শিক্ষককতা থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই,
অতঃপর কবিতা থেকেও…
মৌলভীবাজারের কৃতি সন্তান অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবি শহীদ সাগ্নিক(প্রকৃত নাম: আব্দুস শহীদ সাগ্নিক) ২০২৪ সাল থেকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ২০২৫ সালে অস্ত্রোপচার হয়। এরপর থেকে নানা জটিলতা দেখা দেয়। প্রায় এক বছর যাবত শয্যাশায়ী।
| যে ক্ষুরধার লেখনী খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের কথা বলতো, কলম যাঁর শব্দে আলো ফোটাত, আজ সেই প্রিয় কবি শহীদ সাগ্নিক মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের বার্তা খুঁজছেন। আসুন, শব্দের অনুরাগে মন ও মায়ার ব্যাকুলতায় তাঁর পাশে দাঁড়াই, যেন আমাদের সহমর্মিতা ও ভালোবাসার স্পর্শে তিনি ফিরিয়ে পান জীবনের রূপ-রস-সুর। “সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”
|
![]() যৌবনে শহীদ সাগ্নিক। |
কবিতা লিখতেন, একাধিক বই প্রকাশিত। স্থানীয় জনহিতকর কাজে যেমন সক্রিয় ছিলেন তেমনি জোড়ালো ভূমিকা রাখেন। সামাজিক সকল ক্ষেত্রেই ছিল উনার সরব ও সক্রিয় পদচারণা।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নিজের সম্পদ বিক্রি করে দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠান। কিন্তু বিধির বাম। করোনার প্রভাবে তারা কাজ পাননি ও ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরিবারের সঞ্চয়ও শেষ। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা‑নিরীক্ষা ও ঔষধ কেনা এখন ক্রমশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জীবনভর অন্যদের শিক্ষা দিয়ে ও সমাজের সেবা করে যাওয়া এই মানুষটি আজ নিজের চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। ইতোমধ্যে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রিয় এই মানুষটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উনার সার্বিক চিকিৎসাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে উনার পাশে দাঁড়ানো এখন খুবই জরুরি।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ১২ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, কবি ও সমাজসেবক।
১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে শমসেরনগর রামচিজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু। পরে বিভিন্ন স্কুলে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে গুঞ্জরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’র জেলা আহবায়কের দ্বায়িত্ব পালন করেন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে কাজ করেন।
১৯৬৫‑এ মৌলানা ভাসানীর সংস্পর্শে প্রগতিশীল চিন্তা ও রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। জীবনের ভাঙ্গা গড়ার খেলায় তিনি আজ পরিশ্রান্ত। যতটুকু তথ্য পেয়েছি মনে হয়েছে তিনি বড়ই অসহায়ত্ব বোধ করছেন।
তিনি আমাদেরই একজন সম্মানিত শিক্ষক এবং মৌলভীবাজার জেলার একজন স্বনামধন্য কবি ও লেখক। জীবনযুদ্ধে কেউ হেরে যান, কেউ আজীবন যুদ্ধ করে অপরাজিত থাকেন। আমাদের সম্মানিত শিক্ষক জানাচ্ছেন, তিনি এখন অনেকটাই পরাজিত। তাই তাঁর প্রয়োজন আমাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পাশে দাঁড়ানো।
আবেদন, উনার ছাত্র‑ছাত্রী, সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষক সমাজ ও যারা অন্যের দুঃখ‑কষ্টে ব্যথিত হন সকলকে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়ানোর সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। আসুন, আমরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়াই এবং তাঁর সঠিক চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করে দেই।