প্রতিপক্ষকে দোষ দিতে গিয়ে নিজের শিশু কন্যাকে হত্যা,
আদালতে বাবার মৃত্যুদণ্ড।
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে হত্যা করে সেই দায় অন্যের ওপর চাপানোর অভিযোগে শরীফ আলী নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মৌলভীবাজারের দ্বিতীয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে।
ঘটনাটি ২০১৪ সালের। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুবিল গ্রামে জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল শরীফ আলীর। অভিযোগ, সেই বিরোধের জেরে নিজের সাড়ে তিন বছরের শিশুসন্তানকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে ঘটনাটি ভিন্নদিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সত্য ধীরে ধীরে সামনে আসে।
ঘটনার পর শরীফ আলীর স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত শরীফ আলীকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
নিজের সন্তানকে হত্যা করে নিরপরাধ প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর এমন ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আদালতের এই রায়কে অনেকে অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন।
নিজের স্বার্থ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা—এমন নির্মমতার কোনো অজুহাত হতে পারে না। আদালতের রায়ে সেই অপরাধের কঠোর পরিণতিই প্রতিফলিত হয়েছে।
কিশোরী ধর্ষণ। এক কিশোর ও ইউপি সদস্য আটক
মৌলভীবাজার জেলার পতনঊষার ইউনিয়নে এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোর ও এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে পতনঊষার ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা রেহেনা আক্তার বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বলরামপুর গ্রামের রাহুল ইসলাম রিপন (১৪) ও একই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল মুমিন (৪০)-কে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ২৬ দিন আগে কিশোরী ধর্ষনের শিকার হয়। অভিযোগে বলা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুমিন ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে আলামত নষ্ট করে। পরে গত ১৫ আগষ্ট রাতে কিশোরীর মা বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ইউপি সদস্যসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে আটক দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।