1. muktokotha@gmail.com : Harunur Rashid : Harunur Rashid
  2. isaque@hotmail.co.uk : Harun :
  3. harunurrashid@hotmail.com : Muktokotha :
আওয়ামী লীগের এখন করনীয়… - মুক্তকথা
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন

আওয়ামী লীগের এখন করনীয়…

মুক্তকথা প্রতিবেদক।
  • প্রকাশকাল : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ পড়া হয়েছে

 

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে “আওয়ামীলীগের এখন করণীয় প্রশ্নটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, জটিল এবং একই সাথে নাগরিক দায়িত্বের জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগের কাছে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার জমিটা অনেক বড়! আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে শুধুই একটি রাজনৈতিক দল নয় একটি দেশ গঠনকারী প্রকৃত দেশপ্রেমিক দল। একটি সফল স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল। দেশ গঠনের জন্য উপনিবেশবাদীদের শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। ৯মাস ব্যাপী একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিচালনা একটি বিশাল ও সাহসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এ বিশ্বের আধুনিক ইতিহাসে হাতেগোনা কয়েকটিমাত্র দেশে এমন সফল সশস্ত্র যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার ইতিহাসের ঘটনা আমরা জানি। আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ সেসবের একটি।

একটি রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো যখন নিষিদ্ধ হয় এবং তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জনরোষ ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়, তখন দেশের একজন সচেতন নাগরিক, লেখক বা বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমাদের ভূমিকা ও পরামর্শ কী হওয়া উচিত, তা গভীরভাবে ভাবার অবকাশ রাখে।

একজন দায়িত্বশীল নাগরিকের দৃষ্টিকোণ থেকে এ প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আমাদের অবস্থান, পরামর্শ ও দায়িত্বকে কয়েকটি মূল বিন্দুতে ভাগ করা যেতে পারে:

১. নিষিদ্ধ দল ও সংগঠনের প্রতি পরামর্শ: ‘আত্মোপলব্ধি ও দায় স্বীকার’
যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির টিকে থাকা বা পুনরুত্থানের প্রথম শর্ত হলো জনগণের মনস্তত্ত্ব বোঝা। এই দলগুলোর প্রতি পরামর্শ হওয়া উচিত:
ছোট হোক বা বড় হোক অতীতের ভুল ও সহিংসতার দায় স্বীকার: ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং ছাত্র-জনতার ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে (সে যে-ই চালায় না কেনো দায়ীত্ব নিতে হবে সরকারকেই), তার জন্য দলগতভাবে নিঃশর্ত ও আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। দায় অস্বীকার বা উদাসীনতা জনগণের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

নেতিবাচক ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জন: নিষিদ্ধ হওয়ার পর আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা না করে, নিজেদের ভুলগুলো নিয়ে আত্মোপলব্ধি (Self-reflection) করা প্রয়োজন এবং সংশোধনের দিকে হাটা দায়ীত্ব ও প্রয়োজনও বটে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা: দলের যেসকল নেতাকর্মী সুনির্দিষ্ট অপরাধ, খুন বা দুর্নীতির সাথে জড়িত, তাদের উচিত পালিয়ে না থেকে আইনের মুখোমুখি হওয়া। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল অপরাধের বিচার হওয়া সম্ভব।

২. সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব: ‘উগ্রতার বিপরীতে আইনের শাসন’
একটি পক্ষ নিষিদ্ধ বা অপসারিত হওয়ার পর সমাজে এক ধরণের রাজনৈতিক শূন্যতা বা প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এ সময়ে নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো:-
প্রতিহিংসা নয়, আইনি বিচার নিশ্চিতের দাবি: আমাদের দায়িত্ব হলো কোনো ধরণের ‘মব জাস্টিস’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে সমর্থন না করা। অপরাধীদের বিচার যেন সুনির্দিষ্ট আইন ও মানবাধিকার রক্ষা করে আদালতের মাধ্যমে হয়, সেই দাবি তোলা। কারণ প্রতিহিংসা কখনো স্থায়ী শান্তি আনে না।

তৃণমূলের নিরীহ কর্মীদের ঢালাও হয়রানি বন্ধের পক্ষে বলা: নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের অপরাধের জন্য যেন মাঠপর্যায়ের বা এলাকার কোনো নিরীহ সমর্থক বা সাধারণ কর্মী ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে উগ্রতার শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। রাজনৈতিক বিরোধ যেন সামাজিক সহিংসতায় রূপ না নেয়।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সুস্থ রাজনীতির চর্চা: একটি দল নিষিদ্ধ হওয়ার মানে এই নয় যে সমাজে একদলীয় বা কর্তৃত্ববাদী চিন্তার অবসান ঘটেছে। আমাদের দায়িত্ব হবে এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কথা বলা, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো দল ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে।

পরিশেষে, এখানে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়া প্রয়োজনীয় যে, কোনো রাজনৈতিক শক্তির ভুলগুলো যেমন কঠোরভাবে তুলে ধরা দরকার, ঠিক তেমনি তাদের অনুসারীদের কীভাবে উগ্রতার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ সমাজ গঠনে সম্পৃক্ত করা যায় (De-radicalization), সে পথ খোঁজার দায়িত্বও সমাজ ও রাষ্ট্রের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় সংবাদ

তারকা বিনোদন ২ গীতাঞ্জলী মিশ্র

বাংলা দেশের পাখী

বাংগালী জীবন ও মূল ধারার সংস্কৃতি

আসছে কিছু দেখতে থাকুন

© All rights reserved © 2021 muktokotha
Customized BY KINE IT