খামারীদের কণ্ঠস্বর কি শোনা হবে? |
|
গৈ-গেরামের ভোরে যখন একটি খামারের দরজা খোলে, তখন সেখানে রাজনীতি থাকে না—থাকে পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার লড়াই। কিন্তু শহরের আলো-ঝলমলে কক্ষে যখন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন সেই সিদ্ধান্তের ভার এসে পড়ে ঠিক ওই নীরব খামারগুলোর ওপরই। সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার–এর একটি বাক্য—“সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে পারিনি”—আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরে। প্রশ্নটি সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর: |
খামারী: রাষ্ট্রের নীরব স্তম্ভবাংলাদেশের লাখো-কোটি খামারী প্রতিদিন একটি অনিশ্চিত অর্থনীতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করেন। এই বাস্তবতায় যদি কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাজারকে আরও খুলে দেয়—তাহলে খামারীদের জন্য তা সুযোগ নয় বরং অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়ায় বা দাঁড়াতে পারে। |
চুক্তি নাকি চাপ?আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষে অনেক যুক্তি থাকে—বিনিয়োগ, উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক। কিন্তু একটি প্রশ্ন সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ— যদি না হয়, তাহলে সেটি চুক্তির ভাষায় লেখা হলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে একটি চাপ। আর সেই চাপের মূল্য দেয় কারা? |
নীতিনির্ধারণে কার কণ্ঠস্বর?ফরিদা আখতার–এর বক্তব্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের ভেতরে সব মতামত সমান শক্তিশালী নয়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে— যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অস্পষ্ট হয়, তাহলে নীতিনির্ধারণও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। |
এখনই সময়—চুপ না থাকারএ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কোনো উত্তেজনা নয়, কারণ নীরবতা কখনোই ন্যায্যতার পক্ষে কাজ করে না। ⸻ শেষ কথাএকটি রাষ্ট্রের শক্তি তার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দিয়ে নয়, খেটে খাওয়া দরীদ্র খামারীরা যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রও ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়তে বাধ্য। প্রশ্ন তাই এখন আমাদের— সময় এসেছে— আশাকরি সরকার বিষয়টি নিয়ে সমস্যার গভীরে গিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসবেন। |