|
শ্রীমঙ্গলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী- সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে
সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ মৌলভীবাজার-এর উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন ক্রীড়াঙ্গণের দীর্ঘ দিনের স্থবিরতাকে নতুন একটি উদ্যমে যাতে জাগিয়ে তোলা যায়, সেই লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাদের সকল মন্ত্রীকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে ক্রীড়া ভাতা বা ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। যাতে আমরা খেলাধূলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। খেলাধুলার মাধ্যমে যাতে একজন খেলোয়াড় বা তার পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে নিজেকে, তার পরিবারকে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন যে, ক্রীড়া কার্ড শুধু একটি কার্ড নয়। এই কার্ডের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা, তার মর্যাদা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তার স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমাসহ সকল নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা নির্বাচনী ইস্তেহারের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলা থেকে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রথম ধাপে উপজেলা পর্যায়ে টিম গঠন করে করে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। এরমধ্যে ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে আমরা যাদেরকে নির্বাচিত করবো তাদেরকে আমরা স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করাবো। এরপর থেকে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলাসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। নতুন কুঁড়ির এসব ক্রীড়াবিদদের সকল ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় শ্রীমঙ্গলের পাঁচ তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ এর রোশনি মহলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা। সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ মৌলভীবাজার উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক এবং সুধীজন। প্রথমেই প্রধান অতিথি ও সম্মানিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। জাতীয সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল পর্ব। ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে আমন্ত্রিত অতিথিদের মৌলভীবাজার ক্রীড়াঙ্গণের সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব ইজদানী ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সিনিয়র সদস্য আব্দুল মুকিত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, যুবদল কেন্দ্রীয কমিটির সহ সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, তিনি বক্তব্যে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফুটবল মাঠের বেহাল দশা তুলে ধরেন। মৌলভীবাজার জেলার ক্রীড়াঙ্গণকে শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, আনন্দধারা ক্লাবের সভাপতি স্বাগত কিশোর দাশ, কোয়াবের সাবেক সভাপতি হাসান আহমেদ জাবেদ, মাহদী এলিভেন এর অধিনায়ক জাহেদ আহমেদ চৌধুরী, কোয়াবের সভাপতি সারওয়ার মজুমদার ইমন, মৌলভীবাজার ডিএফ এর সদস্য মারুফ আহমেদ প্রমূখ। |
|
দেশের শ্রেষ্ট ক্ষুদে গবেষক শ্রীমঙ্গলের
১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬ প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে সারা বাংলাদেশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে শ্রীমঙ্গলের ফাহমিদা আমিন আদিবা ও অন্বেষা ধর।
শনিবার (৩অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ক্ষুদে গবেষক-২০২৬ হিসাবে শ্রীমঙ্গলের ফাহমিদা আমিন আদিবা ও অন্বেষা ধর দলগতভাবে অংশগ্রহন করে ‘ক’ গ্রুপে সারা বাংলাদেশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এবারই প্রথম তারা দুজন দলগতভাবে চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলনে অংশগ্রহন করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তারা উভয়ই সেন্ট মার্থাস উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল এর ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সারা বাংলাদেশ থেকে ৭ম থেকে ১০ শ্রেণির প্রাথমিক পর্যায়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুদে গবেষক চূড়ান্ত প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করে। ক্ষুদে গবেষক হিসাবে গত জানুয়ারী-২০২৬ হতে তাদের এ গবেষনা কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ ৩ অক্টোবর চূড়ান্ত উপস্থাপন এবং বিচারকদের রায় এবং শ্রেষ্ট পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে তাদের এই গবেষনার সমাপ্তি হয়। |
| শ্রীমঙ্গলে শেষ হলো বইপড়া উৎসব
ল্যাপটপ পেল ৮ শিক্ষার্থী, ৭৪০ জন পেয়েছেন সনদ ও বই গতাকাল শনিবার শ্রীমঙ্গলের জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী, সকল বিজয়ী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বই পড়ে মেধা যাচাইয়ের ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে ল্যাপটপসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার জিতেছে ৮ জন শিক্ষার্থী।
আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ ও আকর্ষনীয় পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থীরা হলো- ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা। এছাড়া প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম ছাড়া আরও ৯ জন করে শিক্ষার্থীকে সনদ, ক্রেস্ট ও বই প্রদান করা হয়। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ও স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশের পরিচালনায় সমাপনী আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি থেকে ফেরাতে এবং নিয়মিত পাঠক হিসেবে গড়ে তুলতে গত জুলাই মাস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই উৎসব শুরু হয়। মোট তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে উপজেলার ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও জীবনীমূলক প্রায় ৩৮টি বই পড়তে দেওয়া হয়। উৎসবটি তিনটি ধাপে সাজানো হয়—‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’। প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট পাঠ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে উন্নীত করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন সমৃদ্ধ করতে এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতেই এ আয়োজন। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর পাঠাগার চর্চা নতুন করে সচল হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকশিত করতে এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। |