বাংলাদেশ: সমস্যা ও সমাধানসমস্যার পাহাড় এতই উঁচু যে কোন দিক থেকে কুঁড়তে শুরু করবো…![৩] |
[নিচের প্রথম ৬টি লাইন আগের সংখ্যার সর্বশেষ অনুচ্ছেদ থেকে নেয়া: বিগত লিখার শেষ খুঁজে পাওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা]
৩. বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব (Geopolitics)• সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা:
বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ নিতে গিয়ে দেশ যেন কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের আজ্ঞাবহ না হয়ে পড়ে।বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমেরিকা, চীন ও ভারতের মতো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশের জন্য “সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা” বজায় রাখা বড় একটি কঠিণ কাজ। ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন।
| বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা: ১. সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা: আজ্ঞাবহ না হয়ে ভারসাম্য (Hedging Strategy)- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনুস এক্ষেত্রে দেশের বারোটা বাজিয়ে গেছেন। তিনিই আমেরিকার সাথে আজ্ঞাবহ শর্তের চুক্তি করে গেছেন। অথচ বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের (যেমন: মার্কিন-নেতৃত্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক বা চীন-নেতৃত্বাধীন বিআরআই) আজ্ঞাবহ না হয়ে পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি ছিল। বহুমুখী কূটনীতি (Multi-vector Diplomacy): কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বন্ধুত্বের পরিধি বাড়াতে হবে। চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। বাণিজ্যিক ভারসাম্য: চীন ও ভারত থেকে আমদানির পাশাপাশি, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং যুক্তরাজ্যের মতো রপ্তানি বাজারে সম্পর্ক দৃঢ় করা। শর্তসাপেক্ষ সহযোগিতা: বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঋণ বা সহায়তার শর্তাবলী কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে যাতে সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ না হয় এবং “ঋণের ফাঁদ” থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।২. “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতি ও জাতীয় স্বার্থ: দলগত বা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া (Bangladesh First Policy) বর্তমান সময়ের দাবি।কূটনৈতিক স্বাধীনতা: দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে কোনো বিদেশী শক্তির চাপ বা অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া যাবে না। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংযোগ: দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) এবং BIMSTEC-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সক্রিয় থেকে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা। উন্নয়ন কৌশল: এমন বিনিয়োগ গ্রহণ করা যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে, কেবল রাজনৈতিক সুবিধা নয়।৩. নতুন সরকারের জন্য দিকনির্দেশনা (Geopolitical Directions) কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy): বৈশ্বিক সংঘাত বা বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে (যেমন- ইউক্রেন বা ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যু) নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা এবং নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া।রপ্তানি ও বিনিয়োগ বৈচিত্র্যকরণ: গার্মেন্টস বা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন বাজার ও পণ্য (যেমন- আইটি, ফার্মাসিউটিক্যালস) অনুসন্ধান করা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সম্পর্ক: ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, যা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি: অর্থনীতিতে সুশাসন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যা বিদেশী শক্তির অযাচিত প্রভাব বা চাপ কমাতেও সাহায্য করবে। ভূ-অর্থনৈতিক কৌশল (Geo-economic Strategy): মাতারবাড়ী বা পায়রা সমুদ্র বন্দরের মতো গভীর-সমুদ্র অবকাঠামো ব্যবহার করে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক হাব হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। সংক্ষেপে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” (Friendship to all, malice towards none)-এর আদলে ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন, যেখানে ‘জাতীয় স্বার্থ’ হবে যেকোনো সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। • জাতীয় স্বার্থ: দলগত স্বার্থের চেয়ে “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতি কীভাবে রক্ষা করা যায়, সেদিকে নজর দেয়া জরুরী। ৪. কিছু দিকনির্দেশনা- |