1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
মুজতবা আলী এখানে মিষ্টি খেতে আসতেন - মুক্তকথা
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পূজা মণ্ডপে মন্ত্রী আরিফুল, সড়কের ব্যাপক গাছ চুরি, বাগান শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ; বিষ প্রয়োগে লক্ষ টাকার ক্ষতি। প্রখ্যাত ফুটবলখেলোড়ী , মাহি উদ্দিন সেলিমকে সংবর্ধনা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালিত, শিশুর মৃত্যু, নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, ‘হিউম্যান রাইজ-‘এর নিজস্ব অফিস নির্মাণ ও হৃদরোগে মৃত্যু। তড়িঘড়ি করে ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিককে অনুমোদন। পালিত হলো বর্ণবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ৯০ বছর। একটি নার্সারী পুঞ্জির ৮হাজার পানগাছ দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে। খেলাধুলা এখন পেশা, আদিবা ও অন্বেষা শ্রেষ্ট ২ ক্ষুদে গবেষক, বইপড়া উৎসব ও শ্রমিকনেতা মফিজআলী, পূঁজা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা সভা, গরুচুরি, অনিয়মের জন্য জরিমানা, জমিনিয়ে বিরোধের শেষে। শেখ হাসিনা- দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা ও আইনী সমস্যা(২)… মণিপুরি ভাষা দিবস, মরদেহ উদ্ধার, আটকে পড়া ট্রেন লাউয়াছড়ায়, পূঁজা নিয়ে এমপি’র সাথে বৈঠক, জলখাবার বাক্স ও বইথলি বিতরণ এবং বৃক্ষরূপন

মুজতবা আলী এখানে মিষ্টি খেতে আসতেন

আব্দুর রব॥
  • প্রকাশকাল : সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৩৪৮ পড়া হয়েছে
ঐতিহ্য উল্লেখ করে জনাব আব্দুর রব আজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মৌলভীবাজার থেকে লিখেছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা.কম-এ মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান ‘ম্যানেজার ষ্টল’কে নিয়ে। আব্দুর রব-এর নিবন্ধটি আমাদের পছন্দ হওয়ায় তাদের কারো অনুমোদন না নিয়েই আমরা পুনঃ প্রকাশ করলাম। আমাদের পাঠকবৃন্দের জানাজানির স্বার্থে আজকের পত্রিকা ও লেখক আব্দুর রব-এর অনুমোদন ছাড়া হুবহু পুনঃ পত্রস্ত করার জন্য তাদের কাছে আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। -সম্পাদক

আব্দুর রব

রবীন্দ্রনাথ না এলেও মৌলভীবাজারে পৈতৃক বাড়ি হওয়ার সুবাদে সেখানে মিষ্টি খেতে যেতেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তেমনটাই জানা গেল মৌলভীবাজারের অতিপরিচিত ও জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান ‘ম্যানেজার স্টলে’ গিয়ে। প্রায় পঁচাত্তর বছর আগে শহরের চৌমুহনী এলাকায় যাত্রা শুরু হয় এ মিষ্টির দোকানটির। তখন এর নাম ছিল ‘মদন মোহন মিষ্টান্ন ভান্ডার’। কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে সুশীল চন্দ্র এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন ম্যানেজার নামে। ফলে ধীরে ধীরে মদন মোহন মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে ম্যানেজার স্টল নামে বদলে যায় দোকানটির নাম।

ম্যানেজার স্টলের বর্তমান স্বত্বাধিকারী সুমেশ দাশ যিশু। তিনি জানান, তাঁর বাবা সুশীল চন্দ্র দাশের হাতে উনিশ শ সাতচল্লিশ সালের দেশভাগের পর ম্যানেজার স্টলের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় পঁচাত্তর বছরের পুরোনো এ মিষ্টান্ন ভান্ডারটি এখন মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত একটি নাম। এই জনপদে একনামে পরিচিত ম্যানেজার স্টলের স্পঞ্জ রসগোল্লা। যেমন তার নাম, তেমনি অপূর্ব স্বাদ। গরুর দুধের ছানা থেকে তৈরি এই রসগোল্লার খ্যাতি জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে ইতিমধ্যে।
সুমেশ দাশ যিশু আরও জানান, তাঁদের স্পঞ্জ রসগোল্লা গণভবন, বঙ্গভবন ও সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে একাধিকবার। এলাকার প্রবাসীরা দেশে এলে কিংবা প্রবাসীদের আবদার রক্ষায় আত্মীয়স্বজনেরা বিশেষ ব্যবস্থায় বিদেশেও এ রসগোল্লা পাঠিয়ে থাকেন।

অতীতের মদন মোহন মিষ্টান্নভাণ্ডারই আজকের ঐতিহ্যবাহী ম্যানেজার ষ্টল

ম্যানেজার স্টলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বানাতে এখানে প্রতিদিন ৬০-৭০ কেজি ছানার প্রয়োজন হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুধ সংগ্রহ করে ছানা তৈরি করা হয়। ম্যানেজার স্টলের মূল আকর্ষণ স্পঞ্জ মিষ্টি বা স্পঞ্জ রসগোল্লা। সঙ্গে রয়েছে প্যারা সন্দেশ, বুন্দিয়া, রসমালাই, দই, নিমকি, কালোজাম, জালমোহন মিষ্টি। প্রতিদিন এখানে বিক্রি হয় এক থেকে দেড় হাজার বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। তবে এর বেশির ভাগই স্পঞ্জ রসগোল্লা। ম্যানেজার স্টলের প্রধান কারিগর সুজিত জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ১০-১২ জন কারিগর এখানে মিষ্টি তৈরি করেন। সব মিলিয়ে ৩০ জন মানুষ বিভিন্নভাবে যুক্ত রয়েছেন এই দোকানের মিষ্টি তৈরির সঙ্গে।

এ অঞ্চলের অনেকেই ৩০-৪০ বছর ধরে ম্যানেজার স্টলের মিষ্টির ক্রেতা। এসব পুরোনো ক্রেতার অনেকেই রাতে গরম-গরম রসগোল্লা খেতে স্টলে ভিড় করেন। আবার অনেকে ভোরবেলা প্রাতঃভ্রমণ শেষে মিষ্টি ও নিমকি কিংবা লুচি দিয়ে নাশতা সারেন। স্টলটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে।

কয়েক বছর আগে ম্যানেজার স্টলের ডেকোরেশনে আনা হয় পরিবর্তন। নতুন আসবাবের সঙ্গে দেয়ালে লাগানো হয় পোড়ামাটির টেরাকোটা। সেসব টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গাভি লালন-পালন, দুধ সংগ্রহ, দুধ নিয়ে আসা, মিষ্টি তৈরি, আপ্যায়ন ও অনুষ্ঠানাদির চিত্র। টেরাকোটার এ ফলক দেখলে মনে হবে, এটি মিষ্টি তৈরির ধারাবাহিক ইতিহাস।

ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টান্ন ভান্ডারে এ জেলার খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের আড্ডা ছিল একসময়। শোনা যায়, ম্যানেজার স্টলের সে আড্ডাতেই কোনো একসময় মিষ্টি খেতে আসতেন বাংলা সাহিত্যের রম্য গুরু সৈয়দ মুজতবা আলী।

পর্যটনের শহর মৌলভীবাজারে ভ্রমণপিপাসু ভোজনপ্রিয় পর্যটকেরা রসগোল্লার স্বাদ নিতে আসেন এ স্টলে। ফিরে যাওয়ার পথে সঙ্গে নিয়ে যান স্পঞ্জ রসগোল্লা। পরিবার নিয়ে বড়লেখার মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসা কিশোরগঞ্জের পর্যটক আলী হোসেন জানান, নামডাক শুনে তিনি ম্যানেজার স্টলে এসেছেন মিষ্টি খেতে। তিনি বলেন, ‘খেয়ে দেখলাম স্বাদ ভালো, এখন বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।’

দরদাম

প্রতি পিস স্পঞ্জ রসগোল্লা বিক্রি হয় ১২ টাকা করে। আর সাধারণ রসগোল্লা ও কালোজাম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ২২০ টাকায়।

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT