1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
'যে জিতা কও না কেনে- তাল গাছ আমি পাইতাম অইবো' - মুক্তকথা
রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

‘যে জিতা কও না কেনে- তাল গাছ আমি পাইতাম অইবো’

সংবাদদাতা
  • প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ২ মে, ২০১৭
  • ২৯৮৫ পড়া হয়েছে

 

একটি ভারত উপমহাদেশীয় গ্রীষ্মকালীন ফল যা তালগাছ নামক পাম গোত্রীয় গাছে ফলে। তালের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Borassus flabellifer’ আর ইংলিশ নাম ‘Asian Palmyra Palm’। তাল গাছ পাম গোত্রের অন্যতম দীর্ঘ গাছ যা উচ্চতায় ৩৫ ফুটের উপরে পর্যন্ত পৌছতে পারে। প্রাকৃতিকভাবেই গাছটি দেরীতে ফল দেয়। তবে  তালগাছ শত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তাল গাছের মধ্যে স্ত্রীগাছ ও পুরুষগাছ দুটোই আছে। শুধুমাত্র স্ত্রীগাছ ফল দেয়। পুরুষ গাছে কোন ফল আসে না। আর এ জন্যই মনে হয় আমাদের দেশে তালগাছ রূপনে মানুষের আগ্রহ কম।  ‘তালের প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ নেই এখন, গ্রাম বাংলার তাল গাছও এখন প্রায় বিলীন হতে বসেছে।’ -এ দু’লাইন লিখে পাঠিয়েছেন আমাদের পরিচিত এক সাংবাদিক আব্দুল ওদুদ। তার এ দু’লাইন পেয়ে খেয়াল চাপলো তাল নিয়ে কিছু লিখার। তাই এ তাল উপাখ্যান।

তালের পাতা পাখার মত প্রশস্ত তাই পাম গোত্রীয় গাছ গুলিকে ফ্যান-পাম বলা হয় বলে শুনা যায়। তাল ভারতীয় উপমহাদেশীয় অনেক অঞ্চলেরই জনপ্রিয় গাছ কারণ এর প্রায় সব অঙ্গ থেকেই কিছু না কিছু কাজের জিনিস তৈরী হয়, কোন কিছুই ফেলা যায় না। তাল পাতা দিয়ে ঘর ছাওয়া, হাতপাখা, তালপাতার চাটাই, মাদুর, আঁকবার পট, কুণ্ডলী, পুতুল ইত্যাদি বহুবিধ সামগ্রী তৈরী হয়। প্রাচীনকালে এমনকি মধ্য যুগেও আমাদের পুরো ভারতীয় অঞ্চলে তালপাতায় পুঁথি লেখা হতো। তালপত্রের সেই পুরোনো পুঁথিসাহিত্য বহু বাড়ী-ঘরসহ যাদু ঘরেও পাওয়া যায়। তালগাছ দিয়ে ঘরের পালা বা খুঁটি থেকে শুরু করে তালের কাণ্ড পর্যন্ত বাড়ি-ঘর বানানোর অনেক কাজে লাগানো হয়ে থাকে। আমাদের উপমহাদেশসহ তালগাছ দিয়ে নৌকা বানানো দুনিয়ার বহুদেশে প্রচলিত আছে। দুনিয়ার সবখানেই বিচিত্র ধরণের প্রায় আড়াই হাজার প্রজাতির তালগাছের দেখা মেলে বলে শুনা যায়। মনে হয় সারা বিশ্বে এমন কোনো দেশ নাই যেখানে তালগাছের দেখা মিলবে না। ‘কুইন্ডিও ওয়াক্স পাম’ নামে পরিচিত কলম্বিয়ার তালগাছটিকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ বলে মনে করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই গাছটির উচ্চতা প্রায় ১৯৭ ফুট। বিশ্বের প্রথম দিকে গড়ে ওঠা মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় তালগাছের বহুল ব্যবহার সম্পর্কে গবেষকদের কাছে অনেক তথ্য আছে।
খাদ্যগুণের দিক থেকে‌ও তাল কম নয়। তালের ফল এবং বীজ দুইই বাঙালি খাদ্য। তালের ফলের ঘন নির্যাস থেকে তাল ফুলুরি তৈরী হয় আমাদের স্থানীয় কথায় ‘তালমন’ বলা হয়। তালের বীজও খাওয়া হয় লেপা বা “তালশাঁস” নামে। তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, তাড়ি (একপ্রকার চোলাই মদ) ইত্যাদি তৈরি হয়।
বাঙালি সমাজ জীবনে ‌ও দর্শনে অনেক গাছের কথা ‌ও কাহিনী আছে কিন্তু তালগাছ তার নিজস্ব অনন্যতায় ধন্য হয়ে রবিঠাকুরের কবিতা পর্যন্ত পৌঁচেছে। এ ছাড়া‌ও জ্ঞানী-গুণীদের বিভিন্ন লেখায় তাল গাছের কথা উঠে এসেছে বারবার। স্থানীয় কথ্যভাষায় একটি প্রবাদ আছে-‘যে জি-তা ক‌ও-না কেনে, তাল গাছ আমি পাইতাম অইবো’। কথাটির প্রচলন অতি প্রাচীন। বহুকাল থেকে সারা দেশ জুড়ে সকল সমাজেই প্রবাদটি চালু আছে ভাষার বৈচিত্রতায় বিভিন্ন নমুনায়। প্রবাদের অর্থ মনে হয় ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। আসলে তালগাছ নিয়ে গ্রামবাংলায় অনেক প্রবাদ ও জনশ্রুতি রয়েছে।
সবচেয়ে অপ্রিয় যে বিষয়টি তালগাছকে নিয়ে রয়েছে তা’হল তালগাছের ফলনে দেরী করা। অধিকাংশ মানুষই তাল গাছ লাগিয়ে এর ফল খেয়ে যেতে পারে না। তাই আমাদের দেশীয় সমাজে একটি অপবিশ্বাস কাজ করে যে এই গাছ লাগানোতে শুভ কিছু নেই। একটু অবাক করা হলেও শুনেছি যে আমাদের বেশির ভাগ মানুষ মধ্য কিংবা শেষ বয়সে এসে তালগাছ লাগাতে পছন্দ করেন। ফলে দেশের মৌলভীবাজার অঞ্চলে তালগাছ রূপন হচ্ছে না সে পরিমানে আর তাই ইদানিং অতীব প্রয়োজনীয় এই গাছটি বিরল হয়ে উঠছে। আমাদের কৃষিবিভাগ এ বিষয়ে হয়তো কোন বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। -উইকিপিডিয়া ও প্রতিক্ষণ অবলম্বনে
হারুনূর রশীদ, লন্ডন, মঙ্গলবার
১৮ বৈশাখ ১৪২৪, ২ মে ২০১৭

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT