না ফেরার দেশে চলে গেলেন শিক্ষক
সৈয়দ রকিব
লন্ডনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রিয় মুখ, সমাজকর্মী, শিক্ষক সৈয়দ রকিব আহমেদ আর নেই। শনিবার ভোররাতে নীরবে ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো আনুমানিক ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
গেলো রোববার, জোহরের নামাজের পর ইষ্ট লন্ডন মসজিদে তার জানাজার নামাজ শেষে এসেক্সের ‘গার্ডেন অফ পিসে’ শেষ শয়্যায় শায়িত করা হয় কমিউনিটির প্রিয় মুখ সৈয়দ রকিবকে। জানাজার আগে ব্রিকলেন মসজিদে রাখা তার মরদেহ দেখতে রাখা হয় এবং কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ এখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানান তাদের প্রিয় সৈয়দ রকিবকে।
একজন শিক্ষক হিসেবে সৈয়দ রকিবের পাঠ শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিলো না, ছিল মানবতা, দায়িত্ববোধ আর নৈতিকতার পাঠ। সমাজকর্মী হিসেবে তাঁর হাত ছিল সদা প্রসারিত—নিঃস্বার্থ, নির্লোভ, নিরব অথচ দৃঢ়। তাঁর মৃতু্যতে কমিউনিটি হারালো এক আলোকবর্তিকা, একজন সুহৃদ।
তিনি ছিলেন একজন স্বপ্ন-সন্ধানী, সমাজমানসের নির্মাতা, আর নীরব প্রেরণার প্রদীপ। সমাজের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা—তা ধর্ম-বর্ণের সীমানা ছাড়ানো।
এক সময় ছাত্র ইউনিয়ন ও সিপিবি’র কর্মী ও নেতা হিসেবে সেই তরুণ বয়স থেকেই তিনি দেখেছিলেন এক স্বপ্ন—একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক সমাজ গড়ে ওঠার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন ছিল না কেবল কোনো ভাবনার নরম আলপনা; এ ছিল তাঁর প্রতিদিনের কাজ, প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ।
উল্লেখ্য, সৈয়দ রকিব আহমেদ ১৯৮৭ সালে প্রথম লন্ডনে আসেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে লন্ডনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির শাখা গঠনে ও ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর যুক্তরাজ্য শাখা গঠনে অন্যতম নেতৃত্বদান করেন তিনি। তাঁর দেশের বাড়ী সিলেট জেলার ওসমানী নগর থানার ওসমানপুর গ্রামে।
Comments are closed.
Boost your profits with our affiliate program—apply today!
Join forces with us and profit from every click!