1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
"অতীত তুমি কাজ করে যাও গোপনে গোপনে"... - মুক্তকথা
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

“অতীত তুমি কাজ করে যাও গোপনে গোপনে”…

লেখক, সাংবাদিক, গবেষক হারুনূর রশীদ
  • প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ পড়া হয়েছে

 

ইতিহাস তাই শুধু অতীত নয়; এটি
ভবিষ্যতের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে বিভিন্ন বামপন্থী শক্তি মনে করত যে শুধু সংসদীয় সরকার নয়, একটি বিপ্লবী জাতীয় সরকার দরকার—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সব বিপ্লবী শক্তি একত্র হবে।

এই দাবিটি তুলেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন যেমন সিরাজুল আলম খান, মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, বিধানকৃষ্ণ সেন প্রমুখ।

তাদের যুক্তি ছিল:
• স্বাধীনতা এসেছে একটি জনযুদ্ধের মাধ্যমে,
• তাই রাষ্ট্র পরিচালনায়ও বিপ্লবী শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্ব দরকার।

কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সংসদীয় কাঠামোর ভেতরেই রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিলেন। ফলে জাসদের প্রস্তাবে তিনি গুরুত্ব দেননি, বরং কখনও ব্যঙ্গও করেছিলেন।

২. বর্তমান প্রসঙ্গ

আজকের রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে সংসদে এমন কিছু ঘটনা বা বক্তব্য উঠে আসে যা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। উদাহরণ হিসেবে যে প্রসঙ্গ
আনা যায় তা’হলো—যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের নিয়ে সংসদে
শোক প্রস্তাব—এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন।

খুবই স্বভাবিকভাবে এখানে যুক্ত হয়ে যায় আরেকটি রাজনৈতিক শক্তি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

 

৩. ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের দুটি দৃষ্টিভঙ্গি

ক) জাসদের যুক্তি থেকে দেখা

কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন—
যদি তখন একটি “বিপ্লবী জাতীয় সরকার” হতো, তাহলে হয়তো:
• মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে আরও শক্তভাবে রাষ্ট্র কাঠামোয় স্থাপন করা যেত
• বিরোধী বা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির পুনরুত্থান কঠিন হতে পারত।

অর্থাৎ, আজকের কিছু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে তারা সেই সময়কার সিদ্ধান্তের ঐতিহাসিক ফল বলেই মনে করেন।

খ) বাস্তব রাজনৈতিক বিবর্তনের দৃষ্টিতে অন্য বিশ্লেষণ বলছে—
• ইতিহাস সরল কারণ-ফল নয়
• পরবর্তী সামরিক শাসন, ক্ষমতার পালাবদল, আন্তর্জাতিক রাজনীতি—এসবও বড় ভূমিকা রেখেছে
• তাই আজকের ঘটনা শুধু ১৯৭২ সালের সিদ্ধান্তের ফল বলা অতিরঞ্জিত হতে পারে।

৪. বিষয়টি একটি ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক প্রতিফলন। দূর্বল হলেও এটি আমার ধারণা।
• “১৯৭২-এর বিতর্ক ও আজকের সংসদ: ইতিহাসের এক দীর্ঘ ছায়া”
• “বিপ্লবী জাতীয় সরকারের বিতর্ক: ইতিহাস কি ফিরে প্রশ্ন তুলছে?”১৯৭২-এর বিতর্ক ও আজকের সংসদ: ইতিহাসের এক দীর্ঘ ছায়াবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আছে, যেগুলো তখন সাময়িক মতবিরোধ বলে মনে হলেও পরে দেখা যায়—সেগুলো আসলে দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রশ্নের সূচনা। ১৯৭২ সাল ছিল তেমনই একটি সময়। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। নতুন রাষ্ট্রকে দ্রুত একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ বেছে নেন।কিন্তু একই সময়ে দেশের একটি অংশ মনে করছিল—মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রকে আরও ভিন্ন পথে এগিয়ে নিতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তি— জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল — একটি দাবি তোলে: “বিপ্লবী জাতীয় সরকার” গঠনের।তাদের যুক্তি ছিল, মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি স্বাধীনতার সংগ্রাম নয়; এটি ছিল একটি গণবিপ্লব। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায়ও সেই বিপ্লবী শক্তির সম্মিলিত নেতৃত্ব প্রয়োজন।সে সময়ের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব এই ধারণাকে গ্রহণ করেনি। বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়। সেই সময়ের এই মতবিরোধ হয়তো একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিতর্কই ছিল। কিন্তু ইতিহাসের একটি বৈশিষ্ট্য আছে—কিছু প্রশ্ন সময়ের ভেতরে দীর্ঘ ছায়া ফেলে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার পরিবর্তন, রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস এবং আদর্শিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে এমন কিছু রাজনৈতিক শক্তি, যাদের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত ছিল—যেমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।আজ যখন সংসদের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখা যায়, তখন অনেকের কাছে মনে হয়—১৯৭২ সালের সেই বিতর্ক কি সত্যিই শেষ হয়ে গিয়েছিল? সম্ভবত নয়। ইতিহাস কখনো সরাসরি ফিরে আসে না, কিন্তু তার ছায়া অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
বিপ্লবী জাতীয় সরকারের বিতর্ক: ইতিহাস কি ফিরে প্রশ্ন তুলছে?
স্বাধীনতার পর একটি রাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়—তার রাজনৈতিক চরিত্র কী হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নটি ১৯৭২ সালেই সামনে আসে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু একই সময়ে কিছু রাজনৈতিক শক্তি মনে করত, মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রকে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক পথে নিয়ে যেতে পারে। এই অবস্থান থেকেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একটি দাবি তোলে—বিপ্লবী জাতীয় সরকার।এই ধারণার মূল কথা ছিল—মুক্তিযুদ্ধের বিপ্লবী শক্তিগুলোর ঐক্য বজায় রেখে একটি যৌথ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এই দাবি সেই সময় বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু ইতিহাসতো আর দাঁড়িয়ে থাকবে না। ইতিহাস তার নিজের গতিতে এগিয়ে গেছে। কিন্তু ইতিহাসের প্রশ্ন কখনো সম্পূর্ণ বিলীন হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলে সেই পুরনো প্রশ্নগুলো আবার ফিরে আসে। আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নতুন বিতর্ক দেখা যায়, তখন অনেকেই ভাবতে শুরু করেন—সেই সময়ের সিদ্ধান্তগুলো কি অন্যভাবে নেওয়া যেত?
এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই।কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তার রাজনৈতিক চরিত্রকে প্রভাবিত করে।
ইতিহাস তাই শুধু অতীত নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT