কিছু কিছু খবর আছে যে খবরগুলো শুনলে আতঙ্কিত হওয়া খুব স্বাভাবিক। বলছিলাম ‘বেন্নু’ (Bennu) নামের ওই গ্রহাণুর কথা। যা নিয়ে সম্প্রতি অনেক আলোচনা হচ্ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল “বেন্নু” গ্রহাণূটি ২১৮২সাল নাগাদ তার চলার পথে পৃথিবীর সাথে ধাক্কা লাগতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই। আপনার দেখা সংবাদটি সম্ভবত ‘বেন্নু’ (Bennu) নামক একটি গ্রহাণু সম্পর্কে, পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য নিচে কিছু তথ্য দেওয়া হলো:
১. আঘাত হানার সম্ভাবনা কতটুকু?
নাসার (NASA) বিজ্ঞানীদের মতে, বেন্নুর পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আগামী ২১৮২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই গ্রহাণুটির পৃথিবীতে আসার একটি সম্ভাবনা রয়েছে, তবে গাণিতিক হিসেবে সেই ঝুঁকি মাত্র ২,৭০০ ভাগের ১ ভাগ (বা ০.০৩৭%)। অর্থাৎ, ৯৯.৯৬% সম্ভাবনা আছে যে এটি পৃথিবীকে স্পর্শই করবে না।
২. “২২টি পারমাণবিক বোমা” কি সঠিক?
হ্যাঁ, এই হিসাবটি মূলত এর শক্তির মাত্রাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বেন্নু যদি কোনোভাবে পৃথিবীতে আঘাত হানে, তবে তার শক্তি হবে প্রায় ১,২০০ মেগাটন টিএনটি (TNT)। এটি হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ৮০,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। তবে মনে রাখবেন, এটি কোনো দেশ বা মানবসৃষ্ট হামলা নয়; এটি কেবল একটি মহাজাগতিক বস্তুর সম্ভাব্য গতির হিসাব।
![]() |
৩. আমরা কি এখন বিপদে আছি?
একদমই না। কারণ:
• সময়: এটি আরও প্রায় ১৫৯ বছর পরের কথা।
• প্রস্তুতি: নাসা ইতোমধ্যে OSIRIS-REx মিশনের মাধ্যমে এই গ্রহাণু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে। বিজ্ঞানীরা এখন এর গতিপথ আরও নিখুঁতভাবে জানেন।
• প্রযুক্তি: যদি ভবিষ্যতে দেখা যায় এটি সত্যিই পৃথিবীর দিকে আসছে, তবে আমাদের কাছে ‘DART’ মিশনের মতো প্রযুক্তি আছে যা দিয়ে গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব।
সংক্ষেপে: খবরটি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও, এটি কোনো বর্তমান বিপদ নয়। সংবাদমাধ্যমগুলো অনেক সময় সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে একটু বেশি নাটকীয়ভাবে শিরোনাম লেখে।
আপনি কি বেন্নু বা নাসা কীভাবে এই ধরণের গ্রহাণু ঠেকানোর পরিকল্পনা করছে সে সম্পর্কে আরও জানতে চান?