| প্যারিসে প্রদর্শিত হলো নির্মাতা প্রকাশ রায়ের ‘ভাসমান জীবন’। |
![]() |
প্যারিসে প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায়ের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র “La vie flottante (ভাসমান জীবন)”। শহরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘লা ক্যামিলিয়েন’ (La Camillienne)-এ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায়ের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র “La vie flottante” বা “ভাসমান জীবন”। চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রকাশ রায় ও জয় ব্যানার্জির এই তথ্য-চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে নদীনির্ভর ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর বাস্তব জীবনের প্রকাশিত, অপ্রকাশিত নানান দিক।
প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের অবহেলিত গ্রামীণ বেদে সম্প্রদায়ের কৌতূহল ও সংগ্রামপূর্ণ ভ্রাম্যমাণ জীবন ও বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতা বেদে সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে পর্দায় তুলে ধরেছেন নিপুণ হাতে। তাদের জীবনযাপনের এসব চিত্র অবলোকন করে দর্শকদের মনে চিন্তার খোরাক জোগায় এবং আবেগে নাড়া দেয়।
প্রদর্শনী শেষে নির্মাতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্ব আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যময় করে তোলে। দর্শকদের নানা জিজ্ঞাসার মুখোমুখি হন ফ্রান্স প্রবাসী নির্মাতা প্রকাশ রায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ফরাসি তথ্যচিত্র নির্মাতা বিশ্ব দরবারে এই ভাসমান জনগোষ্ঠীর গল্প বলেন। দর্শকদের নানা প্রশ্ন ও মতবিনিময়ে চলচ্চিত্রটি বেদে সম্প্রদায়ের জীবনকে নতুনভাবে অনুধাবনের সুযোগ করে দিয়েছে।
![]() |
প্রামাণ্যচিত্রটি প্রসঙ্গে নির্মাতা প্রকাশ রায় বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বেড়ে ওঠা মানুষের কাছে বেদে সম্প্রদায়ের জীবনযাপন সবসময়ই ছিল কৌতূহল ও আকর্ষণের বিষয়। তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে এই ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও পেশায়ও দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তারা কীভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, তা তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের ঐতিহ্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই পরিচালক জয় ব্যানার্জির সহযোগিতায় প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কৃতি সন্তান প্রকাশ রায় আরও বলেন, বেদেরা শুধু একটি সম্প্রদায় নয়, এটি বাংলার নদীমাতৃক সভ্যতার এক বিলীয়মান অধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে যাযাবর এই জনগোষ্ঠী নৌকাকেই ঘর বানিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু নদীভাঙন, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক নানা বাধার কারণে তাদের ঐতিহ্য হুমকির মুখে। সামাজিক স্বীকৃতির অভাবে অনেক তরুণ বেদে এখন আর সাপ খেলানো বা ভেষজ ওষুধ বিক্রির পেশায় যেতে চায় না। তাদের এই বৈচিত্র্যময় জীবনকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তাদের এই নির্মাণ বলে জানান নির্মাতা প্রকাশ রায়।
এরপর বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশিত হয় কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য। প্যারিসের খ্যাতিমান প্রবাসী সংস্কৃতিকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ফরাসি দর্শনার্থীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেয়।
অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, বিদেশি দর্শকদের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠছে।
Comments are closed.
https://shorturl.fm/rs0RL
https://shorturl.fm/3whCG
https://shorturl.fm/F5Qyg
https://shorturl.fm/vWQf5