আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মহসিন মিয়া মধু ফুটবল মার্কা নিয়ে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এমন একটি জনপদ, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, মণিপুরি, খাসিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি, আমাদের গর্ব। পর্যটন, চা-শিল্প, কৃষি ও মানবসম্পদের সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে এই জনপদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য।
মোঃ মহসিন মিয়া মধু বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি আপনাদের কল্যাণে নিম্নলিখিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি-
পর্যটন শিল্পের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। চা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন উন্নয়ন এবং ন্যায্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃঢ় উন্নয়ন নিশ্চিত করে জননিরাপত্তা জোরদার এবং বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত সমাজ গঠন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদাহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে সকল নাগরিকের জন্য সুষম অধিকার প্রতিষ্ঠা। লাউয়াছড়া ও আশপাশের বনাঞ্চল সংরক্ষণ, অবৈধ গাছ কাটা রোধ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে মৎস্য, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনে আধুনিক খামার গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান। উপযোগী কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পাশাপাশি শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুকরণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। গ্রাম, চা-বাগান ও প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা।
কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ ও সার সহায়তা, আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং আনারস, লেবু, টমেটোসহ উচ্চমূল্যের ফসল আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে প্রশিক্ষণ প্রদান, পাশাপাশি পণ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন।
‘শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি চালু। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সহজীকরণ। ভূমি সেবা, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে একটি শোষণমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দখলদারমুক্ত, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সম্ভাবনাময়, বৈষম্যহীন ও মানবিক জনপদে রূপান্তর করা; যেখানে উন্নয়ন হবে মানুষের জন্য, রাজনীতি মানুষের পাশে থেকে, মানুষের কথা ভেবে, মানুষের জন্য কাজ করাই আমার রাজনীতির মূল শক্তি।