1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
দিশেহারা কমলগঞ্জ... - মুক্তকথা
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

দিশেহারা কমলগঞ্জ…

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ
  • প্রকাশকাল : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৩ পড়া হয়েছে

গাছ ভেঙ্গে রেল ও সড়কপথ সাময়িক বন্ধ;

নিম্নাঞ্চলে বন্যায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি;

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ।

আবারো কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত

গাছ ভেঙ্গে রেল ও সড়কপথ সাময়িক বন্ধ; নিম্নাঞ্চলে বন্যায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি; এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
কমলগঞ্জে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোমবার দিবাগত রাতে ফের কালবৈশাখি ঝড়ে বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ও সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মুন্সিবাজারে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যায় অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি এবং ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহদ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছগাছালি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার মুন্সিবাজার এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্ধকারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গাছ ভেঙ্গে পড়ায় সোমবার ভোর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ বন্ধ হয়ে পড়ে।

শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিটের পাশে রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজারো যাত্রীরা। এরআগে গত রোববারের কালবৈশাখি ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত, বিদ্যুৎ লাইন ও ব্যাপক গাছগাছালি ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতে ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে মুন্সিবাজার ও পতনঊষারের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ধলাই, লাঘাটা নদীসহ পাহাড়ি ছড়া সমুহে পানি বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রজত কুমার বলেন, ঝড়ে শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট এলাকায় রেলপথে গাছ ভেঙ্গে পড়ে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন লংলা স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে।

মুন্সীবাজার কালিপ্রসাদ উচচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র কুমার পাল বলেন, ঝড়ের কারনে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মঙ্গলবার এই কেন্দ্রে সরবরাহ ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধা দেখা দেয়।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদ সীমার দেড়ফুট নিচে রয়েছে। নদনদীর পানি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হয়েছে।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড় ও বৃষ্টিপাতে নি¤œাঞ্চলে কেওলার হাওরে কিছু বোরোধান নিমজ্জিত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতি ও গাছগাছালি ভেঙ্গে সড়কপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে সংস্কার করে যোগাযোগ ব্যব¯’া স্বাভাবিক করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রæত পানি নেমে যাবে।


 

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হয়েছে বোরোধান;

কৃষকরা হতাশ


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় গত দু’দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নি¤œাঞ্চলের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে। পতনঊষার ইউনিয়নের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকায় ফসল ও সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে গতকাল রাত থেকে দ্রæত কেওলার হাওরে প্রায় ৫শ’ হেক্টর বোরোধান ডুবে গেছে। এছাড়া মুন্সিবাজার, শমশেরনগর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চলেও বোরোধান এবং সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও ঢলে বোরো ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে ৭০ হেক্টর ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে ৩৫০ হেক্টর। সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হওয়ার সর্বশেষ তথ্য এখনও আসেনি।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই অঞ্চলে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


কমলগঞ্জের কেওলার হাওরের কৃষক আনোয়ার খান বলেন, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে অনেক এলাকায় আগাম বন্যা হয়েছে। এতে পতনঊষারের কেওলার হাওরের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধা পাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পারায় অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোরো ধানের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার সবজি ক্ষেতও নিমজ্জিত হচ্ছে। ঢলের পানি দীর্ঘ সময় নিমজ্জিত থাকলে কৃষকরা পুরোদমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ধান কাটার সময় হাওরের সকল ধান ডুবে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বোরোধান ৭০ হেক্টর ও আংশিক ৩৫০ হেক্টর নিমজ্জিত হয়েছে। তাছাড়া সবজি ক্ষেতের বিষয়ে এখনও তথ্য আসেনি। পানি দ্রæত নেমে গেলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা নয় বলে তিনি জানান।

কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুত ব্যবস্থা লন্ডভন্ড।
১৭ টি খুঁটি, অর্ধশতাধিত বাড়িঘর আংশিক বিধ্বস্ত
শতাধিক গাছ পালা ভেঙ্গে পড়েছে


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলান উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুত ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার পর টানা ১৫ ঘন্টা বিদ্যুতহীন ছিল কমলগঞ্জ। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে পল্লী বিদ্যুত কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ১৫০টি স্থানে বিদ্যুত লাইন ছিড়ে গেছে এবং ১৭ টি খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। ঝড়ে পৌরসভা, আলীনগর, শমসেরনগর,মুন্সীবাজার, পতনঊষার, আদমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আংশিক বিধ্বস হয়েছে শতাধিক ঘর।গত রোববার সন্ধ্যায় কাল বৈশাখীঝড় বয়ে যায়। শেষ খবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ।

জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যার শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জের পৌরসভা, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, আলীনগর, পতনউষারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তান্ডব চলে। ঝড়ে পৌরসভার কলেজ রোডের কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে বিশাল আকৃতির একটি চামগাছ  উপড়ে পড়লে ১১ কেভি বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনে গাছ পড়লে তার ছিড়ে যায়। একই সাথে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। গাছটি অফিসের সামনে থাকা ৩টি মোটরসাইকেল এবং অফিসের কাজে ব্যবহৃত গুরুত্ব¡পূর্ণ মালামালের ওপর পড়লে সেগুলো দুমড়ে মুচড়ে যায়। সোমবার দুপুর ২টায় গাছটি কেটে অপসারণ করা হয়। তবে বিদ্যুত লাইন চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে শমসেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও আলীনগরসহ আশপাশের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আদমপুর, ইসলামপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। কমলগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ১৭ টি বৈদ্যুতিক খঁটি ভেঙ্গে পড়েছে এবং প্রায় ১৫০টি স্থানে তার ছিড়ে পড়েছে এবং ৬০টি মিটার নষ্ট হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, বিদ্যুত না থাকায় চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক খোজ নিয়ে এ পর্যন্ত আংশিক ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুত সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জের গ্রামে বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে তার ও খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে লাইনের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ সময় লাগতে পারে। টানা বৃষ্টি ও বিদ্যুতৎহীনতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক।

পল্লী বিদ্যুত সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার অভিযোগ কেন্দ্রে বিশালগাছ সহ বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করে বিদ্যুত লাইন চালু করার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT