| সমস্যার পাহাড় এতই উঁচু যে
কুঁড়ে দেখার দিক ঠিক করাই সমস্যা…! |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও দেশ এখন বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন। সমস্যার এই পাহাড়কে মূলত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা(মুদ্রাস্ফীতি, ডলার সংকট), অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন—সব মিলিয়ে যে “পথের দিশা”র কথা চিন্তা করছি, তা খুঁজে পাওয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। কোন বিষয়কে প্রধান ধরে নিয়ে লিখা শুরু করবো কিংবা কি লিখলে নতুন সরকার এবং সাধারণ মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হতে পারে, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণমূলক কিছুর মধ্যে ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা, ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উগ্রবাদ’, ‘বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব (Geopolitics)’ ‘সার্বভৌমত্ব বনাম সহাযোগীতা, আর ‘নতুন সরকারের জন্য একটি আপেক্ষিক দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি: ১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা অর্থনীতি যখন নড়বড়ে হয়, তখন বাকি সব সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ। সাম্প্রতিক তথ্য ও পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই খাতের অব্যবস্থাপনার প্রধান দিকগুলো হলো: সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব: মূলধন ঘাটতি: তারল্য সংকট: ঋণ বিতরণে অনিয়ম: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি: সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভুয়া লেনদেনের মতো বিষয়গুলো ব্যাংকিং খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য ট্রেন্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনেল বাংলাদেশ-এর।Transparency International Bangladesh – TIB। এই অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকিং খাতে জনআস্থা কমছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়ছে। ১. জামাত ই ইসলাম জামায়াতে ইসলামী এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান, তা বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গোলাম আযম ১৯৭৮ সালের ১১ অগাস্ট (মতান্তরে ১৫ আগস্ট) পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন [অন্তর্জাল]। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করেন এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি নাগরিকত্ব ফিরে পান। যে দেশ তারা চায়নি সে দেশেই সেই জামাত ই ইসলাম এখন সংসদে বিরুধী দল(!) • ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণ: • গণতান্ত্রিক ভারসাম্য: প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কিত অতীত বা নেতিবাচক ভাবমূর্তি থাকা কোনো শক্তি যদি সামনে আসে, তবে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সুস্থ রাজনীতির চর্চা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল অপরিহার্য, কারণ তারা সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।Quora +2 এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ রাজনীতির চর্চা সম্ভব করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ: আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান: জনসচেতনতা ও নাগরিক সমাজ: ঐকমত্য ও সুশাসন: গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়বদ্ধতা: মূলত, একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন জনমত বিতর্কিত শক্তিকেও গণতান্ত্রিক ধারায় কাজ করতে বাধ্য করতে পারে। গণতান্ত্রিক ভারসাম্য তখনই টিকে থাকে যখন সব দল নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে চলে। ১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা(Geopolitics) • সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা: বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমেরিকা, চীন ও ভারতের মতো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশের জন্য “সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা” বজায় রাখা বড় একটি কঠিণ কাজ। ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন।[আগামী সপ্তাহে শেষ হবে] |