কোন ব্যর্থতার চরম মূল্য দিয়ে যাচ্ছে বৃটিশ নাগরীক
শামিমা বেগমসহ আরো অনেকেই।
সিরিয়ায় আইএস কারাগারগুলোতে সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম মুক্তি পেতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই শামিমা বেগম বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ আটক শিবিরে বন্দি আছেন। কুর্দি বাহিনী এবং আইএস-এর মধ্যে চলা এ লড়াইয়ে কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় শামীমা সহ হাজার হাজার আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বিবিসি এমন খবর প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে শামীমা বেগম ইসলামিক স্টেটের খেলাফতে বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
সিরিয়ার বন্দী শিবিরে বৃটিশ নাগরীক শামীমা বেগম। ছবি: অন্তর্জাল |
প্রকাশিত খবরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে যা জানা গেছে তা’হলো, আইএস কারাগারগুলোতে সংঘাত চলছে এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আইএস নিয়ন্ত্রিত কারাগারগুলোতে কুর্দি বাহিনী(SDF) এবং আইএস সদস্যদের মধ্যে সহিংস লড়াই চলছে, ফলে কারাগারগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
শামীমা বেগম মুক্তি পেতে পারেন, এ নিয়ে বিবিসি’র খবর থেকে যতদূর জানা গেছে যে, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে শামীমা বেগম এবং অন্যান্য আটক ব্যক্তিরা মুক্তি পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ কুর্দিরা কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান হলো- ব্রিটিশ সরকার শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যদিও ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত(ECHR) ব্রিটিশ সরকারের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে।
শামীমার আইনজীবীরা তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু ব্রিটিশ আদালত এবং সরকার এই সিদ্ধান্তকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
![]() সিরিয়ার বন্দীশিবিরে মুক্ত শিশু-কিশোররা দৌড়াদৌড়ি করছে। ছবি: অন্তর্জাল থেকে। |
এখানে উল্লেখযোগ্য যে, শামীমা বেগম ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে দুই বান্ধবীসহ যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়ায় আইএস-এ যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় এবং তখন থেকে তিনি সিরিয়ার আটক শিবিরে বন্দি আছেন।
তার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আইনি বিতর্ক চলছে, কারণ তার মতে তিনি পাচারের শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তাকে রাষ্ট্রহীন ঘোষণা করতে চায়নি কারণ তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রয়েছে।
সংক্ষেপে সর্বশেষ খবর হলো, শামীমা বেগম সিরিয়ার আল-রোজ শিবিরে বন্দি আছেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে তার মুক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও যুক্তরাজ্য সরকার তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করে আসছে।
আইএসআইএস(ISIS) বধূ হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শামীমা বেগমের পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামে। তার পিতা আহমদ আলী এবং মা। যদিও তিনি পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রীনে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন এবং কখনোই বাংলাদেশে যাননি।