিশ্চয়ই এসব নিয়ে কথা হবে। দু’দেশের যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাণিজ্যিক বিস্তারের স্বার্থেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT