১০ দিনব্যাপী মণিপুরি লিপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ১০ দিনব্যাপী মণিপুরি লিপি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৬ টায় উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI)- এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে মণিপুরি ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা।
মণিপুরি ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইবুংহাল সিংহ শ্যামল এর সভাপতিত্বে ও শিক্ষিকা কনথৌজম শিল্পীর সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিাত ছিলেন মণিপুর পেট্টিয়টিক রাইটার্স ফোরাম এর সম্পাদক রাকেশ নওরেম, মীতেই ইরল ইয়েক লইনাশিলন অপুন্বা লুপ (MEELAL) এর নির্বাহী পরিচালক পাওনাম ইবোমচা, MEELAL এর প্রেসিডেন্ট নাওরেম নোঙমাইলেম্বি লেইমা, MEELAL এর শিক্ষা সচিব মাইবম ইন্দ্রজিত্ মীতেই, মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সের সভাপতি এল জয়ন্ত সিংহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষিকা অয়েকপম অঞ্জু।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মণিপুরি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার সিংহ, মণিপুরি কল্যাণ পরিষদের সম্পাদক ওইনাম পামহেইবা, প্রাক্তন প্রাথমিক শিক্ষিকা বৃন্দা রানী সিনহা, শিক্ষার্থী লমজিং লেইনা প্রমুখ। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ব্যতিক্রমী আয়োজন
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার প্রখ্যাত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ট্যুরিজম কমলগঞ্জ’র উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি নৃত্য, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ফলজ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
![]() |
র্যালী শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল নাঈম। এছাড়া অনুষ্ঠানে ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি প্রজিত কুমার দাশ, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. দুরুদ আহমদ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো: আবুল হোসেন, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, ট্যুরিজম কমলগঞ্জ’র এর আহবায়ক শাব্বির এলাহীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রিসোর্টের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
![]() |
আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ফলজ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ও অতিথিরা বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য কমলগঞ্জ একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। অঞ্চলটির পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
চা পাতা চুরির সময়ে বাঁধা দেওয়ায় হামলা; আহত-১
দেওছড়া চা বাগানে ক্ষুব্দ শ্রমিকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর এর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের টিলা থেকে কাঁচা পাতা চুরি করে নেওয়ার সময় বাঁধা দেয়ায় চোর চক্রের হামলায় চা বাগানের পাহারাদার আহত হন। আহত রামরাজ গৌড়কে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা চুর ও হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চা বাগানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন। সোমবার ভোর রাতে দেওছড়া চা বাগানে এঘটনা ঘটে।
![]() |
চা শ্রমিকরা জানান, দেওছড়া চা বাগানের বিভিন্ন সেকশনের টিলা থেকে পার্শ্ববর্তী বস্তির কতিপয় চোর চক্র অবৈধভাবে বাগানে প্রবেশ করে কাঁচা চা পাতা কেটে পাচার করে। ফলে চা বাগানের নারী শ্রমিকরা পাতি উত্তোলনের সময় টিলায় গিয়ে চা গাছে পাতি না পেয়ে ফিরে আসেন। এতে চা শিল্প ও শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সোমবার ভোরে পার্শ্ববর্তী বস্তির লোকমান মিয়া, তাহির মিয়া, সালমান মিয়াসহ কতিপয় চা পাতা চোর চক্র দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দেওছড়া বাগানে চা পাতা তুলে কয়েকটি বস্তা ভর্তি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাগানের পাহারাদার বাঁধা দেন। এসময়ে চোর দল হামলা করলে পাহারাদার রামরাজ গৌড় রাজু (৪৫) গুরুতর আহত হন। আহত রামরাজকে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এঘটনায় ক্ষুব্দ চা শ্রমিকরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে দেওছড়া চা বাগানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন। দেওছড়া কালিমন্দির সংলগ্ন মাঠে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাসের সভাপতিত্বে ও লছমি মাদ্রাজির পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক কামরুল জামান, ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া, মোহনলাল রবিদাস, নমিতা সিং, বাগান পঞ্চায়েত সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ন রবিদাস, লছমি রানী রবিদাস, দিলিপ নাইডু প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, চা পাতা চুর চক্র ও হামলাকারীর বিরুদ্ধে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে চা বাগান দিয়ে বস্তির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে হামলাকারী ও চোর চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় চা বাগান কর্তৃপক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর পরই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সততা স্টোরের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে দূর্নীতি দমন কমিশনের আয়োজনে ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও সততা স্টোরের শুভ উদ্বোধন করেন দুদক সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এরশাদ মিয়া।
![]() |
অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশিষ বিজয় দেব কানুনজ্ঞর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন, সুজা মেমোরিয়াল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আব্দুল হান্নান চিনু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রফি আহমেদ চৌধুরী, কমলগঞ্জ দুপ্রকের সহসভাপতি আহমদ সিরাজ, প্রতাপ চন্দ্র সিংহ, সাধারণ সম্পাদক আহমদ শোকরানা, অভয় চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাজ্জাদুর রহমান, কমলগঞ্জ দুপ্রক সদস্য আব্বাস আলী, লুৎফুর নাহার, সিদ্দেক আলী, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দূর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
বাঁশ কাটা নিয়ে ঝগড়ার শেষে
ডাকাতির মিথ্যা মামলা
এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বাদে সোনাপুর এলাকায় রাস্তার উপরে বাঁশ কাটা নিয়ে ঝগড়ার জেরে নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়ের করা ডাকাতি মামলার প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাদে সোনাপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
![]() |
প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রাস্তার উপরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামের ইজ্জাদুর রহমানের স্ত্রী মুন্নি আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের ঝগড়াঝাটির সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তাহার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার নিরীহ মানুষকে মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে ডাকাতির ঘটনা উল্লেখ করে মুন্নি আক্তার বাদি হয়ে গত ২৫ আগষ্ট মৌলভীবাজার আদালতে চারজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এলাকাবাসী এসব হয়রানিমুলক কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। গ্রামের ফারুক মিয়া ও রফিক মিয়া বলেন, মুন্নি আক্তার মিথ্যা ডাকাতির মামলা দায়েরের পর হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে বলে পরবর্তীতে নিরিহ মানুষদের আসামী করে সাত ধারায় আরো একটি মিথ্যা মামলা করেছেন।
মাওলানা বদরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন শামছুজ্জামান, ফারুক মিয়া, রফিক মিয়া, বাপ্পারাজ, পাবেল, পারভেজ, বক্কর মিয়া, আবু তাহের, মজমিল, রনি মিয়া, শাকিলসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সভায় বক্তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে নিরীহ এলাকাবাসী যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভয়ভীতির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে গ্রামের মুন্নি আক্তারের বাড়িতে গিয়েও তাহাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দীন বলেন, এধরনের কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই এবং আদালত থেকে মামলার তদন্তের কোন কপিও আসেনি।