| জাহাঙ্গীর আলম হত্যার বিচার দাবিতে ৩ শতাধিক মানুষের মানববন্ধন |
|
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাদ জুমা সর্বদলীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের উপজেলা গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সর্বদলীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মো. মাসুক আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, আসন্ন কমলগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর ও সৈয়দ জামাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর বিকেলে জমি বিক্রির মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিম গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ময়নুল হককে আটক করে। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। |
| জমকালো আয়োজনে সম্পন্ন হলো ‘৯ম আন্তর্জাতিক মণিপুরি সম্মেলন ২০২৬’ |
|
মণিপুরি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৯ম আন্তর্জাতিক মণিপুরি সম্মেলন ২০২৬’। বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ (বামসাস), সেন্ট্রাল কমিটির উদ্যোগে এবং কমলগঞ্জ ব্রাঞ্চের সহযোগিতায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, তেতইগাঁও, আদমপুরবাজার, কমলগঞ্জে আয়োজিত এই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক, কবি ও শিল্পীরা অংশ নেন। এই পর্বে প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক নোংমাইথেম তোম্বীর ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যার মূল বিষয়বস্তু ছিল— “প্রোফেসর নোংমাইথেম তোম্বী (অ্যা গ্রেট এক্সপোনেন্ট ওফ মণিপুরী লিটরেচার)”।
বামসাস সেন্ট্রাল কমিটি, সিলেটের প্রেসিডেন্ট এল. প্রশান্ত কুমার সিংহের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি নামব্রম শংকরের পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শশী কুমার সিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ত্রিপুরার বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার এল. কুমার সিংহ, ভান্ডারীগাঁও হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাইবম বীরেন্দ্র সিংহ এবং ভারতের মণিপুর থেকে আগত গবেষক ও অধ্যাপক নোংমাইথেম তোম্বীর কন্যা ড. অনুরাধা নোংমাইথেম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ত্রিপুরার মণিপুরি সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও লেখক এল. বীরমঙ্গল সিংহ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বামসাস সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট এ কে শেরাম। ২য় পূর্বে দুপুর ২টায় কবি সম্মেলনে চোমওংবী কৈনাহান দেবী ও রওশন আরা বাঁশি খৃৎহৈবম-এর যৌথ সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কবি সম্মেলনে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসামের কাছাড় থেকে আগত কবি তাহির সাজবম, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কবি রঞ্জিতা সরকার এবং ত্রিপুরার আগরতলার কবি এল. মিনা দেবী ও কবি থৌদাম নীলকুমার। বামসাস কমলগঞ্জ ব্রাঞ্চের পাব্লিকেশন সেক্রেটারি কবি অয়েকপম অঞ্জুর পরিচালনায় এ পর্বে আমন্ত্রিত কবিরা তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। আলোচনা সভা ও ‘নীলিমা সিনহা মেমোরিয়েল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় সেশন, যার মূল আকর্ষণ ছিল আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা। বামসাস সেন্ট্রাল কমিটির প্রেসিডেন্ট এ কে শেরাম-এর সভাপতিত্বে এবং ফাইনান্স সেক্রেটারি নীহার রঞ্জন শর্মার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটের উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও কবি নিতাই সেন, কমলগঞ্জ মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সের সভাপতি এল. জয়ন্ত সিংহ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বামসাস কমলগঞ্জ ব্রাঞ্চের প্রেসিডেন্ট এল. ইবুংহাল সিংহ শ্যামল। এবারের সম্মেলনে মণিপুরি সাহিত্য ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মণিপুরি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত লেখক ড. হাওরোংবম রাজমনি সিংহ-কে মর্যাদাপূর্ণ ‘নীলিমা সিনহা মেমোরিয়েল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ পর্যায়ে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বুদ্ধ্রাকপম সমেন্দ্র সিংহের (জয়েন্ট সেক্রেটারি, বামসাস সেন্ট্রাল কমিটি) পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সাংস্কৃতিক পর্বে মণিপুর, সিলেট এবং ভানুগাছ অঞ্চলের আমন্ত্রিত খ্যাতনামা শিল্পীরা মণিপুরি ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। দেশ-বিদেশ থেকে আগত সাহিত্যপ্রেমী ও দর্শকের উপস্থিতিতে সম্মেলনটি এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়। |
| অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ‘শমশেরনগর আল্ট্রা সিজন-৩ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা |
|
“দৌড়াও সুস্বাস্থ্যর জন্য, লাগাও গাছ পৃথিবীর জন্য” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগান থেকে চাতলাপুর বর্ডার পর্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শমশেরনগর আল্ট্রা সিজন-৩ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা।
‘টিম শমশেরনগর (বিডি)’-এর আয়োজনে এবং ‘রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ও ‘গিগাবাইট’-এর সহযোগিতায় শুক্রবার ভোর ৫টায় এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত দৌড়বিদ অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ১০ কিমি ক্যাটাগরিতে ৩০০ জনের অধিক, ২৫ কিমি ক্যাটাগরিতে ১৫০ জনের অধিক এবং ৫০ কিমি ক্যাটাগরিতে ১৫০ জনের অধিক দৌড়বিদ অংশ নেন। ভোর ৫:০০ টায় ২৫ কিমি ও ৫০ কিমি এবং ৫:৫০ টায় ১০ কিমি দৌড় শুরু হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন প্রতিভাবান দৌড়বিদরা। এর মধ্যে ৫০ কিমি পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মইনুল ইসলাম এবং ১০ কিমি বিভাগে বিজয়ী হন শুভ্র যাদব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যারাথনের শুভ উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার। এছাড়া ম্যারাথন শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। এসময় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বাসিত (রেস কো-অর্ডিনেটর), ফয়সাল আল কয়েস চৌধুরী (রেস ডাইরেক্টর), আহমদুর রহমান খোকন (ইভেন্ট ম্যানেজার) ও আবু সাঈদ মোহাম্মদ রাহী (কো-রেস ডিরেক্টর) প্রমুখ।
স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবুজ প্রকৃতি রক্ষার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই সফল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
|
| ফলাফল বিপর্যয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা |
|
পাবলিক পরীক্ষা (এসএসসি/এইচএসসি) বা বার্ষিক মূল্যায়নে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়া এবং ফলাফল বিপর্যয়ের মুখে পড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এক জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়,কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান উন্নতকরণ এবং সার্বিক অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপজেলার পিছিয়ে পড়া বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এমপি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,একটি আদর্শ ও উন্নত জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় নয়, বরং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।তিনি কমলগঞ্জের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনেন এবং পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং মানোন্নয়নে নানা দিকনির্দেশনামূলক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভিন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ খাঁন,কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন প্রমূখ।
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মান বৃদ্ধিতে উপস্থিত সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
|