চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে
বিক্ষোভ সমাবেশ।
বক্তারা বলেন, চা শিল্প দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। অথচ এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়
পাহাড়ি ছড়া থেকে সিলিকাবালু লোপাটের হিড়িক!
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে সিলিকা বালু লোপাটের হিড়িক শুরু হয়েছে। মানা হচ্ছে না উচ্চ আদালতের রায়। অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আর বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, প্রতিবেশ।
জানা যায়, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত মৌলভীবাজার জেলায় ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৩ সনের ১৮ জুন প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ১৯টি-কে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। ইজারা গ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনীভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কমলগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা সমূহের পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এব্যাপারে ২০১৬ সনের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে রীট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
![]() |
তবে উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দেওছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত এসব বালু বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক একটি মহল। প্রশাসন এদের বিষয়ে কার্যত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে ছড়ার বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী টিলাভূমি বিনষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব।
স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনকারী চক্র খুবই বেপরোয়া। তারা শ্রমিক লাগিয়ে বালু উত্তোলনের পর ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়ি যোগে পরিবহন ও বিক্রয় করছে। প্রশাসন আসার আগেই তারা টের পেয়ে যায়। তখন স্থান ত্যাগ করে। প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরই আবার উত্তোলন ও বিক্রয় অব্যাহত রাখে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক এড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ইজারা না নিয়ে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এটি ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। যাঁরা অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাঁরা উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনের বিষয়ে সরেজমিনে দেওছড়া পরিদর্শন করেছি। তবে সিলিকা বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে বুধবার দুপুরে এসিল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি। সেখানে যাওয়ার পর কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য ছড়া থেকেও বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১ শত নারী চা শ্রমিককে রেইনকোট প্রদান
আলোচনায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহিবুল আলম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় নারী চা শ্রমিকদেরকে রেইনকোট প্রদান করে আলোচনায় এসেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের অংশগ্রহণকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব শ্রীপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মুহিবুল আলম। গত রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানের নাট ম-পে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মুহিবুল আলমের পক্ষ থেকে কুরমা, বাঘাছড়া ও চাম্পারায় এই তিনটি চা বাগানের ১১ শত নারী চা শ্রমিককে বৃষ্টি থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষা দিতে রেইনকোট বিতরণের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
![]() |
স্থানীয় বিএনপি নেতা সুন্দর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. দুরুদ আহমদ। স্থানীয় বিএনপি কর্মী বারাম আলীর সঞ্চালনায় গেষ্ট অফ অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব মুহিবুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবুল হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সবুজ মিয়া, কুরমা চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি নারদ পাশি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা জানি বৃষ্টি বা রোদ কোনো কিছুই আমাদের চা শিল্পের চাকা থামিয়ে রাখতে পারে না। আর এই শিল্পকে সচল রাখার ক্ষেত্রে আমাদের নারী শ্রমিকদের অবদান অসামান্য। পরিবারের দায়িত্ব সামলে, ঝড়-বাদলের দিনেও তারা যেভাবে বাগানে কাজ করেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনাদের এই কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এবং কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতা মুহিবুল আলমের এমন উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয়। তার এই মহৎ উদ্যোগ রেইনকোট বিতরণের মাধ্যমে আপনাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। এই রেইনকোটগুলো আপনাদের বর্ষার দিনে বৃষ্টি ও ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা দেবে এবং কাজে আরও স্বাচ্ছন্দ্য আনবে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শ্রীপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মুহিবুল আলম বলেন, আমার পিতাও একসময় চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। আমি জানি চা শ্রমিকরা কিভাবে জীবন যাপন করেন। ঝড়-বাদলের দিনেও বৃষ্টিতে ভিজে চা পাতা চয়ন করে থাকেন, তাই তাদের কষ্টের কথা ভেবে আমার এই সামান্য উদ্যোগ। তার এমন মহৎ উদ্যোগের কারণে সকল চা শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির
ঘটনাস্থল পরিদর্শন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের নামে ফল ধরার আগমুহূর্তে ১২শ কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে গত ২২ জুলাই তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে তদন্ত কমিটি ঘটনের পরদিনই ২৩ জুলাই বৃহস্তপতিবার তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান জানান, কমলগঞ্জ উপজেলার কমলা গাছ কাটার বিষয়ে এ ঘটনায় একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
![]() |
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান (যুগ্মসচিব) তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে আরও রয়েছেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আব্দুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা (এডিসি রেভিনিউ)শাহিনা আক্তার। তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে পরবর্তী আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন কালে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান (যুগ্মসচিব) স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,আমরা ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাথ্য,প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র,ভোক্তভোগী ও বন বিভাগের বক্তব্য সহ তথ্য-উপাথ্য সংগ্রহ করেছি। এগুলো পর্যালোচনা ক্রমে কিছু দিনের মধ্যে সরকারের নিকট দাখিল করবো।
অপরদিকে সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আব্দুর রহমান বলেন, আমি তদন্ত কাজে সহযোগিতার জন্য এসেছি। তদন্তকাজ চলমান রয়েছে। এই মুহুর্তে এর চেয়ে বেশী কিছু বলা যাবেনা।
হামহামে আটকা পড়া ১০ পর্যটককে উদ্ধার
![]() |