চা শ্রমিকদের রেইনকোট উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
রেইনকোট নয়, মানসম্মত মজুরি চাই।
-শ্রমিক নেতা ধনা বাউরী
চা বাগান শ্রমিকদের রেইনকোট দেওয়ার খবরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা বাগানজুড়ে বইছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। হঠাৎ বৃষ্টির জন্য পরিচিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল চা-বাগান। এসব বাগানে খোলা মাঠে কাজ করেন ৪০ হাজারেরও বেশি চা শ্রমিক। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই ভিজতে হয় তাদের। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিককে ডেকে তাদের হাতে রেইনকোট তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশে আরও ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের কোন এলাকার মানুষ কীভাবে বসবাস করছেন, তাদের কী সমস্যা ও কী প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের সমস্যা ও তাদের চাওয়ার বিষয়টিও তিনি জানেন। রেইনকোট উপহার দেওয়ার উদ্যোগ তারই একটি প্রতিফলন।”
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল।
এ উদ্যোগের আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ(বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পা-ুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট প্রদান করবে।
মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যারা এ ধরনের কাজ করতে চান, সরকার তাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য যেমন সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চা শ্রমিকদের ভালোবাসেন। এতদিন পর আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার মতো একজন মহৎ মানুষ পেয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রেইনকোট উপহার নেওয়া কমলগঞ্জ উপজেলার চারজন চা শ্রমিক হলেন-ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার।
এদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি ও কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউপি সদস্য ধনা বাউরী নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, রেইনকোট নয়, মানসম্মত মজুরি চাই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বেসরকারি খাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন(রেজি. নং বি-৭৭)-এর অন্তর্গত মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি হিসেবে এই কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানি না। চা শ্রমিকদের মধ্য থেকে ১০ জনকে কীভাবে নির্বাচন করা হলো, সে বিষয়েও আমরা অবগত নই। ১০ জনই কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল উপজেলার। এর মধ্যে ৪ জন আমার মনু ধলই ভ্যালির চা শ্রমিক। অথচ আমি এই বিষয়ে জানতে পারলাম না। চা শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃত্বকে অবহিত করলে এমন কী ক্ষতি হতো?
বর্তমান সময়ে চা শ্রমিকদের প্রধান দাবি ন্যায্য ও মানসম্মত মজুরি এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং বি-৭৭)-এর নির্বাচন। অথচ এসব মৌলিক দাবির বিষয়ে এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাইনি; এর পরিবর্তে সরকার থেকে রেইনকোট পাচ্ছি।
রেইনকোট প্রয়োজন, কিন্তু চা শ্রমিকের জীবন ও জীবিকার স্থায়ী সমাধান আরও বেশি প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে চা শ্রমিকদের জন্য একটি মানসম্মত ও ন্যায্য মজুরি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন(রেজি. নং বি-৭৭)-এর নির্বাচন, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানান।
তিনি রেইনকোট বিতরণের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমরা সাময়িক সহায়তা নয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবন চাই। আমরা চাই মানসম্মত মজুরি, দ্রুত নির্বাচন ও ভূমির অধিকার।
অদম্য মেধাবী অংকন
এসএসসিতে পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫;
বাবার সীমিত আয়ে অংকনের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার
স্বপ্ন কি পূরণ হবে?
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংকন শর্ম্মা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার সীমিত আয়ে টানাপোড়েনের সংসারে ১২৫০ এর মধ্যে ১২০০ মার্ক পেয়ে অদম্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছে অংকন শর্ম্মা। তবে ভ্রাম্যমান সঙ্গীত শিল্পী বাবার সীমিত আয়ে অংকনের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা।
![]() |
দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির সময়ে সীমিত আয় দিয়ে একটি পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। তবে অভাবের মধ্যেও মেধার এমন স্বীকৃতিতে মা-বাবার মুখে সাময়িক হাসি ফুটলেও, সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এক কঠিন অনিশ্চয়তা। ভালো কলেজে ভর্তি করানোর সামর্থ্য না থাকায় এই অদম্য মেধাবীর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে-এমন বাস্তবতা নিয়ে চিন্তিত অংকনের মা-বাবা।
অংকন শর্ম্মা কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ধীতেশ্বর গ্রামের ভ্রাম্যমান সঙ্গীত শিল্পী অমলেশ চন্দ্র শর্ম্মা ও প্রিয়াংকা চক্রবর্তী দম্পতির সন্তান। তার এমন ফলাফল পরিবারসহ পুরো বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে অংকন বড়। মা, বাবা ও স্কুল শিক্ষকের সহযোগিতায় পড়াশোনায় সে এসএসসি পরীক্ষায় এই সাফল্য লাভ করে।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অংকন শর্ম্মা বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। আমি কখনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করিনি। বাবা-মার ত্যাগের পাশাপাশি কালিপ্রশাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। বাবা কষ্ট দেখে সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে যেটুকু আয় করেন তা দিয়েই আমার পড়ালেখার খরচ যুগিয়েছেন। আমার ইচ্ছে একজন ভালো বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে বাবার সীমিত আয়ে তা কতটা সম্ভব হবে সেটিই একমাত্র চিন্তা।’
অংকনের বাবা অমলেশ শম্মা বলেন, ‘চার সদস্যের পরিবারে আমি একাই উপার্জন করি। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। তার উপর ছেলেদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যাওয়া আসলেও দুর্বিষহ। অংকনের ফলাফলে আমরা খুবই খুশি। তবে ভালো কলেজে ভর্তি করানো আর বই-খাতা কিনে দেয়াটাও চ্যালেঞ্জ।’
কালীপ্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল অদম্য মেধাবী অংকনের প্রশংসা করে বলেন, সে অত্যন্ত মেধাবী, ন¤্র ও অধ্যবসায়ী একটি ছেলে। সে যে একাগ্রতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের গৌরব। বিদ্যালয়ে ৬টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে একমাত্র অংকনই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে অংকনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
সপ্তাহে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তনের প্রতিবাদ ও
পঞ্চায়েত নেতাদের পদত্যাগ দাবি
কানিহাটি চা বাগানে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
সপ্তাহে অন্যায়ভাবে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তনের প্রতিবাদে ও চা বাগান পঞ্চায়েত নেতাদের পদত্যাগের দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর এর ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন চা শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে কানিহাটি চা বাগানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।
![]() |
বিক্ষোভকারী চা শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের ভরন পোষন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার উপর এই মজুরির টাকা থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে প্রফিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা কর্তন করার নিয়ম রয়েছে। সম্প্রতি মাসিক কর্তন বাদ দিয়ে আকষ্মিকভাবে তা সপ্তাহে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তন করা শুরু হয়েছে। সপ্তাহে ফান্ডের টাকা কর্তনের কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিধান প্রচলিত নেই। অথচ সাধারণ চা শ্রমিকদের সাথে কোন কথা না বলে এবং তাদের অনুমতি না নিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির এই সময়ে মজুরির টাকা থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তন করা হচ্ছে, যা কোন মতেই যুক্তিযুক্ত নয়।
রামভজন রবিদাশ, তেলামৃধা, রাধেশ্যাম রবিদাস, রীতা রবিদাসসহ চা শ্রমিকরা বলেন, সপ্তাহে টাকা কাটলেও সেটি মাসে জমা হচ্ছে। আমাদের সাপ্তাহিক মজুরির এই সামান্য টাকা থেকে দুর্গাপূজার চাঁদা, বিদ্যুৎ বিল, ইউনিয়ন চাঁদা, আঞ্চলিক পূঁজার চাঁদা সহ নানা বিষয়ে এমনিতেই টাকা কর্তন করা হয়। এরফলে আমাদের সাপ্তাহিক মজুরির প্রায় চার ভাগের একভাগ এমনিতেই শেষ হয়ে যায়। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে পরিবারের ভরন পোষন, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ আনুষঙ্গিক খরচাদি চালিয়ে যাওয়া মোটেও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এনজিওসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছি। এনজিও ঋণসহ নানা দেনার দায়ে আমরা জর্জরিত। এই অবস্থার মধ্যে সপ্তাহে অন্যায়ভাবে প্রফিডেন্ট ফান্ডের টাকা কর্তন করা হচ্ছে, তা অন্যায়।
তারা আরও বলেন, চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা সুবিধা পেয়ে ম্যানেজমেন্টের পক্ষে সবসময় ভূমিকা রাখছেন। ফলে আমরা চা শ্রমিকরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছি। তাই শ্রমিক বিরোধী এই পঞ্চায়েত নেতাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছি।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বসন্ত রবিদাস, রামচন্দ্র তেলী, বাসুদেব রবিদাস, রতিলাল রবিদাস, সুমন রবিদাস, বুলবুল রবিদাশ, রীতা রবিদাস, ফুলমতি রবিদাস, শ্রীকুমারী রবিদাস প্রমুখ।
নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময়
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার এর সাথে উপজেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার। তিনি বলেন, কমলগঞ্জের শিক্ষা, পর্যটন, যানজট, সীমান্ত, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ।
![]() |
মতবিনিময় সভায় কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুরুল মোহাইমীন মিল্টন, সাংবাদিক সাজিদুর রহমান সাজু, প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, শাব্বির এলাহী, শাহীন আহমদ, পিন্টু দেবনাথ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোক্তাদির আহমদ, মো: আব্দুল আহাদ, শাহাব উদ্দিন, মাহিদুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নির্মল এস পলাশ, আব্দুল মুনিম, শামীম তালুকদার প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন, সকলের মতামত শুনে সবাইকে সাথে নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার গণমানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলায় আমি নতুন যোগদান করেছি। উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে আমাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। তাই উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন স্বরুপ। তাই উপজেলার উন্নয়ন কর্মকা-ে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমি কমলগঞ্জ উপজেলায় ভালো কিছু করতে চাই। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এর আগে তিনি সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিসিএসের ৩৬তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা।
ইংরেজি শিক্ষায় ভীতি দূর করতে
‘শব্দ ভাণ্ডার’ প্রতিযোগিতায়
বিজয়ীদর বিশেষ প্রতীক প্রদান
ইংরেজি শিক্ষায় ভীতি দূর এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিক আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ওয়ার্ড মাস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘গুড নেইবারস বাংলাদেশ’ (জিএনবি)-এর পক্ষ থেকে উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ টি স্কুলের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘ওয়ার্ড মাস্টার প্রতিযোগিতা’ বিজয়ী হয় ৯০ শিক্ষার্থী।
![]() |
পরবর্তী সময়ে কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০ টি স্কুলের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করা ৯০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রথম হয়েছে গুড নেইবাস্ বাংলাদেশ একে বাংলা স্কুলের ফাতেমা আক্তার, ২য় হয়েছে কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীপনারায়ন দাস, ৩য় হয়েছে কমলগঞ্জ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল হক জাইমা, ৪র্থ হয়েছে ইসলামপুর পদ্মা মেমোরিয়াল পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উৎস দাস এবং ৫ম হয়েছে একে বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী জোহা আরফিন রাহি। এই পাঁচ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার হিসাবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ তালুকদার। গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ মৌলভীবাজার সি.ডি.পি. প্রকল্প ব্যবস্থাপক এন্ড্রিকো মন্ডলের সভাপতিত্বে ও একে বাংলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক নীহার কান্তি দেবের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামসুন নাহার, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আহমদ সিরাজ, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, শিক্ষক কৃষ্ণ কুমার সিংহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শেখার মনোভাব দৃঢ় ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যা নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। সারাদেশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে শিক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। একজন ভালো শিক্ষকের ছাত্র অবশ্যই দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
জানা যায়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন কাজ করছে। গুড নেইবারস্ পরিচালিত বিদ্যালয়সহ প্রকল্প এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সংস্থাটি নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় একাডেমিক পারফরম্যান্সে ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে গুড নেইবারস্ বাংলাদেশ ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় ওয়ার্ড মাস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।