1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
বাংলাদেশ - সমস্যা ও সমাধান-২ - মুক্তকথা
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ – সমস্যা ও সমাধান-২

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১২ পড়া হয়েছে
সমস্যার পাহাড় এতই উঁচু যে


কুঁড়ে দেখার দিক ঠিক করাই সমস্যা…!

একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেলেও দেশ এখন বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন। সমস্যার এই পাহাড়কে মূলত চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করে দেখা যেতে পারে

বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা(মুদ্রাস্ফীতি, ডলার সংকট), অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন—সব মিলিয়ে যে “পথের দিশা”র কথা চিন্তা করছি, তা খুঁজে পাওয়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

কোন বিষয়কে প্রধান ধরে নিয়ে লিখা শুরু করবো কিংবা কি লিখলে নতুন সরকার এবং সাধারণ মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হতে পারে, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষণমূলক কিছুর মধ্যে ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা, ‘রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উগ্রবাদ’, ‘বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব (Geopolitics)’ ‘সার্বভৌমত্ব বনাম সহাযোগীতা, আর ‘নতুন সরকারের জন্য একটি আপেক্ষিক দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি:

১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা

অর্থনীতি যখন নড়বড়ে হয়, তখন বাকি সব সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
• প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: জুলাই সনদ কিংবা অন্য যে কোন নামেই হোক ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় দৃঢ়স্বচ্ছতা আনোয়ন জরুরী শুধু নয় একান্তভাবেই জরুরী। ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা এবং অর্থ পাচারের মতো বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলেই মনেকরি।

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ। সাম্প্রতিক তথ্য ও পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই খাতের অব্যবস্থাপনার প্রধান দিকগুলো হলো:
খেলাপি ঋণের চরম আধিক্য: ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ (Non-Performing Loans – NPL)। ঋণের সঠিক তদারকি না থাকা এবং ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার পর সকল সরকারের সময়েই ব্যাংক নিয়ে এরূপ দূর্ণীতি হয়েছে।

সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব:
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং পরিচালকদের নিজস্ব স্বার্থে ব্যাংক ব্যবহারের প্রবণতা সুশাসনের অভাব তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালক ও বড় ঋণগ্রহীতারা একই ব্যক্তি হওয়ায় ঋণের অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটছে।

মূলধন ঘাটতি:
খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ও কিছু বেসরকারি ব্যাংকে তীব্র মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংকসহ ১০টির বেশি ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরণের প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে।

তারল্য সংকট:
বিশেষ করে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোসহ কয়েকটি ব্যাংকে তীব্র তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে, যা গ্রাহকদের আমানত উত্তোলনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

ঋণ বিতরণে অনিয়ম:
সঠিক যাচাই-বাছাই না করে, ভুয়া নথি বা প্রভাব খাটিয়ে বড় অংকের ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আদায়যোগ্য হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি:
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতার দুর্বলতা এবং নীতি নির্ধারণে রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক সময় অনিয়মকারী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভুয়া লেনদেনের মতো বিষয়গুলো ব্যাংকিং খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য ট্রেন্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনেল বাংলাদেশ-এর।Transparency International Bangladesh – TIB।

এই অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকিং খাতে জনআস্থা কমছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়ছে।
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা: সামষ্টিক অর্থনীতির কঠিন তাত্ত্বিক মারপ্যাঁচের চেয়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে যে নাভিশ্বাস উঠছে, তা নীতি-নির্ধারকদের কানে পৌঁছানো জরুরি।
২০২২সালে আওয়ামীলীগের সময়ে তাদেরই একজন মন্ত্রী বলেছিলেন- ‘গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ।

১. জামাত ই ইসলাম

জামায়াতে ইসলামী এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান, তা বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। গোলাম আযম ১৯৭৮ সালের ১১ অগাস্ট (মতান্তরে ১৫ আগস্ট) পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন [অন্তর্জাল]। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করেন এবং ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি নাগরিকত্ব ফিরে পান। যে দেশ তারা চায়নি সে দেশেই সেই জামাত ই ইসলাম এখন সংসদে বিরুধী দল(!)

ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণ:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল—গণতন্ত্র, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা, মানবিক মর্যাদা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতক পরে, বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই চেতনার সাথে রাষ্ট্র ও সমাজের বাস্তব চিত্রের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

গণতান্ত্রিক ভারসাম্য:
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে যখন এমন কোনো শক্তি আসে যাদের অতীত বিতর্কিত, তখন সেখানে সুস্থ রাজনীতির চর্চা কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিতর্কিত অতীত বা নেতিবাচক ভাবমূর্তি থাকা কোনো শক্তি যদি সামনে আসে, তবে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সুস্থ রাজনীতির চর্চা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল অপরিহার্য, কারণ তারা সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।Quora +2

এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ রাজনীতির চর্চা সম্ভব করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ:
কার্যকর সংসদীয় চর্চা ও তদারকি: বিরোধী দল বিতর্কিত হলেও, সংসদীয় ব্যবস্থায় তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা। সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে তারা সরকারের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।

আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান:
বিতর্কিত দলের ক্ষেত্রে আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।

জনসচেতনতা ও নাগরিক সমাজ:
গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজকে (civil society) সক্রিয় থাকতে হবে। বিতর্কিত অতীত বা অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা সুস্থ রাজনীতির ধারায় ফেরানোর একটি বড় উপায়।

ঐকমত্য ও সুশাসন:
বিরোধী দল চাইলেও যেন স্বেচ্ছাচারিতা করতে না পারে, সেজন্য সাংবিধানিক সংস্কার এবং সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়বদ্ধতা:
বিরোধী দল যদি শুধু ধ্বংসাত্মক বা সহিংস রাজনীতি না করে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তবে সুস্থ রাজনীতি চর্চা সম্ভব। Facebook +4

মূলত, একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সচেতন জনমত বিতর্কিত শক্তিকেও গণতান্ত্রিক ধারায় কাজ করতে বাধ্য করতে পারে। গণতান্ত্রিক ভারসাম্য তখনই টিকে থাকে যখন সব দল নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথে চলে।

১. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা(Geopolitics)

সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা:
বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ নিতে গিয়ে দেশ যেন কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের আজ্ঞাবহ না হয়ে পড়ে।

বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমেরিকা, চীন ও ভারতের মতো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝে বাংলাদেশের জন্য “সার্বভৌমত্ব বনাম সহযোগিতা” বজায় রাখা বড় একটি কঠিণ কাজ। ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন ও প্রজ্ঞার প্রয়োজন।[আগামী সপ্তাহে শেষ হবে]

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT