অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান,
১০ ট্রাক সিলিকা বালু জব্দ
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বিগত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুটিয়াছড়া এলাকায় হেকিম মিয়ার মালিকানাধীন জমির পাশের একটি লেবুবাগানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিনের উপস্থিতিতে প্রায় ১০ ট্রাক সিলিকা বালু জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে ওই এলাকায় পাকা রাস্তার মুখে স্টিলের গেইট স্থাপন করে বিশেষ ব্যবস্থায় অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন হেকিম মিয়া। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
জাম্বুরাছড়া রাস্তার বেহাল দশায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ
উন্নয়নে তাৎক্ষণিক ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪নং সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গ্রাম ‘জাম্বুরাছড়া’। গ্রাম থেকে চলাচলের একমাত্র মাটির রাস্তাটি বর্ষা শুরুর পর থেকেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রী, মহিলা ও বয়স্ক লোকেদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে স্বাস্থ্যসেবায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় এলাকাবাসী।
এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এ কর্মসূচীতে এলাকার শত শত লোকজন অংশগ্রহণ করে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, সংবাদ মাধ্যম এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে রাস্তার বেহাল অবস্থার বিষয়ে অবগত হযেছি। জানার সাথে সাথে এমপি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি। উনার পরামর্শক্রমে তাৎক্ষণিক এডিবির তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। যাতে দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে রাস্তার উন্নয়ন করে চলাচল উপযোগী করা যায়। কাজ শুরুর পর অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। আমরা চেষ্টা করবো রাস্তাটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যাতে এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
উল্লেখ্য, জাম্বুরাছড়া গ্রামে মানুষের বসবাস শুরু হয়েছে প্রায় একশ বছর আগে। অথচ বিদ্যুৎ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন এখানকার বাসিন্দারা। নেই কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেই কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এমনকি কাছাকাছি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না গ্রামটির মানুষ। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অবহেলিত এই গ্রামটি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামের মানুষজনের যাতায়াতে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।