সংবাদ সম্মেলন
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে মামলা ও মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বাজারের চা বাগান সড়কে দোকান ভিটার সীমানা নির্ধারণ ও ভূমি বুঝিয়ে না দিয়ে বিক্রি করতে চাইলে আপত্তি জানানোয় আদালতে মামলা ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিটের শমশেরনগরস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষ শাহীন শেখ ও আনোরুল হক এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন রিমন।
লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন রিমন বলেন, শমশেরনগরের বাসিন্দা শাহীন আহমদ খান ও ফয়েজ আহমেদ এর কাছ থেকে আমার মামা শাহাজাদ আলী ২০০১ সনে তিন শতাংশ দোকান রকম ভূমি ক্রয় করেন। হঠাৎ দেখা যায় ঐ দোকানের পূর্বপাশের টিন কেটে শাহীন শেখ ও আনোরুল হক করিডোর জবরদখল করে পার্শ্ববর্তী সাইফুর রহমান চৌধুরী লিমনের সাথে ৩২ লক্ষ টাকায় দুই শতক ভূমি বিক্রির চুক্তি করেন। আমরা খবর পেয়ে সীমানা নির্ধারণ ও আমাদের জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আপত্তি জানাই। আপত্তি জানানোর দু’তিন দিন পরই প্রতিপক্ষ শাহীন শেখ সর্বপ্রথম মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালত, কমলগঞ্জে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। তারপর থেকে শাহীন শেখ আমার বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় একের পর এক অভিযোগ দিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমার মামা প্রবাসে থাকার সুবাদে উনার জমি ও দোকানভিটা দেখভাল এবং পরিচালনা করার জন্য আমমোক্তার এর বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ শাহীন শেখ এর মামলার প্রায় ৬ মাস পর আমি আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর আদালত গত ১৭ জুন মামলা শুনানির পর শাহীন শেখ ও আনোয়ারুল হক এর বিরুদ্ধে ১৭০৬ ও ১৭০৭ দাগের ভূমিতে নালিশা মতে স্থিতাবস্তা (ট্যাটাস্ক) আদেশ করেন।
উক্ত ভূমিকে কেন্দ্র করে শাহীন শেখ ও আনোয়ারুল হক আমার মামা ও আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ও থানায় অভিযোগ দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন। ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিলেও তাতে রাজি হননি শাহীন শেখ ও আনোয়ারুল হক। এরপরও তারা গত ২৭ জুন একটি সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের স্থিতাবস্তা আদেশ হওয়ায় আমাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দিচ্ছে।
অভিযোগ বিষয়ে শাহীন শেখ ও আনোয়ারুল হক বলেন, তারা বাজারমূল্যের অনেক কম দামে জমি কিনতে চায়। তাছাড়া বিজ্ঞ আদালত ১৭০৬ দাগে স্থিতাবস্থার আদেশ দিলেও প্রতিপক্ষ প্রভাব বিস্তার করে পুলিশ দিয়ে ১৭০৭ দাগে দোকান ভিটা নির্মাণ কার্যক্রমে বাঁধা প্রদান করছে। একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
ধলাই নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের নিখোঁজের একদিন পর ধলাই নদী থেকে তামিম ইকবাল (৫) এর নিথর দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। রোববার দুপুরে কাটাবিল গ্রামে ধলাই নদী থেকে পরিবারের লোকজন তামিমের নিথর দেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাটাবিল গ্রামে গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ির সামনে গ্রামীন সড়কের সংস্কার কাজ করা দেখছিল শিশু তামিম ইকবাল। এসময় তার শরীরে কাঁদা ছিটিয়ে পড়লে তামিম ঘরে গিয়ে পরনের টিশার্ট খুলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারসহ পুরোগ্রামবাসী সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও শিশু তামিমের কোন সন্ধান পাননি। রোববার দুপুরে ধলাই নদীতে তার নিথর দেহ পাওয়ার পর উদ্ধার করা হয়।
আদমপুর ইউপি সদস্য জুমের আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. কমর উদ্দীন বলেন, আমাদের সংবাদ জানালে পুলিশ সরেজমিনে পাঠিয়ে প্রয়োজনে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।